ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৮

আজকের পত্রিকা

সত্যিই অভিশপ্ত সিনেমা 'দি ওমেন'!
অনলাইন ডেস্ক

ছবির মূল সুরটিই ছিল ধ্রুপদী হরর-এর। কিন্তু এর বাইরে আরও কিছু ঘটনা এই ছবিকে ঘিরে ঘটে যায়, যার ব্যাখ্যা পাওয়া আজও যায়নি। যে সিনেমাটিকে অনেকেই অভিশপ্ত বলে মনে করেন।

১৯৭৬-এ মুক্তি পায় মার্কিন-ব্রিটিশ যৌথ প্রযোজনার হরর ছবি ‘দি ওমেন’। রিচার্ড ডোনার পরিচালিত এই ছবিটি পরবর্তীকালে কাল্ট মুভি-র মর্যাদা পায়। গ্রেগরি পেক, লি রেমিক, ডেভিড ওয়ার্নার অভিনীত এই ছবি দেখতে বসলে আজও থমকে যেতে হয়। নিঃশব্দে কখন আতঙ্ক গ্রাস করে দর্শককে, টের পাওয়া যায় না। এক দম্পতি আর তাদের এক শিশুপুত্রকে নিয়ে এক সুখের সংসার কীভাবে তছনছ হয়ে যায় অতিপ্রাকৃতের প্রকোপে, তা-ই ছিল এই ছবির বিষয়বস্তু। একটা পর্যায়ে গিয়ে দম্পতি আবিস্কার করে, তাদের নিষ্পাপ-দর্শন শিশুপুত্রটি আসলে শয়তানের প্রতিরূপ। অমিত অপ্রাকৃত ক্ষমতাধর সেই শিশুকে ঘিরে শুরু হয় একের পরে এক অমঙ্গলজনক ঘটনা। ক্রমাগত ঘটতে থাকে অপমৃত্যু। শিশু দামিয়েন যে আসলে অ্যান্টিক্রাইস্ট, সেটা টের পাওয়া যায় অনেক পরে। কিন্তু ততক্ষণে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেছে। ছবির শেষেও দামিয়েনরূপী অ্যান্টিক্রাইস্টই শেষ হাসিটি হাসে।

আদ্যন্ত 'দি ওমেন' একটি কাল্পনিক ভৌতিক ছবি। কিন্তু এর বাইরে অন্য কিছু ঘটনার কারণে সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম অভিশপ্ত ছবি হিসেবে লাল কালিতে নাম লেখা হয় এটির। ওই ছবিটির বক্স অফিস কাপানো ব্যবসা দেখে ২০১১ সালে একই নামে আরেকটি ভৌতিক ছবি নির্মিত হয়। পরিচালনা করেন লাকি ম্যাক। হয়ত ওই ধরণের ঘটনা ফের ঘটে কিনা যাচাই করার জন্য। তবে এবারের 'দি ওমেন' কিন্তু কোন অলৌকিক ঘটনার জন্ম দেয়নি।

কী সেইসব ঘটনা যে কারণে অভিশপ্ত 'দি ওমেন'?

• ছবির শ্যুটিং চলাকালীনই নায়ক গ্রেগরি পেক এক বিমান বিভ্রাটে পড়েন। আটলান্টিকের উপরে বজ্রবিদ্যুৎ-ঘটিত গোলযোগে থমকে যায় পেকের বিমান। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান নায়ক।

• এর এক সপ্তাহ পরে ছবির নির্বাহী প্রযোজক মেস নিউফিল্ডও এক বিমানবিভ্রাটে পড়েন। তার কারণও বজ্রবিদ্যুৎ-ঘটিত গোলযোগ।

• ছবির প্রযোজক হার্ভে বার্নহার্ড এই সময়ে ছিলেন রোমে। তিনিও বজ্রবিদ্যুৎ-ঘটিত গোলযোগে পড়েন।

• ইসরায়েল যাওয়ার জন্য পেকের একটি বিশেষ বিমান ধরার কথা ছিল। কোনও কারণে তিনি উড়ান বাতিল করেন। প্লেনটি ক্র্যাশ করে। যাত্রীরা কেউই জীবিত ছিলেন না।

• হল্যান্ডে ছবির ডিজাইনার জন রিচার্ডসনের গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। রিচার্ডসনের সঙ্গিনী লিজ মুর মারা যান। লিজের শরীরের আঘাতগুলি দেখে স্তম্ভিত হন জন। ছবির একটি বিশেষ দৃশ্যে অপঘাতে মৃত এক ব্যক্তির আঘাতের যে ডিজাইন করেছিলেন তিনি, হুবহু সেই আঘাতগুলিই তার সঙ্গিনীর দেহে। এখানেই শেষ নয়। দুর্ঘটনার জায়গাটায় গিয়ে জন দেখেন, কাছেই একটা নোটিশ। তাতে ওলন্দাজ ভাষায় লেখা রয়েছে— ‘ওমেন, ৬৬.৬ কিমি’। (ওমেন একটি ডাচ শহর। আর ৬৬৬ শয়তানের নিজস্ব সংখ্যা। এই সংখ্যাটি আবার ছবিতে বার বার দেখানো হয়েছিল।)

• ছবিতে ব্যবহারের জন্যে একপাল রটওয়েলার কুকুর আনা হয়েছিল। হঠাৎই একদিন কুকুরগুলি খেপে গিয়ে তাদের ট্রেনারকে আক্রমণ করে বসে।

• ছবির শ্যুটিং শুরুর কয়েকদিন আগে নায়ক গ্রেগরি পেকের ছেলে আত্মহত্যা করেন।

বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ



এই পাতার আরো খবর