ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আজকের পত্রিকা

পুলিশ হেলমেট পরা ছিল তাই চেনা যায়নি
গাইবান্ধায় সাঁওতাল পল্লীতে আগুন কেউ দিতে পারেননি সুনির্দিষ্ট তথ্য
নিজস্ব প্রতিবেদক

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লীতে পুলিশের অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন হাই কোর্টে দাখিল করা হয়েছে। গতকাল বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এবং বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু ওই প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। পরে ডিএজি সাজু সাংবাদিকদের জানান, গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লীতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিবেদন দিয়েছেন। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কিছু স্থানীয় ব্যক্তির সঙ্গে একজন ডিবিসহ তিন পুলিশ সদস্য জড়িত। কিন্তু তারা ওই সময় হেলমেট পরা অবস্থায় ছিলেন। এ কারণে তাদের নাম ও পরিচয় জানা যায়নি। ওই ঘটনায় দূর থেকে ভিডিও করা হয়েছে বলে ভিডিওতেও তাদের স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। এ ছাড়া ওই ঘটনায় তদন্ত কমিটি সাঁওতাল, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেছে। কিন্তু তারা কেউই ওই ঘটনায় জড়িতদের ব্যাপারে সুস্পষ্ট তথ্য দিতে পারেনি।

জানা গেছে, মোট ৬৫ পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদনের সঙ্গে এক হাজার এক পৃষ্ঠার আনুষঙ্গিক কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এই মামলা সংশ্লিষ্ট সবপক্ষকে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদনের কপি সরবরাহ করতে সুপ্রিম কোর্টের পেপারবুক শাখাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য মামলাটি কার্যতালিকায় আসবে। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এক সম্পূরক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর সাঁওতাল পল্লীতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। গত বছরের ৬ নভেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লীর চিনিকল কর্তৃপক্ষের জমি দখলে নিতে গিয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনায় গোলাগুলিতে তিন সাঁওতাল নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হন। সাঁওতাল পল্লীতে হামলার ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং সাঁওতালরা হাই কোর্টে তিনটি পৃথক রিট আবেদন করে।



এই পাতার আরো খবর