ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আজকের পত্রিকা

অবাধ পাথর উত্তোলনে ধ্বংস হচ্ছে সম্ভাবনার পর্যটন
শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট
সিলেটের বিছানাকান্দিতে উত্তোলন করা হচ্ছে পাথর। হারাচ্ছে পর্যটন কেন্দ্রটির সৌন্দর্য্য —নাজমুল কবীর পাভেল

সিলেটের জাফলং, শাহ আরেফিন টিলা কিংবা বিছানাকান্দি— অপার সৌন্দর্যের এসব স্থান পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেই সমধিক পরিচিত। এখানকার নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে আসেন দেশ-বিদেশের পর্যটক। এক সময় সারা বছরই লেগে থাকতো পর্যটকের স্রোত। পাথরের লোভে প্রকৃতিকে ধ্বংস করায় শ্রীহীন হয়ে পড়ছে সম্ভাবনার এসব পর্যটন কেন্দ্র। ফলে ক্রমে কমছে পর্যটক। অপরিকল্পিতভাবে, ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের ফলে ঘটছে প্রাণহানিও। গত এক মাসে এসব স্থানে পাথর উত্তোলনকালে মৃত্যু হয়েছে ৯ শ্রমিকের। এ অবস্থায় পর্যটন শিল্পকে বাঁচিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে পাথর উত্তোলনে ব্যবস্থা নিতে সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের কারণে দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও স্বনামে পরিচিত সিলেট। দেশের পর্যটন শিল্পে সিলেটের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। পর্যটনকে কেন্দ্র করে তাই সিলেটকে ব্র্যান্ডিং করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এমন সময়ে পর্যটনের বিকাশ তো দূরের কথা, অপরিকল্পিত পাথর উত্তোলন করে ধ্বংস করা হচ্ছে সিলেটের অমিত সম্ভাবনাকে। জানা যায়, দীর্ঘদিন সিলেটে পরিবেশ ধ্বংস করে অপরিকল্পিতভাবে চলছে পাথর উত্তোলন। পাথরখেকোদের থাবায় হারিয়ে যাচ্ছে পর্যটন। দেখা দিচ্ছে পরিবেশ বিপর্যয়। গভীর গর্ত করে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করতে গিয়ে প্রাণ যাচ্ছে শ্রমিকের। প্রশাসনের অভিযান, মামলা— কোনোটাই যেন ঠেকাতে পারছে না পাথর তোলা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ কাজের সঙ্গে হাজার হাজার শ্রমিকের জীবিকা জড়িত। তাছাড়া সিলেটের পাথর দেশের সিংহভাগ পাথরের চাহিদা পূরণ করে। এজন্য পাথর উত্তোলনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কিন্তু পরিবেশ কিংবা প্রকৃতিকে ধ্বংস ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে শ্রীহীন করে পাথর উত্তোলনের যৌক্তিকতা নেই। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) সমন্বয়ক অ্যাড. ইরফানুজ্জামান বলেন, ‘প্রাকৃতি সম্পদ পাথর উত্তোলন করে কাজে লাগানো যেমন প্রয়োজন, তেমনি জীববৈচিত্র্য, প্রকৃতি ও পরিবেশকে রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এ জন্য পাথর উত্তোলনে সুপরিকল্পিত ও নিরাপদ পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হবে। অন্যথায় সিলেটের পর্যটনের যে অমিত সম্ভাবনা, তা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।’ পরিবেশ অধিদফতর, সিলেটের পরিচালক সালাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, জাফলং, আরেফিন টিলা প্রভৃতি স্থানে বিভিন্ন সময়ই অভিযান চালানো হয়। কিন্তু পাথরখেকোদের থামানো সম্ভব হচ্ছে না।



এই পাতার আরো খবর