ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৮

আজকের পত্রিকা

মানবতাবিরোধী অপরাধ হচ্ছে মিয়ানমারে
----জাতিসংঘ
প্রতিদিন ডেস্ক

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর অত্যাচার-নিপীড়ন এবং সহিংসতার ভয়ঙ্কর সব সাক্ষ্য প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বলেছে, দেশটি ভয়ঙ্কর মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত। রাখাইন রাজ্য থেকে পালানো এক মহিলা জাতিসংঘের তদন্ত কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, তাকে যখন ধর্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছিল, তখন তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে এসে রক্ষার চেষ্টা করছিল। তখন হামলাকারীদের একজন তার মেয়েকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে।

এ ধরনের আরও ভয়ঙ্কর সব ঘটনার সাক্ষ্য-প্রমাণ জোগাড় করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতরের কর্মকর্তারা। তারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসা দুই শর বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমের সঙ্গে কথা বলেছেন। গতকাল প্রকাশ করা এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দফতর বলেছে, রাখাইনে যা ঘটছে তা স্পষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। সাক্ষ্যদানকারী রোহিঙ্গারা সেখানে হত্যা, ধর্ষণ এবং এ ধরনের অনেক সহিংসতা প্রত্যক্ষ করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, অর্ধেকের বেশি নারী বলেছেন তারা ধর্ষণ বা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। সাক্ষ্যদানকারী রোহিঙ্গারা আরও জানিয়েছেন, সেখানে অনেক রোহিঙ্গা পরিবারের সবাইকে তাদের বাড়িতে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। ধ্বংস করা হয়েছে স্কুল, মসজিদ, খেতের ফসল ও গবাদিপশু। আর এসব সহিংসতা ঘটেছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী রাখাইন রাজ্যে এক বিরাট দমন অভিযান শুরু করার পর। গত অক্টোবরে এক হামলায় তিনটি সীমান্ত ফাঁড়িতে নয় পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার পর এ অভিযান শুরু করে দেশটির সেনা ও পুলিশ বাহিনী। মিয়ানমার অবশ্য আগাগোড়াই কোনো ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা অস্বীকার করছে। কিন্তু জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলছেন, যে সাক্ষ্যপ্রমাণ তারা পেয়েছেন, তাতে তাদের মনে হচ্ছে রাখাইনে যা ঘটছে তা সম্ভবত মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং এর দায়িত্ব মিয়ানমারকে নিতে হবে।

৯২ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত : রাখাইন রাজ্যে গত অক্টোবরে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনার পর থেকে নিপীড়নের মুখে অন্তত ৯২ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন জাতিসংঘ কর্মকর্তারা। মানবিক কর্মসূচির সমন্বয়বিষয়ক জাতিসংঘ কার্যালয়ের (ওসিএইচএ) দেওয়া তথ্য উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার এ কথা বলেন জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাস্তুচ্যুত ওই মানুষদের মধ্যে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া প্রায় ৬৯ হাজার মানুষও আছেন। বাস্তুচ্যুত মানুষের বেশির ভাগই রোহিঙ্গা মুসলিম। তবে অন্যান্য সম্প্রদায়েরও কিছু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এএফপি, বিবিসি।



এই পাতার আরো খবর