ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আজকের পত্রিকা

আ-মরি বাংলা ভাষা
ভাষা ব্যবহারে পরিবার পর্যায়েও দরকার সচেতনতা
নাসরিন জাহান

ফেব্রুয়ারি মাস এলে আমাদের ভাষাপ্রীতি বেড়ে যায়। এ সময় বাংলা একাডেমির অমর একুশে বইমেলা হয়। সেখানে দেশের সৃজনশীল শিল্পসাহিত্য চর্চার একটি প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে। মূলত বই, পত্র-পত্রিকা, গণমাধ্যম এবং নিজেদের চর্চার মাধ্যমে ভাষা সচল থাকে। বাঙালিরা ভাষার জন্য সংগ্রাম করলেও দেশের সর্বত্র কিন্তু প্রমিত বাংলার ব্যবহার হয় না। আমরা ছোটবেলায় টেলিভিশনে নাটক দেখতাম। প্রতিটি নাটকে শুদ্ধ বাংলা ব্যবহূত হতো। এখন বেশ কতগুলো টেলিভিশন চ্যানেল, অনেক অনুষ্ঠান প্রচার হচ্ছে। কিন্তু বিকৃত, অশুদ্ধ বাংলার ব্যবহার হচ্ছে যত্রতত্র। আমাদের টেলিভিশন, এফএম রেডিওর অনুষ্ঠান শুনলে মনে হয় আঞ্চলিক ভাষার অনুষ্ঠান শুনছি। আমি কলকাতায় গিয়ে একটি ঘরোয়া আড্ডায় আমাদের টিভি নাটকে ব্যবহূত ভাষা নিয়ে বেশ সমালোচনা শুনি। আমার প্রশ্ন, একটি শিক্ষিত পরিবার নিশ্চয় অস্বাভাবিক বাংলা ব্যবহার করে না। ইদানীং ইংরেজি মাধ্যমে পড়া ছেলেমেয়েরা ভালো বাংলা বলতে পারে না। এটা ঘোরতর সংকট। অথচ পৃথিবীর অন্যান্য দেশ তাদের মাতৃভাষা ব্যবহারে বিশেষ সচেতন। সর্বস্তরে সচেতনতার জন্য আমাদেরও নানামুখী উদ্যোগ নিতে হবে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পরিপ্রেক্ষিত সম্পর্কে পৃথিবীর বহু মানুষ কিন্তু কোনো খবর রাখে না। এক্ষেত্রে বিভিন্ন বই, ম্যাগাজিন, তথ্যচিত্র প্রকাশ করে প্রচার করা যেতে পারে। আমাদের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যগুলো বিদেশি ভাষায় অনুবাদ করতে হবে। পৃথিবীর অন্য ভাষার অনেক নিম্নমানের অনুবাদ আমরা পড়ি। এক্ষেত্রে যারা ভিন ভাষী কিন্তু বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখেন তাদের দিয়ে অনুবাদ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে বাংলা একাডেমিসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা সংস্থাগুলো যৌথ বা একক উদ্যোগ নিয়ে অনুবাদ করাতে পারে। বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ রচনাগুলো অনুবাদের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রচার করতে হবে। আমি মনে করি সর্বজনীন গ্রহণযোগ্য বাংলা ভাষার ব্যবহারে সরকার ও মিডিয়াকে উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যদিকে ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিবার পর্যায়েও সচেতন থাকতে হবে। শিশুরা যেন মাতৃভাষা ভালোভাবে শেখে সেদিকে বাবা-মাকে বিশেষ যত্ন নিতে হবে। লেখক : কথাসাহিত্যিক।



এই পাতার আরো খবর