ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৮

আজকের পত্রিকা

বাংলাদেশ-ভারত টেস্ট
ফলোঅন এড়াতে পারবে টাইগাররা?
মেজবাহ্-উল-হক

মুশফিকদের লজ্জায় ডুবিয়ে হায়দরাবাদ টেস্টে কোহলিরা ৬৮৭ রানে ইনিংস ঘোষণা করেছে। শেষ বিকালে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে স্কোর বোর্ডে ৪১ রান যোগ করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু হারাতে হয়েছে এক উইকেট। টাইগাররা এখনো প্রথম ইনিংসে ভারতের চেয়ে ৬৪৬ রানে পিছিয়ে। লিড নেওয়া তো দুঃস্বপ্ন, মুশফিকরা কি ফলোঅন এড়াতে পারবেন? ফলোঅন এড়াতে আরও ৪৪৭ রান করতে হবে বাংলাদেশকে। হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে গতকাল ডবল সেঞ্চুরি করে  অনন্য এক মাইলফলকে পৌঁছে গেছেন ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি। টানা চার সিরিজে ডবল সেঞ্চুরি— টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন রেকর্ড আর কারও নেই। টানা তিন সিরিজে ডবল সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল স্যার ডন ব্রাডম্যান ও রাহুল দ্রাবিড়ের। এবার তাদের টপকে গেলেন কোহলি। ২০১৬ সালের জুনে অ্যান্টিগায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ডবল সেঞ্চুরি দিয়ে শুরু। তারপর ইন্দোর ও মুম্বাইয়ে, সবশেষ গতকাল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দ্বিতক দিয়ে রেকর্ডবুকে নাম লেখালেন। গতকাল কোহলির পর সেঞ্চুরি করেছেন ভারতের উইকেটরক্ষক ঋদ্ধিমান সাহাও। তাদের ভয়ঙ্কর ব্যাটিংয়ে ম্যাচটি হাতে মুঠোয় নিয়েছে স্বাগতিকরা। গতকাল কোহলিরা তাদের টেস্ট ইতিহাসে পঞ্চম সর্বোচ্চ স্কোর করেছে। তবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো দলের এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর। ২০১৪ সালে ঢাকায় মুশফিকদের বিরুদ্ধে ৬ উইকেটে ৭৩০ রান করে ইনিংস ঘোষণা করেছিল শ্রীলঙ্কা—সেটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় দিন শেষে হায়দরাবাদ টেস্টে ভারত চালকের আসনে বসলেও এই টেস্ট বাঁচানোর স্বপ্ন কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি। কেবল সব ভুলে ব্যাটিং করতে হবে ঠাণ্ডা মাথায়। তাহলেই সম্ভব। যদিও শেষ বিকালে সৌম্য সরকারের উইকেটটি অপচয় করেছে বাংলাদেশ। তাই আজ শুরু করতে হবে আরও সতর্কভাবে। তা ছাড়া শুরুতে উইকেট হারিয়েছিল ভারতেরও। তাই হতাশ না হয়ে এখান থেকেই অনুপ্রেরণা নিতে পারেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু টেস্টে টাইগারদের সমস্যা অন্য জায়গায়, দ্বিতীয় দিনের পর থেকে খেলায় মনোযোগ হারিয়ে ফেলেন তারা। যে কারণে ওয়েলিংটনে প্রথম ইনিংসে ছয় শতাধিক রান করেও হারতে হয়েছিল। কিন্তু হায়দরাবাদ টেস্টে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে দিতে হবে ধৈর্যের পরীক্ষা। সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবেন কি টাইগাররা? নাকি আজই নিশ্চিত হয়ে যাবে আরও একটি ইনিংস পরাজয়ের রূপরেখা!



এই পাতার আরো খবর