ঢাকা, রবিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৮

আজকের পত্রিকা

কুয়েতে জনশক্তি রপ্তানি
দুর্নীতি বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে

কুয়েতের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক বেশ উষ্ণ হলেও সে দেশে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে শীতল অবস্থা বিরাজ করছে। কুয়েতকে ইরাকি আগ্রাসন থেকে মুক্ত করতে সৈন্য পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ। সেদিক থেকে বাংলাদেশের প্রতি কুয়েতের কৃতজ্ঞ মনোভাব থাকলেও নানা অব্যবস্থাপনার কারণে সে দেশের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের প্রবেশ কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিসাবাণিজ্য বন্ধ হলে কুয়েতে জনশক্তি ও পণ্য রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তাদের মতে, বাংলাদেশি পাসপোর্টের মেয়াদ ১০ বছর করা হলে প্রায় আড়াই লাখ কুয়েত প্রবাসীর ভোগান্তিও কমবে। কারণ, পাসপোর্টে দুই বছরের বেশি মেয়াদ না থাকলে কুয়েতে ভিসা ইস্যু করা হয় না। ফলে, কুয়েত প্রবাসীরা পাঁচ বছর মেয়াদি পাসপোর্টে মাত্র তিন বছরের কার্যকারিতা পায়। বাংলাদেশের এক সময়ের সমৃদ্ধ এ শ্রমবাজারটি নষ্ট হয়েছে জনশক্তি রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু লোকের অপকর্মের কারণে। বর্তমানে কুয়েতে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধ থাকলেও বিশেষ অনুমতিতে যেসব ভিসা পাওয়া যায় সেগুলো বাংলাদেশি ভিসা ব্যবসায়ীরা ৭-৮ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ভারতীয় ও নেপালিরা অনেক কম খরচে কুয়েত যাওয়ার সুযোগ পেলেও বাংলাদেশি ভিসা ব্যবসায়ীদের কারণে সেটি সম্ভব হচ্ছে না। উল্লেখ্য, আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৭৬ সালে কুয়েতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া শুরু হয়। তখন থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত কুয়েতে প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়। তবে বাংলাদেশি কর্মীদের বিরুদ্ধে কিছু অনিয়মের অভিযোগে ২০০৭ সাল থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ রাখে কুয়েত। কুয়েতে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি শুরু করতে হলে ভিসাবাণিজ্য বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে। দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের মাধ্যমে সে দেশে দক্ষ ও অদক্ষ জনশক্তি রপ্তানির পথ উন্মোচন করা যেতে পারে। বাংলাদেশিদের ভিসা প্রাপ্তি সহজতর করতে পাসপোর্টের মেয়াদ ১০ বছর করার বিষয়টি ভাবা যেতে পারে। জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধেও নিতে হবে কার্যকর ব্যবস্থা।  দেশের বৃহত্তর স্বার্থেই এসব বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নজরদারিও নিশ্চিত করতে হবে।



এই পাতার আরো খবর