ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৮

আজকের পত্রিকা

নতুন ইসির যাত্রা
সুষ্ঠু নির্বাচনে সরকারের সহযোগিতাও কাম্য

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চার নির্বাচন কমিশনারের শপথ নেওয়ার মাধ্যমে দ্বাদশ নির্বাচন কমিশন গত বুধবার থেকে তাদের যাত্রা শুরু করেছে। শপথ নেওয়ার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা কারও দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে আপসহীন, অটল ও নিরপেক্ষ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। দায়িত্ব পালনে তিনি সব রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ দেশের সব নাগরিকের সহযোগিতা কামনা করেছেন। দেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের দায়বদ্ধ ভূমিকার গুরুত্ব অনিস্বীকার্য। স্বভাবতই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি কারও দ্বারা প্রভাবিত না হওয়ার প্রশ্নে আপসহীন এবং নিরপেক্ষ থাকার যে অঙ্গীকার করেছেন তা দেশবাসীর কাছেও কাঙ্ক্ষিত বিষয়। আমরা আশা করব নতুন নির্বাচন কমিশন কথা নয়, কাজের মাধ্যমে তাদের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘটাবে এবং সবার আস্থা অর্জনে সক্ষমতার পরিচয় দেবে। দেশে বিদ্যমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অর্থবহ করে তুলতে নবগঠিত নির্বাচন কমিশনের আওতায় অনুষ্ঠিতব্য সব নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে— আমরা এমনটিই দেখতে চাই। নির্বাচনের ফলাফলে সাধারণ মানুষের মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে করণীয় কর্তব্য পালনে কমিশন সক্ষম হবে এমনটিও প্রত্যাশিত। আমাদের বিশ্বাস, নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর একাংশ ও নাগরিক সমাজের মধ্যে অপ্রাপ্তি ও অস্বস্তি থাকলেও কাজের মাধ্যমে তারা সে সংশয় দূর করার উদ্যোগ নেবেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনের সীমাবদ্ধতা দেশের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে যে সংশয় সৃষ্টি করেছে, তা কাটিয়ে উঠতে নতুন নির্বাচন কমিশনকে তত্পর হতে হবে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনসহ এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য সব নির্বাচন যাতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয় তা নিশ্চিত করা তথা সব রাজনৈতিক দল ও দেশবাসীর আস্থা অর্জনকে তারা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেবেন আমরা এমনটিই দেখতে চাই। বিগত নির্বাচন কমিশনের যেসব ব্যর্থতা তাদের সুনামের জন্য অন্তরায় সৃষ্টি করেছে তা এড়াতে নতুন কমিশনকে তত্পর হতে হবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সরকারের ভূমিকা আরও বেশি তাত্পর্যপূর্ণ।  সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশনের প্রতি সরকারের সহযোগিতা থাকবে আমরা সে আশাই করতে চাই।  দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এ সহযোগিতার প্রয়োজন অপরিহার্য।



এই পাতার আরো খবর