ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৮

আজকের পত্রিকা

মানুষের পেটে সোনার ডিম
বহনকারী নয় মূল হোতাদেরও ধরতে হবে

রূপকথার সোনার হাঁসের কথা অনেকেরই জানা। সে প্রতিদিন একটি করে সোনার ডিম পাড়ত। লোভী গৃহস্থের ইচ্ছে হলো হাঁসের পেট কেটে সোনার সব ডিম বের করে বিরাট ধনী বনে যাবে। এমনটি ভেবে অকৃতজ্ঞ কৃষক হাঁসটি জবাই করে ফেলল। হতাশ হয়ে দেখল পেটে কোনো সোনার ডিম নেই। রূপকথার হাঁস সোনার ডিম পাড়লেও বাস্তবের কোনো হাঁস সোনার ডিম পেড়েছে এমন তথ্য আমাদের জানা নেই। তবে সবারই জানা, আমাদের দেশে এমন মানুষের সংখ্যা খুব একটা কম নয়, যারা ‘সোনার ডিম’ পাড়ার কৃতিত্বধারী। এমনই একটি ঘটনা খবর হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে বুধবারের বাংলাদেশ প্রতিদিনে। দেশের দুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শাহজালাল ও শাহআমানতে মঙ্গলবার একই দিনে দুই ব্যক্তির পেট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তিন কেজি সোনা। দুবাই থেকে শাহআমানতে আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে শুল্ক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা  উদ্ধার করেন চারটি সোনার বার। তাতেও সন্তুষ্ট না হয়ে লোভী গৃহস্থের মতো আরও সোনা পাওয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগেন তারা। লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদে আনোয়ার নামের ওই যাত্রী স্বীকার করেন তার পেটে ১৫টি সোনার বার রয়েছে। ওষুধ গিলিয়ে শুল্ক গোয়েন্দারা সে ‘সোনার ডিমগুলো পাড়তে’ বাধ্য করেন। একই দিন ওমানের মাস্কাট থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় আসেন মোসলেম উদ্দিন নামের এক যাত্রী। তার আচরণে সন্দেহ হলে পেটে এক্স-রে করে সোনার বারের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। মোসলেম উদ্দীনকেও ওষুধ খাইয়ে ৮টি ‘সোনার ডিম’ পাড়তে বাধ্য করা হয়। বাংলাদেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সোনা পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে বছরের পর বছর ধরে। অতি সম্প্রতি তল্লাশি কিছুটা জোরদার হওয়ায় পাচারের কৌশলে পরিবর্তন এনেছে সোনা চোরাচালানিরা। সোনার বার গিলে ফেলে পেটে করে সোনা পাচারের কৌশলকে কাজে লাগাচ্ছেন তারা। বেচারাদের কপাল মন্দ শুল্ক গোয়েন্দাদের সতর্কতায় তাদের সে কৌশল মাঠেমারা যাচ্ছে। আমরা আশা করব এ সাফল্যে আত্মপ্রসাদ লাভ না করে শুল্ক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সোনা ও মাদক পাচার রোধে আরও কঠোর হবেন। সোনা ও মাদক চোরাচালানের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহূত ভাড়া খাটা লোকজন শুধু নয়, নেপথ্যের হোতাদের আইনের আওতায় আনতে সচেষ্টা হবেন, এমনটিও প্রত্যাশিত।



এই পাতার আরো খবর