ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৮

আজকের পত্রিকা

শপথগ্রহণ ১৫ ফেব্রুয়ারি
সব দলকে নির্বাচনে আনাই চ্যালেঞ্জ : সিইসি নুরুল হুদা
রফিকুল ইসলাম রনি

নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ আছে। সবার সহযোগিতা পেলে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব। সে নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই হবে আমার প্রধান চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, দীর্ঘ চাকরি জীবনে কোনো দিন কোথাও আপস করিনি। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে কোনো আপস করব না। কোনো দিন হারিনি, এবারও হারব না।

গতকাল বিকালে টেলিফোনে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) দায়িত্ব গ্রহণের পর আগামী নির্বাচনে সব দলের আস্থা অর্জন ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। 

দায়িত্ব পালনকালে কোনো চাপ এলে নতুন কমিশনের অবস্থান কী হবে?— এমন প্রশ্নের জবাবে কে এম নুরুল হুদা বলেন, নির্বাচন কমিশন কোনো চাপের কাছে নতিস্বীকার করবে না। কোনো ব্যক্তি, দল বা প্রভাবের কাছে নির্বাচন কমিশন নত হবে না। সবার সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, দেশবাসীর সমর্থন ও সহযোগিতা নির্বাচন কমিশনকে আস্থার জায়গায় নিয়ে যেতে পারবে। সবার সহযোগিতা ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আগামী নির্বাচন সবার অংশগ্রহণে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর হবে বলে আশা করেন নতুন সিইসি।  

এক প্রশ্নের জবাবে কে এম নুরুল হুদা বলেন, আমার কাছে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব নেই। বিশেষ কোনো ব্যক্তির গুরুত্ব নেই। বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর গুরুত্ব নেই। আমার কাছে গুরুত্ব হলো ইনস্ট্রুমেন্ট। লিগ্যাল ইনস্ট্রুমেন্ট। সংবিধান ও এর অধীনে যে আইনগুলো তৈরি হয়েছে সেগুলো। নিরপেক্ষতা, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সংবিধানের ধারাকে সমুন্নত রাখব। এর বাইরে আর কিছু নেই। কোনো লোক আমার কাছ থেকে অন্যায় সুবিধা পাবে না, আশা করি আমার কমিশনের কাছ থেকেও পাবে না। বিএনপিতে ইতিমধ্যে আপনাকে নিয়ে অনাস্থার ভাব সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, আপনি জনতার মঞ্চের অন্যতম ব্যক্তি ছিলেন— এটাকে কীভাবে দেখছেন? নুরুল হুদা বলেন, তাদের মধ্যে কী ধরনের অনাস্থার ভাব তৈরি হয়েছে, তা এখনো শুনিনি। শুনতে ও বুঝতে এখনো দু-এক দিন সময় লাগবে। আর আমি জনতার মঞ্চের অন্যতম ব্যক্তি ছিলাম না। ঢাকায় যখন জনতার মঞ্চ তৈরি হয়, তখন আমি কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ছিলাম। তাহলে কীভাবে জনতার মঞ্চের লোক হলাম? 

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বকে চ্যালেঞ্জিং হিসেবে উল্লেখ করে নুরুল হুদা বলেন, এটা গুরুদায়িত্ব। জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে আমাকে নিয়োগ দিয়েছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি। দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে আমি এবং আমার কমিশন সাধ্যমতো চেষ্টা করব। আপ্রাণ চেষ্টা করব। আগামী দিনে কাজের পরিকল্পনা বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অন্য কমিশনারের সঙ্গে বসে কর্মপন্থা ঠিক করবেন জানিয়ে সাবেক এই আমলা বলেন, আমাদের নির্বাচনের জন্য একটা ছক তৈরি করতে হবে। কাজের একটা ছক তৈরি করতে হবে। কখন কোনটা করব, কী অবস্থায় আছে নির্বাচন কমিশন (বর্তমান), তা তো জানি না।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের পরিকল্পনা আছে কিনা?— জানতে চাইলে নবনিযুক্ত সিইসি বলেন, এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি। এখনো সময় আসেনি। যদি কোনো সমস্যা হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর পরামর্শ থাকলে বসতে হবে। ভবিষ্যতে সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন অনেক সমৃদ্ধ। এত বছরে একটা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, ভিত্তি তৈরি হয়ে গেছে। সেটাকে ব্যবহার করলে আমার মনে হয় কোনো অসুবিধা হবে না। অনেক সুন্দর নির্বাচন এদেশে হয়েছে। এদেশের মানুষ এবং এই নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে। তাহলে ভবিষ্যতে হবে না কেন? মাঠ পর্যায়ের পুরনো অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে উল্লেখ করে সিইসি কে এম নুরুল হুদা বলেন, এটা অনেকভাবে কাজে আসবে। এটাই তো আমার অ্যাসেট। রিটার্নিং অফিসার হিসেবে কাজ করেছি, সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে কাজ করেছি, নির্বাচনের সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করেছি জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোতে। সুতরাং এটা আমার জন্য বড় ধরনের একটা অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আমাদের বক্তব্য, সেখানে কোনো রকম পক্ষপাতিত্ব হবে না। নিরপেক্ষ থাকবে, নিরপেক্ষ থাকব। রাজনৈতিক দল কীভাবে কী কাজ করবে সেটা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব না। তারা তো আমাদের কথাতে কর্মসূচি দেবে না, তাদের কর্মকাণ্ডও ঠিক করবে না। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হবে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ। এখানে কোনো পক্ষপাতিত্ব থাকবে না।



এই পাতার আরো খবর