ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আজকের পত্রিকা

ইতিহাস
পাকিস্তানের রাজনীতি

২০০৮ সালের আগস্টে পারভেজ মোশাররফ ক্ষমতা থেকে সরে যেতে বাধ্য হন। তার পর থেকে পাকিস্তানে এক নাগাড়ে বেসামরিক শাসন চলছে আট বছর ধরে। পাকিস্তানের ইতিহাসে কোনো নির্বাচিত সরকারের পূর্ণ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার রেকর্ডও স্থাপিত হয়েছে এই সময়ে। পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর নাক গলানো থেকে বিরত থাকার এই সুসময় আর দীর্ঘায়িত হবে কিনা তা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৬-এর ১৮ সেপ্টেম্বর কাশ্মীরের উরি সীমান্তে ভারতীয় সেনা ঘাঁটিতে জঙ্গি হামলা চালিয়ে ১৮ জনকে হত্যার ঘটনা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পুতুলনাচের ইতিকথা কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল বাংলাদেশের মানুষ। কিন্তু পাকিস্তানের ২৪ বছরে সংখ্যাগুরু বাঙালিরা পাকিস্তানের অন্য অংশের কাছ থেকে উপেক্ষা আর বঞ্চনা ছাড়া কিছু পায়নি। ১৯৭০ সালে বাঙালিদের দল আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জিতলেও তাদের হাতে ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। তার বদলে ’৭১-এর ২৫ মার্চ বাঙালি জাতির ওপর সেনাবাহিনী লেলিয়ে দেওয়া হয়। শুরু হয় গণহত্যা। যার বিরুদ্ধে বাঙালিরা বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পাকিস্তানিরা আলবদর, আলশামস ও রাজাকারদের সহযোগিতায় এ দেশের ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করে। ৩ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির জন্যও দায়ী পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের এ-দেশীয় সহযোগীরা। পাকিস্তান তাদের সেনাবাহিনীর যেসব সদস্য যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দেয়। এ প্রতিশ্রুতি দিয়েই তারা মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণকারী ৯৫ হাজার পাকিস্তানিকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার অনুমতি পায়। তবে সে প্রতিশ্রুতি তারা রক্ষা করেনি। উল্টো বাংলাদেশে যখন গণহত্যা, নারী ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের দায়ে পাকিস্তানি বাহিনীর শীর্ষ সহযোগীদের বিচার হচ্ছে তখন তারা বাংলাদেশবিদ্বেষী প্রপাগান্ডায় নেমেছে।



এই পাতার আরো খবর