ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৮

আজকের পত্রিকা

আজও সরেনি কারওয়ান বাজারের কাঁচাবাজার
চলছে দফায় দফায় সময় চাওয়ার পালা
জয়শ্রী ভাদুড়ী

দফায় দফায় সময় নিয়ে বছর পার করলেও রাজধানীর মহাখালী, আমিন বাজার এবং যাত্রাবাড়ীর তিনটি মার্কেটে ব্যবসা স্থানান্তর করেননি কারওয়ান বাজারের কাঁচাবাজার ব্যবসায়ীরা। এখনো তারা সময় চেয়েই চলেছেন। গত বছরের ২৯ মার্চ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হকের সঙ্গে বৈঠকে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা ‘ছয় মাসের মধ্যেই কারওয়ান বাজার থেকে তাদের ব্যবসা সিটি করপোরেশন নির্ধারিত তিনটি মার্কেটে স্থানান্তরের’ ওয়াদা করেছিলেন। কিন্তু বছর পার হলেও সে ওয়াদা পালন তো দূরে থাক, বাজার সরানোর কোনো উদ্যোগই নেননি ব্যবসায়ীরা। উত্তর সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ব্যবসায়ীদের এক জায়গায় আনতে এবং শহরকে ঢেলে সাজাতে সিটি করপোরেশন ভাগ হওয়ার অনেক আগে ২০০৪ সালে মার্কেট সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ লক্ষ্যে যাত্রাবাড়ী, মহাখালী এবং সাভারের আমিনবাজারে ৩৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে মার্কেট নির্মাণ শুরু হয়। এরপর সিটি করপোরেশন ভাগ হলে উত্তর সিটি করপোরেশনের সীমানায় থাকা কারওয়ান বাজারের কাঁচা বাজারটি স্থানান্তর করে এই মার্কেটগুলোতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু রাস্তা না থাকা, পানি ও বিদ্যুতের সংযোগ না থাকার মতো বিভিন্ন অভিযোগ এনে সময় পেছাতে থাকেন ব্যবসায়ীরা। এরপর কারওয়ান বাজার ব্যবসায়ীদের অনুৎসাহের কারণে কঠোর অবস্থানে যায় উত্তর সিটি করপোরেশন। তখন সিটি করপোরেশনের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক শেষে গত মার্চে ডিএনসিসির মেয়রকে ছয় মাসের মধ্যে মার্কেট স্থানান্তরের ওয়াদা করেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বছর পার হলেও ব্যবসায়ীদের ভেটোর কারণে নির্মাণ করা ওই মার্কেটের এখনো বরাদ্দই শুরু হয়নি। ব্যবসা স্থানান্তরের বিষয়ে কারওয়ান বাজার দোকান মালিক সমিতির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য বলেন, ‘সিটি করপোরেশন ২০১৩ সালের দিক থেকেই আমাদের ব্যবসা সরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছে। যখন চাপ দিয়ে কাজ হয়নি তখন বহুবার তারা উচ্ছেদ অভিযানও চালিয়েছে। সবশেষ গত বছর আমরা মেয়রকে কথা দিয়েছিলাম যে, ছয় মাসের মধ্যে ব্যবসা সরিয়ে তাদের নির্ধারিত মার্কেটে চলে যাব। কিন্তু গিয়ে দেখেন তো একবার— ওই মার্কেট কি ব্যবসা শুরু করার জন্য রেডি হয়েছে? কাজই শেষ হয়নি। আমরা সময়ের আগেই দোকান বরাদ্দ চেয়েছিলাম। কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় তারা এখন আমাদের কাছে সময় চাচ্ছেন।’ তিনি শঙ্কা প্রকাশ বলেন, ‘মার্কেটগুলো এমন জায়গায় তৈরি করা হয়েছে যেখানে ব্যবসা জমবে কি না— তা নিয়ে আমরা চিন্তিত।



এই পাতার আরো খবর