ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আজকের পত্রিকা

স্কুলেই পাওয়া যায় স্যানিটারি ন্যাপকিন
প্রেস বিজ্ঞপ্তি

পিরিয়ড নিয়ে সংকোচের বেড়াজাল একটু একটু করে ভাঙছে। মেয়েরা এখন আগের চেয়ে সচেতন। তাই মা দাদীরা যেমন পিরিয়ডের সময় কাপড় বা তুলা ব্যবহার করতো, তাদেরই নতুন প্রজন্ম এখন স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করছে। 

সেনোরার স্কুল প্রোগ্রাম স্কুলে স্কুলে মেয়েদের সচেতন করার কাজটি করে যাচ্ছে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৭ লক্ষাধিক স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে এ বিষয়ে সচেতন করা গেছে।  তবে এখনো এর আওতার বাইরে আছে হাজার হাজার স্কুল। শহরের তুলনায় গ্রামের স্কুলগুলোতে সচেতনতার অভাব অনেক বেশি। বেশিরভাগ স্কুলে স্যানিটারি ন্যাপকিনের দুস্প্রাপ্যতাও বড় বাধা।

পিরিয়ডের সময় স্যানিটারি ন্যাপকিন না পাওয়ার কারণে অনেক মেয়ে স্কুলেই আসে না। পিরিয়ড সঠিকভাবে ম্যানেজ করতে না পারায় প্রায় ৪০% মেয়ে প্রতি মাসে গড়ে ৪ থেকে ৬ দিন স্কুলে অনুপস্থিত থাকে। কেউ কেউ স্কুলই ছেড়ে দেয়। তবে স্কুলের মেয়েদের কাছে এক ঝলক স্বস্তির নিঃশ্বাস হয়ে এসেছে “নোরা আপা”। নোরা আপা’র মাধ্যমে স্কুলের মেয়েরা দরকারের সময় হাতের কাছেই পাচ্ছে সেনোরা স্যানিটারি ন্যাপকিন। 

২০১৭ সালে প্রথম এই উদ্যোগটি শুরু হয়। শুরুতে ঢাকা, দিনাজপুর, রংপুর, রাজশাহী সহ ৮টি জেলায় ১৩৮টি স্কুলে নোরা আপা চালু হয়। এখন পর্যন্ত মোট ৩১০টি স্কুলে এই সুবিধা চালু আছে। প্রতিটি স্কুলে একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী কর্মী বা আয়ার কাছে প্রয়োজনের সময় পাওয়া যাবে সেনোরা স্যানিটারি ন্যাপকিন। তিনি একটি কাঠের আলমারিতে তা মানসম্মতভাবে সংরক্ষণ করেন ও ছাত্রীদের কাছে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করেন। 

মূলতঃ এই উদ্যোগটির নামই নোরা আপা। সেনোরা স্কুল প্রোগ্রামের সময় স্কুলের ছাত্রীদের সাথে এই কর্মীর পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় এবং তার কাছেই যে প্রয়োজনে মিলবে সেনোরা সেই তথ্যটি জানানো হয়। বড় একটি সমস্যার সহজ একটি সমাধান!

নোরা আপা চালুর পরপরই ব্যাপক সাড়া পরে। “আগে ক্লাস করার সময় হঠাৎ পিরিয়ড শুরু হলে সাথে সাথে বাসায় চলে যেতাম। কিন্তু এখন স্কুলেই স্যানিটারি ন্যাপকিন পাওয়া যায়, তাই বাসায় চলে যাওয়ার দরকার হয় না” - এভাবেই তার স্বস্তির কথা জানায় নোয়াখালী সরকারি স্কুলের দশম শ্রণেীর ছাত্রী আছয়িা সুলতানা। 

রামু গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদিন জানান, নোরা আপার কারণে ক্লাসে মেয়েদের উপস্থিতির হার একটু বেড়েছে আর একই সাথে বেড়েছে এই ট্যাবু বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা। প্রতিটি স্কুল এবং কলেজে এই উদ্যোগটি থাকা খুব জরুরি বলেও জানান তিনি।

এভাবেই নোরা আপার মাধ্যমে স্বস্তি ফিরেছে স্কুলগুলোতে। একটু সচেতনতা আর প্রয়োজনের সময় পিরিয়ডের সঠিক পণ্যগুলো হাতের নাগালে পৌঁছে দিতে পারলেই স্কুল পড়ুয়া এই মেয়েগুলোকে ঠেকিয়ে রাখবে কে!

বিডি প্রতিদিন/১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮/হিমেল



এই পাতার আরো খবর