ঢাকা, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আজকের পত্রিকা

অর্ধেক দেবে শ্রমিক, বাকিটা প্রণোদনা থেকে
পোশাক শ্রমিকদের জন্য ক্ষুদ্র সঞ্চয় কর্মসূচি
রুকনুজ্জামান অঞ্জন

তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক-কর্মচারীকে ক্ষুদ্র সঞ্চয় কর্মসূচিতে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘একটি বাড়ি একটি খামার’, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মতোই শহরাঞ্চলে কর্মরত পোশাক কর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পোশাক শিল্প মালিক এবং শ্রমিক-কর্মচারীরা একযোগে এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। জানা গেছে, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী একজন পোশাক কর্মী প্রতিদিন যে পরিমাণ সঞ্চয় রাখবেন তার সমপরিমাণ প্রণোদনা দেওয়া হবে কল্যাণ সঞ্চয় তহবিল থেকে। আর গার্মেন্ট মালিকদের রপ্তানির বিপরীতে সরকার যে প্রণোদনা দিচ্ছে তারই একটি অংশ দিয়ে এই কল্যাণ সঞ্চয় তহবিল গঠন করার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পোশাক খাতে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারী বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এ ধরনের সঞ্চয়ী কার্যক্রম গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠিও পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে। এ ছাড়া পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক এই সঞ্চয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। জানা গেছে, প্রত্যেক পোশাক কর্মী প্রতিদিন ৫ টাকা হিসেবে সঞ্চয় করলে সমপরিমাণ অর্থ কল্যাণ সঞ্চয় হিসেবে প্রদান করার বিষয়ে একটি প্রস্তাব নিয়ে আজ অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে অনুষ্ঠেয় সভায় আলোচনা হতে পারে। এর আগে অবশ্য এ ধরনের প্রস্তাবের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংক ও মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)-এর মতামত নেওয়া হয়েছে।

মতামতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো বলেছে, পোশাক খাতে প্রদেয় প্রণোদনার ৫০ শতাংশ অর্থ সরকার পোশাক কর্মীদের কল্যাণ সঞ্চয় তহবিলে প্রদান করবে কি-না কিংবা অন্য কোনোভাবে সরকারি অনুদান প্রদানের সুযোগ রয়েছে কি-না সে বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ই প্রদান করতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বিগত বছরে পোশাক শিল্পে রপ্তানির বিপরীতে দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি সরকারের পক্ষ থেকে উৎসাহ বোনাস দেওয়া হয়েছে গার্মেন্ট মালিকদের। এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পোশাক কর্মীদের প্রাপ্য। সে কারণে ওই অর্থের একটি অংশ পোশাক শ্রমিকদের ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের বিপরীতে উৎসাহ সঞ্চয় হিসেবে এবং বাকি অর্ধেক অর্থ সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রদানের ব্যবস্থা করার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। সরকার মনে করছে, দেশের প্রায় ৪০ লাখ পোশাক কর্মীকে সমবায় সমিতির মাধ্যমে সংগঠিত করে ক্ষুদ্র সঞ্চয় কর্মসূচির আওতায় কল্যাণ সঞ্চয় অনুদান প্রদানের মাধ্যমে বিশেষ এই কার্যক্রম চালু করা গেলে তা পোশাক কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তা প্রদান করবে। পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়নেও সেটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে, যা ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবিলাতেও সহায়তা করবে। সরকারের নেওয়া এ ধরনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে পোশাক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগ পোশাক খাতে কার্যকর শৃঙ্খলা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে। তৈরি পোশাক শিল্প বিকেএমইএ-এর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। শ্রমিকদের স্বার্থে আমরা এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান বলেন, শ্রমিকদের ঘামে অর্জিত রপ্তানি আয়ের উপর সরকারের যে প্রণোদনা তার একটি অংশ অবশ্যই শ্রমিকদের প্রাপ্য। তাই এই ক্ষুদ্র সঞ্চয় কল্যাণ কর্মসূচি সঠিকভাবে কার্যকর করতে পারলে শ্রমিকদের জন্য ইতিবাক ফলাফল বয়ে আনবে বলে আমার বিশ্বাস। শ্রমিকদের চাকুরি স্থায়ীকরণ হলে এই কর্মসূচির আরো ভালো সুফল মিলবে।



এই পাতার আরো খবর