ঢাকা, রবিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৮

আজকের পত্রিকা

ফারুকীর ‘ডুব’ নিষিদ্ধ
ডুব সিনেমার প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা ও ইরফান খান

মোস্তফা সারয়ার ফারুকী পরিচালিত ডুব চলচ্চিত্রটি নিষিদ্ধ করেছে সেন্সর বোর্ড। এমন খবর ভারতের গণমাধ্যমে প্রকাশের পর পরিচালক জানালেন ঘটনা সত্য। এর আগে ভারতীয় গণমাধ্যম ও পরে বাংলাদেশি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়, প্রয়াত লেখত হুমায়ুন আহমেদের জীবনী নিয়ে নির্মিত হয়েছে ছবিটি। পরিচালক ফারুকী এ অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছেন। সেন্সরে জমা পড়ার পর ‘ডুব’ সঠিক ভাবে যাচাই-বাছাই করার জন্য সেন্সর বোর্ডকে চিঠি দিয়েছিলেন অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন। এবার তথ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে আটকে গেল ডুব। আরও জানাচ্ছেন- রণক ইকরাম সেন্সর বোর্ড ছবিটি আটকে দেয়ায় বিতর্কের মোড় ঘুরে গেছে। আগে থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল, এতে ইরফান খান অভিনয় করছেন হুমায়ূন আহমেদের চরিত্রে। এ ছাড়াও মেহের আফরোজ শাওন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ভারতের পার্ণো মিত্র, গুলতেকিন খান চরিত্রে দেশের রোকেয়া প্রাচী এবং শীলা আহমেদের চরিত্রে তিশা। ছবিটি প্রযোজনা করেছে বাংলাদেশের জাজ মাল্টিমিডিয়া ও কলকাতার এসকে মুভিজ। সহ-প্রযোজক হিসেবে আছেন ইরফান খান।

 

এই চিঠির কোনো আইনগত ভিত্তি নেই — মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

ডুব’ ছবিতে হুমায়ূন আহমেদের জীবনকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি ও তার পরিবারকে হেয় করার অভিযোগ করে সেন্সর বোর্ডকে চিঠি দিয়েছিলেন অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন। এর পরপরই ভারতীয় গণমাধ্যমে ডুব নিষিদ্ধ করার খবর বেরোয়। এ প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ছবির পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘আপাতত যা শুনেছেন, ঘটনা সত্য। তবে রবিবার থেকেই আমরা আইনি লড়াইয়ে যাবো।  যা করা হয়েছে এটা সম্পূর্ণ বেআইনি।’ বিস্তারিত জানতে চাইলে ফারুকী বলেন, ‘আমরা মার্চে নিয়ম মেনে যৌথ প্রযোজনার জন্য গঠিত বিশেষ কমিটির কাছে স্ক্রিপ্ট জমা দিই। রিডার্স প্যানেল তা পরে মার্চের ১২ তারিখ অনুমতিপত্র দেয়। তার ভিত্তিতে আমরা ছবির শুট করি। ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ নিয়ম অনুযায়ী যৌথ প্রযোজনার প্রিভিউ কমিটি ছবিটি দেখে। ১৫ তারিখ তারা অনাপত্তি পত্র দেয়। এর একদিন পরই একই কমিটি আমাদের চিঠি দিয়ে জানায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশক্রমে গতকাল ইস্যু করা অনাপত্তিপত্র স্থগিত করা হলো। আশ্চর্যের বিষয়, সেখানে কোনো কারণ পর্যন্ত ব্যাখ্যা করা হলো না।’ ‍বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে পরিচালক বলেন, ‘কার্যত আমাদের ছবিটি এখন আটকে গেল। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, এই সাসপেনশন সাময়িক। এটা বেআইনি কাজ হয়েছে। যে বা যারা সরকারের কাঁধে বন্দুক রেখে নিজের ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটানোর চেষ্টা করেছেন, তারা কেবল সরকারকে বিব্রতই করছেন।’ ফরুকী বলেন, ‘আমরা আইনের কোনো লঙ্ঘন করিনি। তাই তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাইব এ আদেশের পেছনে কারণ কী। আমরা বিশ্বাস করি, এ আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হবে।’ আপত্তি নয়, আশঙ্কা থেকেই চিঠি দিয়েছি — মেহের আফরোজ শাওন

‘ডুব’ নিয়ে চিঠি প্রসঙ্গে শাওন সবার আগে একটি বিষয় পরিষ্কার করতে চাইলেন। বললেন, ‘আমি কিন্তু আপত্তি করিনি। আশঙ্কা জানিয়েছি। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ছবির পাত্র-পাত্রীর বক্তব্য থেকে জানা যায় গল্পটি কিংবদন্তি লেখক হুমায়ূন আহমেদের জীবনের। আমার আশঙ্কা এখানেই।’ শাওন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ পাশের বাড়ির ভাবি নন যে তার জীবনের সঙ্গে কাকতালীয়ভাবে গল্প মিলে যাবে। আমি কোনোভাবেই চাইব না বাংলাদেশের জনপ্রিয় এবং কিংবদন্তি লেখকের জীবনের স্পর্শকাতর অংশকে বাণিজ্যিক কারণে কেউ ভুলভাবে তুলে ধরুক।’ নিজের অবস্থান তুলে ধরে শাওন বলেন, ‘নির্মাতা ফারুকী এবং ব্যক্তি ফারুকীর সঙ্গে আমার কোনো দ্বন্দ্ব নেই। কোনো অভিযোগও নেই। আমি শুধু চাই আমার স্বামী এবং তার জীবনের কোনো স্পর্শকাতর ঘটনা বা রিউমার যেন সিনেমার মতো শক্তিশালী মাধ্যমে ভুলভাবে উঠে না আসে।’ শাওন আরও বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ ও তার পরিবার নিয়ে কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করলে সেটা মেনে নেওয়া হবে না। কেবল আমি কেন, সমাজের কেউই মেনে নেবে না। সেই আশঙ্কা থেকেই সেন্সর বোর্ডের কাছে বিষয়টি জানিয়েছি।’



এই পাতার আরো খবর