ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৮

আজকের পত্রিকা

হায়দরাবাদে বাংলাদেশের দিন
ঐতিহাসিক টেস্ট
মেজবাহ্-উল-হক

টেস্ট ক্রিকেট এমনই। ক্ষণে ক্ষণে বদলে ফেলে রূপ। সকালে কাল-বৈশাখী ঝড় তো বিকালে ফাল্গুুনী হাওয়া! হায়দরাবাদ টেস্টের তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল হতাশা দিয়ে, শেষটা হয়ে গেল আনন্দময়। বাংলাদেশের দুই ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটে হায়দরাবাদ টেস্টের তৃতীয় দিনটা নিজের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ভারতের ৬৮৭ রানের জবাবে তৃতীয় দিন শেষে টাইগারদের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩২২ রান। এখনো ভারতের চেয়ে ৩৬৫ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ, ফলোঅন এড়াতে দরকার আরও ১৬৬ রান। তারপরেও এখন ড্র-র স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।

গতকাল তৃতীয় ওভারেই তামিম ইকবালের রান আউট হওয়ায় দিনটা শুরু হয়েছিল অশনি সংকেত দিয়ে। তারপর সঙ্গে যোগ হয় মুমিনুলের লেগ বিফোর। মাত্র ৬৪ রানে তিন উইকেট হারিয়ে যেন খাদে পড়ে যায় বাংলাদেশ। সেখান থেকে শক্ত হাতে দলের হাল ধরলেন সাকিব আল হাসান। টেস্ট খেললেন ওয়ানডে ম্যাজাজে—তুলোধুনা করে ছাড়লেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের। মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে জুটিটা ইঙ্গিত দিচ্ছিল ওয়েলিংটনের সেই ৩৫৯ রানের ঐতিহাসিক জুটিকে। পার্টনারশিপে সেঞ্চুরির পর সাকিব নিজেও শতকের পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু একটুখানি বোকামিতে সব শেষ করে দেয়। অশ্বিনের বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ৮২ রানের মাথায় আউট হয়ে যান। সাকিব-মুশফিকের ১০৭ রানের জুটি ভাঙার পর আবারও বিপদের গন্ধ পায় বাংলাদেশ। সাব্বির রহমান উইকেটে গিয়ে ভরসা দিতে পারেননি। মুশফিকের সঙ্গে তার জুটিতে ১৯ রানের বেশি আসেনি। টাইগারদের শেষ স্বীকৃত জুটি ভাঙার পর মনে হচ্ছিল তৃতীয় দিনেই নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে নামতে হতে পারে বাংলাদেশকে। কিন্তু শেষ বিকালে সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে মুশফিকের সঙ্গে জাদুকরি ব্যাটিং উপহার দিলেন মিরাজ। তুলে নিলেন নিজের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের কনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে হাফ সেঞ্চুরি করার রেকর্ডটাও নিজের করে নিলেন। শেষ পর্যন্ত মিরাজ ৫১ রানে অপরাজিত ছিলেন। মুশফিক নটআউট রয়েছেন ৮১ রানে। ৮৭ রানের অবিচ্ছিন্ন। আজ এই জুটির ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে টেস্টের ফল।

 



এই পাতার আরো খবর