ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আজকের পত্রিকা

ছাত্রীর সঙ্গে অসদাচারণ, প্রতিবাদ করায় ২ ছাত্রকে পেটাল ছাত্রলীগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) এক ছাত্রীর সঙ্গে অসদাচারণের প্রতিবাদ করায় প্রথম বর্ষের দুই শিক্ষার্থীকে পিটিয়েছে ছাত্রলীগের দুই কর্মী। এ সময় একজন চোখে গুরুতর আঘাত পায়। রবিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনের পেছনে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরকারী মিরাজ ও রাহাত রাবি ছাত্রলীগের কর্মী এবং মার্কেটিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষাথী। মারধরের শিকার রনি হাসান ও রাহুল সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ চলাকালীন ছাত্রলীগ কর্মী মিরাজ ও রাহাতসহ মার্কেটিং বিভাগের ৫/৬ জন বন্ধু সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীর পাশে বসে অসদাচারণ করে। এসময় ওই ছাত্রীর সহপাঠী রনি ও রাহুল গিয়ে প্রতিবাদ করে। এরপর মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক তরুন কুমার জোয়ারদার গিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। অনুষ্ঠান শেষে মিলনায়তন থেকে বের হলে ওই ছাত্রীর সহপাঠীদের ডেকে নেয় মিরাজ ও রাহাতের বন্ধুরা। এ সময় রনি ও রাহুলকে শহীদ মিনারের দিকে ডেকে নিয়ে মারধর করে। মারধরের এক পর্যায়ে রনির চোখে থাকা চশমা ভেঙে চোখে গুরুতর আঘাত পায়।

এরপর মারধরকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে রনির সহপাঠীরা তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা, প্রক্টর, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক রনিকে দেখতে মেডিকেল সেন্টারে যায়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

মেডিকেল সেন্টারের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সলিল রঞ্জন সমাদ্দার বলেন, ‘আহত শিক্ষার্থীর চোখের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে রামেকের জরুরি বিভাগে পাঠানো হয়েছে। আর তার চোখে আগের সমস্যা থাকার কারণে এ নতুন আঘাত বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।’

মারধরের শিকার রনি হাসান বলেন, ‘মিলনায়তনের ভেতরে আমাদের বান্ধবীকে উত্যক্ত করার সময় প্রতিবাদ করি। এ সময় একজন স্যার এসে সমাধান করে দেন। অনুষ্ঠান শেষে বের হয়ে আবারো উত্যক্ত করলে প্রতিবাদ করি। এ সময় তারা ধাক্কাতে ধক্কাতে মিলনায়তনের পূর্ব দিকে নিয়ে গিয়ে আমাকে মারধর করে। একপর্যায়ে আমার চোখে থাকা চশমা ভেঙে চোখে আঘাত পায়।’

ছাত্রীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করে ছাত্রলীগ কর্মী রাহাত বলেন, ‘আসলে রনি ছোট হয়েও আমাদের সঙ্গে বেয়াদবি করে। তাই আমার বন্ধু মিরাজ তাকে মারধর করে। আমি তাকে মারধর করিনি।’ মিরাজ মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘বেয়াদবি করার জন্য তাকে শুধু আমি একটি চড় মেরেছি। এতে তার চোখে আঘাত লাগে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মুজিবুল হক আজাদ বলেন, ‘আহত শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বিডি-প্রতিদিন/২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭/মাহবুব  

 



এই পাতার আরো খবর