ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৮

আজকের পত্রিকা

অন্তহীন সমস্যার কবলে দনিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক

মাদক, মশা, গ্যাস ও ড্রেনেজ সমস্যায় নাকাল অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন দনিয়াবাসী। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নতুন ৬০ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে এখানে আসা ভাড়াটিয়াদের ডাকা হতো মেহমান বলে। ভাড়াটিয়া-বাড়িওয়ালা পরস্পরকে চিনতেন। কিন্তু গত দশ বছরে অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। বাসিন্দারা জানান, এখন এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়নের ফলে বেড়েছে হাইরাইজ ভবন ও মার্কেট। তাই এখন কেউ কাউকে চেনেন না। বাড়ছে ভাড়াটিয়া বাড়ছে জনসংখ্যা। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মাদক। অলিতে-গলিতে ছড়িয়ে গেছে ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদকের কারবার। ধোলাইপাড় পূর্বাংশের ডিপ টিউবওয়েলের গলি, কুতুবখালী, কাজলা, শনির আখড়ার বিভিন্ন খুপরি, পলাশপুর, পাটেরবাগ, ইতালি মার্কেট, বাগবাড়ি, ভবানীর বাগিচা, নোয়াখালী পট্টি, নূরপুর মসজিদ রোড, বর্ণমালা স্কুলের পেছনের রোলিং মিল এলাকাসহ বিভিন্ন গলির গ্যারেজ, লাইব্রেরি, ফটোস্ট্যাট বা পানের দোকান এখন মাদকের জোগানদার। দনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. জুম্মন মিয়া জানান, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নতুন সংযুক্ত ১৬ ইউনিয়নকে ৩৬ ওয়ার্ড এবং ৬টি অঞ্চলে বিভক্ত করে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখনো ইউনিয়ন পরিষদই চালাই। তবে সিটি করপোরেশনের সভায় আমাদের ডাকা হয়। সেখানে এলাকার উন্নয়নের তালিকা দিয়েছি। গত কয়েক বছরে আমার এলাকায় অনেক উন্নয়ন হয়েছে। ডেমরা রোড থেকে শনির আখড়া হয়ে নামাশ্যামপুর পর্যন্ত নতুন আরসিসি ঢালাই সড়ক হয়েছে।

একইভাবে ধোলাইপাড় থেকে শনির আখড়া, গোয়ালবাড়ি থেকে শ্যামপুর থানার সীমান্তের কুদরত আলী বাজার এবং আদর্শ স্কুল থেকে কাজলা পর্যন্ত আরসিসি ঢালাই সড়ক হয়েছে। স্থানীয় সরকার থেকে আমার এলাকার ৬৫% রাস্তার উন্নয়ন কাজ হয়েছে। ফলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খবর পাওয়া মাত্র সব বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারছে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশন থেকে ড্রেনেজ উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে।’

সরেজমিন দনিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গোয়ালবাড়ি খালটি দখলদারদের হাতে নালা হতে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে। এখন ড্রেন হিসেবে তার সংস্কার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। শনির আখড়া থেকে নামা শ্যামপুর পর্যন্ত বিস্তৃত পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৬ ফুট খালটিও এখন বিলীন হওয়ার পথে। সরকার এই খালে বক্সকালভার্ট করে মহাসড়ক বানানোর পরিকল্পনা করছে— ধোঁয়া তুলে দুই পাশ থেকেই ভরাট করার কাজ শুরু হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, রীতিমতো সালামি দিয়ে খালের ওপর মাচা তুলে দোকান ঘর করার অনুমতি পাওয়া গেছে। নিয়মিত ভাড়াও আদায় করছে তারা। এ ছাড়া খালপাড়ের রাস্তার দুই পাশে ভাসমান দোকান বসিয়ে নিয়মিত আদায় করা হচ্ছে ভাড়া। কেউ প্রতিবাদ করলে দেখানো হচ্ছে জেলের ভয়। জেলা প্রশাসকের অনুমতি রয়েছে-দোহাই দিয়ে স্থানীয়ভাবে সরকারি দলের নানা অঙ্গ-সংগঠনের সাইনবোর্ড তুলে প্রশাসনের নাকের ডগায়ই চলছে সব কিছু। ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলকারী ট্যাক্সি, টেম্পু-অটোরিকশা ও চাঁদাবাজির কবল থেকে মুক্ত নয়।



এই পাতার আরো খবর