ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আজকের পত্রিকা

হত্যা মামলা প্রত্যাহার নিয়ে সংসদে বিতর্ক
অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বাধা দিচ্ছেন ক্ষমতাবানরা
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনৈতিক বিবেচনায় হত্যা মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে জাতীয় পার্টির এমপি পীর ফজলুর রহমান (সুনামগঞ্জ-২) সংসদে জানতে চান, যাদের পরিবারের সদস্য খুন হয়েছেন তারা কি বিচার পাবেন না? জবাবে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া বলেন, সরকার যে কোনো মামলা প্রত্যাহার করতে পারে, যদি তার কাছে সেই ধরনের সুনির্দিষ্ট কোনো গ্রাউন্ড থাকে। অন্যদিকে চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, উনি ৩৪টি মামলার কথা বলেছেন, পত্রিকা দেখে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করে সংসদে বিবৃতি দেওয়া কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে গতকাল জাতীয় সংসদের চতুর্দশ ও শীতকালীন অধিবেশনে রাজনৈতিক বিবেচনায় হত্যা মামলা প্রত্যাহার প্রসঙ্গে অনির্ধারিত এ বিতর্ক হয়। এর আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জাতীয় পার্টির এমপি এ বিষয়ে গত ২০ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত রাজনৈতিক বিবেচনায় হত্যা মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করেন। এ সময় পীর ফজলুর রহমান পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আবারও রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ’৯০-এর পর এরশাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার না হলেও ওই রিপোর্ট অনুযায়ী ২০৬টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বিবেচনায় ৩৪টি হত্যা মামলাসহ নতুন করে ২০৬টি আলোচিত মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে দেড় শতাধিক মামলাই আওয়ামী লীগের পরপর দুই মেয়াদের সরকারের আমলে করা। গত বছর করা মামলাও প্রত্যাহারের তালিকায় রয়েছে। ওই সব মামলার বাদী সরকার নিজেই। তিনি সরকারের এ উদ্যোগের সমালোচনা করে বলেন, সরকারের দায়ের করা মামলা সরকারই কী করে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বলে, তা নিয়ে সবাই বিস্মিত। অথচ এসব মামলার মধ্যে ধর্ষণের মামলা, নাশকতার মামলা, ঘুষ লেনদেনের মামলা সরকারি টাকা আত্মসাতের মামলা, ডাকাতি মামলা, অবৈধভাবে নিজ অস্ত্র দখলে রাখার মামলা, কালোবাজারি, অপহরণ, জালিয়াতি, বোমা, চুরি ও অস্ত্র মামলা রয়েছে। এর আগে ২০০৯-১৩ আওয়ামী  লীগের গত মেয়াদে ৭ হাজার ১৯৮টি মামলা সম্পূর্ণ বা আংশিক প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছিল, যা ইতিমধ্যে আদালত থেকে অনেকগুলো প্রত্যাহারিত হয়েছে। এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছেন, সরকার গ্যাসের অবৈধ সংযোগ কঠোর হাতে দমন করছে। সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশনা রয়েছে। তবে কতিপয় ক্ষমতাবান দুষ্কৃতিকারী এ কাজে বাধা প্রদান করছেন বলে কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে বিদ্যুতের ৫২ শতাংশ বেসরকারি খাতে উৎপাদন হচ্ছে। আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ৬৫টি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র (নির্মাণাধীন ও দরপত্র প্রক্রিয়াধীন) স্থাপনের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।

অনুমোদিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো (নির্মাণাধীন ও দরপত্র প্রক্রিয়াধীন) থেকে ১৬ হাজার ৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।



এই পাতার আরো খবর