Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:১৬
সে ক্যান দুঃখ দিয়ে আমারে পোড়ায়!
টোকন ঠাকুর
সে ক্যান দুঃখ দিয়ে আমারে পোড়ায়!

শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী আমার শিক্ষক ছিলেন। চারুকলায় পড়েছি বলে দেশের প্রায় সব খ্যাতিমান শিল্পীই আমার শিক্ষক, এ আমার সৌভাগ্য। কাইয়ুম স্যার মারা গেলেন বছর দুই আগের এক শীতে, ঢাকা সেনানিবাস স্টেডিয়ামে, বেঙ্গল মিউজিক ফেস্টিভালের মঞ্চে। মিউজিক নিয়ে কথা বলতে বলতেই তিনি ঢলে পড়লেন মঞ্চে। কাইয়ুম চৌধুরী চিত্রশিল্পী। শিল্পীর এমন বর্ণাঢ্য প্রস্থান আগে দেখিনি আমি। কাইয়ুম স্যারের বন্ধু হক ভাই। সৈয়দ শামসুল হক। বাংলা ভাষার সব্যসাচী লেখক। কয়েকদিন পর হক ভাইয়ের সঙ্গে আমার আড্ডা। বললেন, ‘কাইয়ুমের চলে যাবার খবর ফোনে দেওয়া হয়েছে আমাকে, ঢাকা থেকে।’

বললাম, ‘ছিলেন কোথায়?’

‘ত্রিপুরায়। একটা অনুষ্ঠানে ছিলাম। তোমার ভাবি আর আমি ত্রিপুরাতে গেলাম। এক অনুষ্ঠানে ছিলাম, আমাকে ফোন ধরিয়ে দিয়ে বলল, ঢাকা থেকে। কাইয়ুমের চলে যাওয়াটা কষ্ট দিচ্ছিল।’

‘অন্য বন্ধুদের সঙ্গে কি ঠিকঠাক যোগাযোগ আছে আপনার?’ আমার এ প্রশ্নটা ছিল এমনিই, এখানে লিখব এমন কোনো ধারণা ছিল না। হক ভাইয়ের সঙ্গে আমার ক্যাজুয়ালি আড্ডার একটা সম্পর্ক কীভাবে যে হয়ে গেল, সেটাও জানিনে। এমন কি কিছুদিন বাসায় যাওয়া না হলেই হয়তো একদিন ফোন করে লেখক-ডাক্তার এবং হকের স্ত্রী, যাকে আমি আনোয়ারা আপা বলেও ডাকি, ভাবিও বলি, তিনি বলেন, ‘বাবু শোনো, তোমার হক ভাইয়ের শরীরটা দুদিন ভালো যাচ্ছে না। তুমি কি একটু আসবে?’

গিয়ে দেখি, হক ভাই হয়তো দোতলা দিয়ে নিচের ড্রইংরুমে আসছেন, আমি বসে আছি, হক ভাই হালকা কাশি দিচ্ছেন। কিন্তু কাশি তাকে কাবু করতে পারার কথা নয়। আমাদের আড্ডা শুরু হয়ে যায়। কত না কথা হয়। ধীরে ধীরে কবিতা ঢুকে পড়ে কথার মধ্যে। ছোটগল্প ঢুকে পড়ে। সিনেমা ঢুকে পড়ে। ইতিহাস ঢুকে পড়ে। ১৯৪৯ সালের ছিমছাম শহর ঢাকা ঢুকে পড়ে হকের কথার মধ্যে। কথার মধ্যে ঢুকে পড়ে বাল্যবেলা, কুড়িগ্রাম, তেতাল্লিশের মন্বন্তর, মানুষের কঙ্কালসার লাশ ঢুকে পড়ে আলাপের মধ্যে। দেশভাগ পরিসর বাড়িয়ে দিয়ে যায় আলোচনার। আলাপের মধ্যে অটোমেটিক প্রবেশ করেন হক যাদের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন—কবি জসীমউদ্দীন, জয়নুল আবেদিন, পটুয়া কামরুল হাসান বা হকের বন্ধু চলচ্চিত্র নির্মাতা জহির রায়হান, আলমগীর কবীর। তিনি তার প্রয়াত কবি বন্ধু লেখক-সম্পাদক হাসান হাফিজুর রহমান, কবি শামসুর রাহমানের কথা বলেন। কবিবন্ধু আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর কথা বলেন। আর বলেন, ফোনে শহীদ কাদরীর সঙ্গে কথা হয় মাঝেমধ্যে। শহীদ কাদরী তখনো আমেরিকায় থাকতেন এবং প্রয়াত হলেন গত মাসেই। হক ছিলেন লন্ডনে, কর্কট দূরীকরণ চিকিৎসায়। ঢাকায় আমরা ছিলাম উৎকণ্ঠায়। লক্ষ পাঠক তার। দুশ্চিন্তা বেশি পাঠকের। দুশ্চিন্তা কম নয় স্বজনের। কবির স্বজন! আসলে কবির স্বজন কারা? তার পরিবার-পারিপার্শ্বিক মানুষ, নাকি কবিকে বা লেখককে যারা পাঠ করে তাকে চিনে নিয়েছেন, তারা?

গত মাসে, দীর্ঘ প্রবাস জীবনের ইতি ঘটিয়ে শহীদ কাদরী আমেরিকায় প্রয়াত হলেন এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় কবির শবদেহ ঢাকায় পৌঁছল, আগে থেকেই টিকিট-শিডিউল থাকায় সেদিন আমি কলকাতায় গেছি। মনটা ব্যাকুল ছিল শহীদ কাদরীর জন্য, যে কবিকে আমাদের প্রজন্ম ঢাকায় দেখেনি কখনো। কারণ, তিন দশকেরও অধিক সময় শহীদ কাদরী প্রবাসে থেকেই মারা গেলেন। কাদরী ছিলেন সৈয়দ হকের আরেক বন্ধু, সেই পঞ্চাশ-ষাটের দশক থেকে, যৌবনের সূচনাকাল থেকেই, সেই ‘বিউটি বোর্ডিং’-এর দিনগুলো থেকেই। আর কানাডা থেকে মাঝেমধ্যে ফোন করেন বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, হকের আরেক বন্ধু। প্রশ্ন করি, ‘আমি কি আপনার বন্ধু?’

‘বন্ধু তো বটেই। নইলে আড্ডা হয় নাকি?’

হকের বাড়ি ‘মঞ্জুবাড়ি’। গুলশান ১ এর ৬ নম্ব্বর রোডের ৮ নম্ব্বর বাড়িটা। বিশাল জায়গা নিয়ে বাড়ি। এ দেশে কোনো কবির এইরকম রাজকীয় বসবাস আর দেখিনি। রাজা তিনি, রবীন্দ্রনাথ তিনি। আবার তিনিই হচ্ছেন বাউল। হকের দাদার ফকিরি জীবনই কি হককে সাহিত্যের বেদনা-সমগ্র প্রকাশে ঠেলে দিয়েছিল? সে প্রশ্ন করা হয়নি আমার। বুঝিনি তো, তিনি এভাবে হঠাৎ চিরদিনের মতো চলে যাবেন?

তো কলকাতায় রবীন্দ্র সদনে চলছিল ১০ দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ বইমেলা’। মঞ্চ করা হয়েছে বইয়ের স্টলগুলোর পাশে। মঞ্চের সামনে শ’দেড়েক দর্শক। দূর থেকে দেখলাম, কলকাতা বইমেলার অনুষ্ঠান মঞ্চে বসে আছেন কবি বীথি চট্টোপাধ্যায়, রবিউল হুসাইন, তারিক সুজাত এবং আরও দুইজন আমার অচেনা মানুষ। তারাও হয়তো কবি, পশ্চিমবঙ্গের হতে পারেন। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছে আমাদের পিয়াস মজিদ। কিন্তু মঞ্চে ছিলেন এমন একজন তরুণ কবি, যার সঙ্গে আমার ঢাকায় কখনো সামনা-সামনি দেখা হয়নি। কিন্তু ফেসবুকের কল্যাণে আমরা বন্ধু, পরস্পরের লেখা পড়ি, স্ট্যাটাস পড়ি। ফটো দেখি। সেই ফটো দেখার অভিজ্ঞতা থেকেই অনেকটা দূর থেকে আমি দেখলাম, কবি মাহবুবুল হক শাকিল। তিনিও আমাকে দেখে চিনলেন এবং আমাদের মধ্যে দূর থেকেই ইশারার ভাষায় ভাব বিনিময় হলো। এরপর তিনি পিয়াসকে কাছে ডেকে কী যেন বললেন এবং পিয়াস ফের ডায়াসের সামনে দাঁড়িয়ে মাইকে আমার নাম ধরে দুইবার ডাকল। আমি একটি ছোট্ট কবিতা পড়েছি, ওটাই একমাত্র কবিতা আমার, যেটা মুখস্থ থাকে।

হক ভাই রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাকেন্দ্রের লোক। আমার এও জানা আছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে থাকাকালীন চিকিৎসাধীন কবি সৈয়দ শামসুল হককে সময় দিয়েছেন শুশ্রূষার মায়ায়, ভালোবাসায়। তাই, সেই মুহূর্তে কবি মাহবুবুল হক শাকিল, কবিদের নিজস্ব বংশে তিনি আমার ভাই। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের লোক মাহবুবুল হক শাকিল বলেন, ‘কেমো দেওয়া হয়েছে। সব কিছুই এখন পর্যন্ত ঠিকঠাক চলছে।’

‘ঠিকাছে। কলকাতায় আপনার সঙ্গে প্রথম দেখা হলো। ঢাকায় গিয়ে একদিন আয়েশ করে আড্ডা দিতে চাই।’

সৈয়দ হকের প্রসঙ্গে আমি একটু অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর কথাও বলব। আমি তো আর দশজনের মতোই জানি, কবীর চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের স্বনামী অধ্যাপক। প্রচুর বিদেশি লিটারেচার অনুবাদ করেছেন। সরকার তাকে সম্মানসূচক পদ জাতীয় অধ্যাপকও করেছেন। এবং ২০১১ কী ১২ সালে ঢাকা ক্লাবের মধ্যের খোলা মাঠে রবীন্দ্র-সার্ধশত পালনের অংশ হিসেবে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে ১৫১ জন লেখকের একটি করে অর্থাৎ ১৫১টি রবীন্দ্র বিষয়ে নতুন গ্রন্থ প্রকাশনার এক মহাআয়োজন। সেই ১৫১ জনকে নিয়েই আয়োজন। এই মহাপরিকল্পনার সমন্বয়ক কবি-অনুবাদক মনজুরে মওলা। আমাদের প্রিয় মওলা ভাই। কবিবংশের জাতক। তো সেই অনুষ্ঠানে হক তো থাকবেনই। রবীন্দ্রনাথ বলে কথা। তা ছাড়া মওলা ভাই-হক ভাই সমবয়সী এবং তাদের বন্ধুত্বও ছয়দশকের বেশি কালজুড়ে। গাড়ি থেকে নামলেন কবীর চৌধুরী। নব্বয়ের কাছাকাছি তিনি। একা হাঁটতে পারছিলেন না, তাকে ধরতে ছুটে গেলেন ৭৮/৭৯-এর দুই তরুণ। একজন হক, অন্যজন মওলা ভাই। কবীর চৌধুরীকে একটি টেবিলের পাশের চেয়ারে বসানো হলো। হক উঠে এলেন, আমি যে টেবিলে বসেছিলাম, সেখানে। আমার কাছেই চলে এলেন। বললেন, এসো।’ আমি উঠলাম। সৈয়দ হক আমাকে নিয়ে গেলেন অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর কাছে। বললেন, ‘কবীর ভাই, এই যে টোকন, টোকন ঠাকুর।’

‘তাই?’ কবীর চৌধুরী বিগলিত শিশুর মতো প্রায় দাঁত না থাকা গাল খুলে হাসলেন, ‘ধন্যবাদ সৈয়দ। তুমি ওকে কোথায়  পেলে?’ কবীর চৌধুরী যে হক ভাইকে  সৈয়দ বলে ডাকেন, এটা আর জানা ছিল না। আমাকে কবীর চৌধুরী বসতে বললেন। আমি একটি চেয়ারে বসলাম। হক ভাই অন্যদিকে গেলেন। কবীর চৌধুরী আমাকে কী বলবেন, সেটা আমি জানি না। আমিই বললাম, ‘স্যার, কেমন আছেন?’

অধ্যাপক কবীর চৌধুরী স্বখেদে বললেন, ‘এই বয়েসে আর থাকা। আমি আসলে পত্রিকায় তোমার কবিতা পড়ি অনেকদিন ধরেই। ভালো লাগে। একদিন কথায় কথায় সৈয়দকে বললাম, এই টোকন ঠাকুরকে তুমি চেনো সৈয়দ? এর কবিতা আমার ভাল্লাগে। সৈয়দ বলল, চিনব না কেন? টোকনের কবিতা আমিও পছন্দ করি। আমরা আড্ডা দিতে থাকি। ভালেই হলো। আজ ও তোমাকে হাতে নাতে সপে দিয়ে গেল।’

আমার কিছু বলার থাকার কথাও নয়, নেই। কিছুক্ষণ কথা হলো স্যারের সঙ্গে। বললাম, আপনার অনেক অনুবাদের পাঠক আমি। ইন্টারের লাইফ থেকেই। আমার কবিতা নিয়ে কবীর চৌধুরী আমাকেই বলছেন, ব্যাপারটা কেমন অস্বস্তির না? আমি একটু পরে স্যারকে বলে উঠেই গেলাম। স্যার মারা গেলেন কিছুদিন পরেই। মনে অনুশোচনা এলো, ওই দিন আরেকটু সময় কেন কবীর চৌধুরীর পাশে, তার ছায়ায় থাকলাম না? এমন না যে, আমি কবিতা নিয়ে আড্ডা কম করি।

কদিন ধরে সবাই বলছে, সৈয়দ হক ‘পরানের গহীন ভিতর’ চলে গেছেন, ২৭ সেপ্টেম্বর, বিকালে। ‘পরানের গহীন ভিতর’ তো সৈয়দ হকের একটি কাব্যগ্রন্থ, যার কবিতাগুলো সমঝদারের স্মৃতিতে ঢুকে পড়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেল থেকে জন্মশহর কুড়িগ্রামের সরকারি কলেজের মাঠের কোণে সৈয়দ হক সমাহিত। ১৯৩৫ এর ২৭ ডিসেম্ব্বর এক কনকনে শীতের ভোরে জন্মেছিলেন যে শিশু, তার বাবা ছিলেন হোমিও প্যাথের ডাক্তার। একদিন সকালে হকের মায়ের যখন প্রসব ব্যথা ওঠে, তখন তাকে দূরের হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব ছিল না। হকের বাবাই ছিলেন হকের ধাত্রী। বাচ্চা মায়ের পেট থেকে বেরিয়ে আসার পর প্রতিবেশীরা বলল, ‘এ তো বাদশা।’ হক ভাই একদিন কথায় কথায় বললেন, ‘জানো, আমার বাবা-মা, ছোটবেলার বন্ধুরা আমাকে বাদশা নামেই ডেকে থাকে!’

হক ভাইয়ের ৭৯তম জন্মদিন পালন করেছিলাম আমরা। সাদ্দাম সিকদার, শাশ্বত মিত্র, মোস্তফা মনন, শাকিল, সৈকত সবাই কী দুর্দান্ত সাপোর্ট দিয়েছে আমাকে। শিল্পকলার ডিজি লাকী ভাই দিলেন অডিটোরিয়াম। একটি প্রকাশনা করেছিলাম, ‘সামান্য কিছু’ ‘আ লিটল বিট সৈয়দ হক স্মারক সংখ্যা’। যাতে সাদ্দামেরই চৌদ্দআনা কৃতিত্ব। শাশ্বতকে দিয়ে হক ভাইয়ের কয়েক শো ফটোগ্রাফি করিয়েছিলাম। পুরো ব্যাপারটি হক ভাইকে খুব প্রাণবন্ত করেছিল। শিল্পকলার প্রধান অডিটোরিয়াম মঞ্চের ব্যাকড্রপে রেখেছিলাম ১৬ ফুট বাই ৬ ফুটের হ্যাঙ করা হকের পোর্ট্রেট, আর তার স্বাক্ষর। নিজের মুখোমুখি সৈয়দ শামসুল হক। ৭৫০ সিটের অডিটোরিয়াম। দর্শক পূর্ণ হয়েও কিছু দাঁড়িয়ে আছে। আড়াই ঘণ্টার একটি জন্মদিন পালন অনুষ্ঠান। যেভাবে বলেছি, হক ভাই টাইমিং রক্ষা করে তা শেষ করলেন।

‘অন্ধকার মঞ্চ। স্পট লাইট ডায়াসের ওপর পড়বে। উপস্থাপককে দেখা যাবে। কবি আফরোজা সোমা উপস্থাপক। সোমার কিছু কথার পর মঞ্চ ফের অন্ধকার। বাজবে বাঁশি। মিনিট দেড়েকের বাঁশির পর মিডল স্টেজে আস্তে আস্তে লাইট আপ হবে এবং সেই লাইটে দেখা যাবে, সৈয়দ হক নিজেকে দেখছেন এবং লাইট পুরো মঞ্চ কভারের পর হক ঘুরে তাকাবেন হলভর্তি দর্শকের দিকে, দর্শকের উদ্দেশে ভালোবাসা ছুড়ে দেবেন ডান হাতের আঙুল ঠোঁটে তুলে। হক ভালোবাসা জানালেন। হককেও ভালোবাসি আমরা, তার বর্ণাঢ্য সৃষ্টিকর্মের নিরিখে। তিনি সফল চাষা, বাংলাভাষার। প্রিয় হক ভাই, আপনার সঙ্গে আড্ডাগুলো আর পাব না। এই অতৃপ্তি, এই শূন্যতা আমাকে মনখারাপ করে রেখেছে। কী করব?

 

এক নজরে...

সৈয়দ শামসুল হক

জন্ম : ২৭ ডিসেম্বর ১৯৩৫, কুড়িগ্রাম, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত।

মৃত্যু : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ (৮০ বছর), ইউনাইটেড হাসপাতাল, ঢাকা।

সমাধিস্থল :   কুড়িগ্রাম, বাংলাদেশ।

পড়াশোনা : ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

পিতা : সৈয়দ সিদ্দিক হুসাইন। মা : হালিমা খাতুন।

দাম্পত্যসঙ্গী : লেখক ও অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক

সন্তান : বিদিতা সৈয়দ হক, দ্বিতীয় সৈয়দ হক

কর্মজীবন : ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত বিবিসি বাংলার প্রযোজক।

উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম 

ছোটগল্প : তাস, শীত বিকেল, রক্তগোলাপ, আনন্দের মৃত্যু, প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান, জলেশ্বরীর গল্পগুলো, শ্রেষ্ঠ গল্প।

কবিতা : একদা এক রাজ্যে, বিরতিহীন উৎসব, বৈশাখে রচিত পঙিক্তমালা, প্রতিধ্বনিগণ, পরানের গহীন ভিতর, কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে, আমি জন্মগ্রহণ করিনি,     কবিতাসংগ্রহ, প্রেমের কবিতা, ধ্বংস্তূপে কবি ও নগর।

উপন্যাস : অনুপম দিন, সীমানা ছাড়িয়ে, নীল দংশন, স্বপ্ন সংক্রান্ত, নির্বাসিতা, নিষিদ্ধ লোবান, খেলারাম খেলে যা, দূরত্ব, অন্য এক আলিঙ্গন, বুকঝিম ভালোবাসা, অচেনা,

আলোর জন্য, রাজার সুন্দরী।

কাব্যনাট্য : পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, গণনায়ক, নুরুলদীনের সারাজীবন, এখানে এখন, ঈর্ষা, বাংলার মাটি বাংলার জল, নারীগণ।

প্রবন্ধ : হৃৎ কলমের টানে (প্রথম খণ্ড ও দ্বিতীয় খণ্ড)

কথাকাব্য : অন্তর্গত, প্রণীত জীবন।

অনুবাদ : ম্যাকবেথ, টেম্পেস্ট ও শ্রাবণ রাজা।

শিশুসাহিত্য : সীমান্তের সিংহাসন, আনু বড় হয় ও হড়সনের বন্দুক।

এ ছাড়া ‘মাটির পাহাড়’, ‘সুতরাং’সহ একাধিক চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য। ‘হায়রে মানুষ মনের মানুষ, দম ফুরাইলে ঠুস’সহ অত্যন্ত জনপ্রিয় কিছু গান লিখেছেন।

পুরস্কার : বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কারসহ একাধিক পুরস্কার ও সম্মাননা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow