Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২৪ মে, ২০১৮ ১০:৫৮ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ২৪ মে, ২০১৮ ১৪:৩৫
খবর আনন্দবাজার পত্রিকার
কর্নাটকের মঞ্চে শপথ নিয়েই মোদি সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল বিরোধী শক্তিগুলো
অনলাইন ডেস্ক
কর্নাটকের মঞ্চে শপথ নিয়েই মোদি সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল বিরোধী শক্তিগুলো
সংগৃহীত ছবি

ভারতের কর্নাটক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন জেডিএস (জনতা দল সেক্যুলার) নেতা এইচ ডি কুমারস্বামী। বুধবার বেঙ্গালুরুতে সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা ব্যানার্জি, বহুজন সমাজপার্টির নেত্রী ও উত্তর প্রদেশের চারবারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী, সমাজবাদী পার্টি ও উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব এবং তেলেগু দেশম পার্টির নেতা ও অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। আর সেখান থেকেই নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিরোধী শক্তিগুলো।

আনন্দবাজার পত্রিকার খবর, ব্রিটিশদের তৈরি কর্নাটক হাইকোর্টকে টেক্কা দিতে বেঙ্গালুরুতে মহীশূর ঘরানায় প্রাসাদোপম বিধানসৌধ বানানো হয়েছিল স্বাধীনতার পর। আজ সেই সৌধের রাজকীয় সিঁড়ির চাতালে নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিরোধী শক্তির মেগা সম্মেলন। উপলক্ষ, মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী এবং উপমুখ্যমন্ত্রী জি পরমেশ্বরের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। বৃষ্টির দাপটকে অগ্রাহ্য করেই বিধানসভাকে ঘিরে পথে নামলেন কাতারে কাতারে নেতা সমর্থক, এমনকি সাধারণ মানুষও। আশপাশের পানির ট্যাঙ্ক, গাছের মগডাল, পাঁচিলের উপরেও লোকারণ্য। 

অনুষ্ঠান সব মিলিয়ে দশ মিনিটের। কিন্তু তার মধ্যেই তৈরি হল অজস্র রাজনৈতিক খণ্ডদৃশ্য, যা বিজেপির উদ্বেগ বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক শিবির। বিভিন্ন রাজ্যের আঞ্চলিক দলের নেতারা একে অন্যকে জড়িয়ে ধরছেন, পাশে বসে গল্প করছেন, হাত মিলিয়ে ছবি তুলছেন, সৌজন্য বিনিময় করছেন অবাধে— এমনটা কর্নাটক কেন, ভূ-ভারতে কেউই প্রায় দেখেননি। পরে টুইট করে রাহুল গান্ধী যার সারসংক্ষেপ করেছেন, “শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে গোটা দেশের বিরোধী নেতাদের সঙ্গে দেখা হওয়া, এক মঞ্চে থাকা আনন্দের ব্যাপার।” বস্তুত, রাহুল গান্ধীর সঙ্গে এক মঞ্চে এত জন বিরোধী নেতার উপস্থিতি ২০১৪ সালের পরে এই প্রথম।

খবরে আরও বলা হয়, বুধবার বিকেলে মঞ্চে মায়াবতী প্রবেশ করতেই উঠে দাঁড়ান অখিলেশ যাদব! তারপর তারা পাশাপাশি বসে মেতে যান দীর্ঘ আড্ডায়। মায়াবতীর অন্য পাশে আরএলডি নেতা অজিত সিংহ। কথা বললেন তারাও। প্রেস গ্যালারিতে তখন জল্পনা, উত্তরপ্রদেশের আসন্ন উপনির্বাচনের (যেখানে আরএলডি, বিএসপি, এসপি জোট গড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ছে) রণকৌশলই কি ঝালিয়ে নিচ্ছেন তারা! অনুষ্ঠান শেষে মায়াবতী এসে জড়িয়ে ধরলেন সোনিয়াকে। একটু পরেই সেখানে এলেন রাহুল। তিনজনের আলাপ চলল বেশ কিছুক্ষণ। অখিলেশের সঙ্গে করমর্দন করে কথা বললেন রাহুল। সীতারাম ইয়েচুরি একটু দেরি করে এলেও ঘুরে ঘুরে সকলের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করলেন। নমস্কার করলেন মমতা ব্যানার্জিকেও। শপথ শেষে শরদ পওয়ার, মায়াবতী, অজিত সিংহ, সোনিয়া, রাহুল, সীতারাম, কুমারস্বামী, ডি রাজা, লালুপ্রসাদের ছেলে তেজস্বীকে পাশাপাশি হাত ধরে ছবি তুলতেও দেখা গেল।

মঞ্চের একপ্রান্তে বসেছিলেন সনিয়া, রাহুল, অখিলেশ, মায়াবতীরা। অন্য প্রান্তে মমতা, চন্দ্রবাবু নায়ডু, শরদ যাদব, পিনারাই বিজয়ন, অরবিন্দ কেজরীবালেরা। পরে তেজস্বী এসে মমতার হাঁটু ছুঁয়ে প্রণাম করলেন। তাদের দীর্ঘ আলোচনায় যোগ দিলেন অখিলেশ, চন্দ্রবাবু।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শেষ হতেই মেঘ কেটে রৌদ উঠল বেঙ্গালুরুর আকাশে। কোনো বিলম্ব না করে জ্বলল আতশবাজি। সব মিলিয়ে আগামী বছর লোকসভা ভোটের 'ঢাকে কাঠি' পড়ল এই কর্নাটক থেকে— এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

বিডি-প্রতিদিন/২৪ মে, ২০১৮/মাহবুব

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow