ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আজকের পত্রিকা

দ্বিগুণ দামে সবজি বিক্রি
মোস্তফা কাজল, নরসিংদী (মাধবদী) থেকে ফিরে
বাজার দর

মাধবদীর উৎপাদিত সবজি রাজধানীতে এলেই দ্বিগুণ দাম হয়ে যায়। এজন্য তিনটি কারণ চিহ্নিত করেছেন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, পণ্য পরিবহনে সংকট, ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি ও দাদন এর জন্য দায়ী।

গতকাল রাজধানীর উপকণ্ঠে নরসিংদীর মাধবদী বাজার ও রাজধানীর বনানী বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ওয়াকিবহালেরা বলছেন, পাশের জেলার বিভিন্ন পণ্য রাজধানীতে এসেই কেজিতে দাম কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিন গুণ হয়ে যাচ্ছে। মাধবদী বাজারের সবজি ব্যবসায়ী আমানত হোসেন বলেন, ‘ঢাকার বাজারে আমরা ভোজ্যতেল, চাল, পিয়াজ ও চিনি নিয়ে আসি। এসব পণ্য আনতে ছয় স্থানে পুলিশকে বকশিশের নামে চাঁদা দিতে হয়। ফলে পণ্য কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।’ বনানী বাজারের সবজি ব্যবসায়ী জাসিম খান বলেন, ‘মাধবদীর বাজার থেকে সবজি কিনে আনতে আমাদের তিন জায়গায় চাঁদা গুনতে হয়। এ কারণে কেনা সবজি বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এ ছাড়া পণ্য পরিবহনের দামও বেড়ে গেছে।’ মাধবদীর পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী জামাল হোসেন বলেন, ‘মাধবদীর কৃষক সবজি চাষের আগে দাদন নেন। ফলে তারা কম দামে পাইকারদের হাতে সবজি তুলে দিতে বাধ্য হন।’ মাধবদী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মসলা, ভোজ্যতেল ও চালের দামে ঢাকার সঙ্গে তেমন একটা হেরফের নেই। তবে মাছের দাম রাজধানীর চেয়ে বেশি। গতকাল বনানী ও মাধবদীর বাজারে আসা ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে পড়তে হয় মাংসের দামে। যেখানে এক মাস আগেও প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হয়েছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায়, সেখানে গতকাল বিক্রি হয়েছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায়। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হয় ৪২০ টাকায়, গতকাল বিক্রি হয়েছে ৪৩০ থেকে ৪৪০ টাকায়। মাংস কিনতে আসা ক্রেতারা বলেন, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই বৃদ্ধি পাওয়া শুরু হয়। বিক্রেতারা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে মাংসের দাম বৃদ্ধি করেছেন। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলেন, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ কম থাকায় মূল্য বৃদ্ধি ঘটেছে। বনানী বাজারের মাংস ব্যবসায়ী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ডিসেম্বরে পিকনিক, বিয়ে, অফিসের অনুষ্ঠান বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ বেড়েছে। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মাধবদী বাজারে গতকাল করলা বিক্রি হয়েছে ২৫ টাকায়, বনানী বাজারে ৫০ টাকায়। বেগুন ২০ টাকায়, ঢাকায় ৪০ টাকায়। বরবটি ৪০, ঢাকায় ৬০ টাকায়। বনানী বাজারে টমেটোর কেজি ৩০, ঝিঙ্গা ৫০, শিম ৩০, পেঁপে ২০, কচুর লতি ৫০, কচুর মুখি ৪০, আলু ১২, গাজর ৩০, পটোল ৩০ এবং প্রতি পিস মিষ্টিকুমড়া ৪০, বাঁধাকপি ২০, ফুলকপি ২৫ ও লাউ ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া কাঁচামরিচ কেজি ৪০, ধনেপাতা ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়। পাশাপাশি মাধবদী বাজারে টমেটো ২০, বাঁধাকপি ১০, ফুলকপি ১৫, গাজর ১৫, মিষ্টিকুমড়া ২০, লাউ ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বনানী বাজারে মাছের দাম বেড়েছে। ভোজ্যতেল ও ডালের দাম কিছুটা বেড়েছে। গতকাল এ বাজারে প্রতি কেজি ইলিশ মাছ ৯০০-৯৫০, দেশি রুই ২৫০-৩০০, কোরাল ৪০০ ও চিংড়ি বিক্রি হয়েছে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায়। একইভাবে মাধবদী বাজারে প্রতি কেজি ইলিশ ১০০০ টাকায় বিক্রি হয়।



এই পাতার আরো খবর