ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৮

আজকের পত্রিকা

ঘুষ দুর্নীতি থেকে দূরে থাকতে হবে
মাওলানা আশরাফ আলী

ঘুষ একটি অভিশাপের নাম। সব আমলেই এই অভিশাপের অস্তিত্ব ছিল। আমাদের দেশে বর্তমানে এটি এক মহাঅভিশাপ, পুরো জাতি যার শিকার। ইসলামে ঘুষ চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনের সূরা আল-বাকারার ১৮৮ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করা হয়েছে— ‘তোমরা অন্যায়ভাবে একে-অপরের সম্পদ ভোগ কর না এবং জনগণের সম্পদের কিয়দংশ জেনেশুনে পাপ পন্থায় আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে শাসক কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিও না।’

উপরোক্ত আয়াতে অন্যায়ভাবে অপরের সম্পদ ভোগ করার যে বিষয়টি উলেস্ন্লখ করা হয়েছে, তা ঘুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন ঘুষদাতা, ঘুষ গ্রহীতা, উভয়ের মাঝে মধ্যস্থতাকারী, সবার ওপর আল্লাহ লানত (আল-মুজামুল কবির লিত্তাবরানী)।

দায়িত্বশীল যে ব্যক্তিকে সাধারণ মানুষের সেবাদানের জন্য সরকারের কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে, সে সেবাদানের বিনিময়ে কারও কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করলে তা ঘুষ হিসেবে বিবেচিত হবে। কেউ অন্যায় বা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার জন্য কাউকে অর্থ দিলে সেটিও ঘুষের পর্যায়ে পড়বে। ঘুষ মানুষের নৈতিক অবক্ষয় ডেকে আনে। মানুষ তার সুবুদ্ধি ও সুবিবেচনা হারালেই কেবল কাউকে ঘুষ দিয়ে অবৈধ কাজ করিয়ে নিতে পারে কিংবা কারও কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে তাকে অবৈধ সুবিধা দিতে পারে। বৈধ সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রেও কেউ যদি অবৈধভাবে অর্থ বা ঘুষ আদায় করে সেটিও মহা অন্যায়। হজরত আমর ইবনুল (রা.) বর্ণনা করেন, আমি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি— যখন কোনো জাতির মাঝে সুদের ব্যাপক প্রচলন হয়ে যায় তখন তারা দুর্ভিক্ষে পতিত হয়। আর যখন তাদের মাঝে ঘুষের আধিক্য দেখা দেয়, তখন তারা শত্রুর ভয়ে ভীত হয়ে পড়ে (মুসনাদে আহমাদ)।

ঘুষ আদান-প্রদানের মাধ্যমে মানুষের সামাজিক সম্পর্কে ফাটল ধরে। এক মানুষের প্রতি অন্য মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসে ব্যত্যয় ঘটে। এটি এমন এক জুলুম যাতে দুর্বল ও নিঃস্ব মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যে কারণে আল্লাহর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুষ দেওয়া-নেওয়া উভয়কেই হারাম ঘোষণা করেছেন। ঘুষ দেওয়া-নেওয়ার মধ্যে রয়েছে আল্লাহর অবাধ্যাচরণ। যারা এ অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত আখিরাতের দিনে তাদের জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে। অন্য মানুষের হক কেড়ে নেওয়ার জঘন্য অপরাধে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ঘুষের অভিশাপ থেকে রক্ষা করুন।

লেখক : ইসলামী গবেষক।



এই পাতার আরো খবর