ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আজকের পত্রিকা

গ্যাসের দাম বাড়ছে পয়লা মার্চ থেকে
দুই ধাপে এক চুলা ৯০০ দুই চুলা ৯৫০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসছে মার্চের ১ তারিখ থেকে গ্রাহক পর্যায়ে আবারও বাড়তে যাচ্ছে গ্যাসের দাম। তবে এবার দুই দফায় গড়ে ২২.৭ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে আবাসিকের গ্রাহকদের চুলার জন্য দুই ধাপে বৃদ্ধি পাচ্ছে ৩০০ টাকা। গতকাল বিকালে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কার্যালয়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। বিইআরসির চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের জানান, দাম বাড়ার ফলে আবাসিক খাতে এক চুলার জন্য গ্রাহকদের ৭৫০ টাকা এবং দুই চুলার জন্য ৮০০ টাকা করে দিতে হবে। আর দ্বিতীয় ধাপে জুন থেকে আবাসিক খাতে এক চুলার জন্য ৯০০ টাকা এবং দুই চুলার জন্য ৯৫০ টাকা দিতে হবে। এত দিন আবাসিকের গ্রাহকরা এক চুলার জন্য ৬০০ এবং দুই চুলার জন্য ৬৫০ টাকা করে দিতেন। ২০১৫ সালে ১ সেপ্টেম্বর থেকে বিইআরসি বর্ধিত এ দাম কার্যকর করে। এর আগে এক চুলার জন্য গ্রাহকরা ৪০০ আর দুই চুলার জন্য ৪৫০ টাকা করে দিতেন। তবে শুধু আবাসিকেই নয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার কারখানা, সিএনজি, শিল্প,বাণিজ্য, চা-বাগানসহ সব শ্রেণির গ্রাহকের ক্ষেত্রেই গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর গ্যাসের দাম বাড়ানোর নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে মার্চের প্রথম দিন থেকে বিদ্যুতের দাম ভোক্তা পর্যায়ে ২ টাকা ৮২ পয়সা থেকে বৃদ্ধি করে ২ টাকা ৯৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্যাপটিভ পাওয়ারে ৮ টাকা ৩৩ পয়সা থেকে বৃদ্ধি করে ৮ টাকা ৯৮ পয়সা করা হয়েছে। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বিদ্যুতের দাম ১১ টাকা ৩৪ পয়সা থেকে ১৪.২০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং শিল্প খাতে ৬ টাকা ৭৪ পয়সা থেকে বৃদ্ধি করে ৭ টাকা ২৪ পয়সা করা হয়েছে। ক্রমান্বয়ে দ্বিতীয় ধাপে বিদ্যুৎ ৩ টাকা ১৬ পয়সা, ক্যাপটিভ পাওয়ার ৯ টাকা ২২ পয়সা, বাণিজ্যিকে ১৭ টাকা ৪ পয়সা এবং শিল্প খাতে ৭ টাকা ৭৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে সিএনজির দাম মার্চে প্রতি ঘন মিটার ৩৮ এবং জুনে ৪০ টাকা করা হচ্ছে। আর সারের ক্ষেত্রে ২ টাকা ৫৮ পয়সা থেকে বৃদ্ধি করে প্রথম ধাপে ২ টাকা ৬৪ পয়সা এবং দ্বিতীয় ধাপে ২ টাকা ৭১ পয়সা করা হচ্ছে। চা-বাগানে ৬ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে প্রথম ধাপে ৬ টাকা ৯৩ পয়সা এবং দ্বিতীয় ধাপে ৭ টাকা ৪২ পয়সা করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিইআরসি আইন, ২০০৩-এর ধারা ২২(খ) ও ৩৪-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কমিশন ভোক্তা পর্যায়ে গ্রাহক শ্রেণিভিত্তিক অভিন্ন মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ করেছে, যা গড়ে ২২ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এটি দুই ধাপে কার্যকর হবে। এতে বিইআরসির চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম ছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিইআরসির সচিব মো. ফয়জুর রহমানসহ সংস্থাটির সদস্যরা। সর্বশেষ বিইআরসি কর্তৃপক্ষ গ্যাসের দাম গড়ে ২৬ দশমিক ২৯ পয়সা বাড়িয়েছিল। গ্যাসের দাম বাড়ানোর জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানির প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর ৭ থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত গণশুনানি হয়। এর ভিত্তিতে গতকাল মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক— মির্জা ফখরুল : গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক ও গণবিরোধী বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকারকে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসারও দাবি জানিয়েছেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যায় গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তাত্ক্ষণিক এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এ দাবি করেন। তবে সরকারের এ সিদ্ধান্তে কোনো কর্মসূচি নেই বিএনপির।

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, জনগণকে জিম্মি করে বেপরোয়া লুটপাটের জন্য গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জনগণ এ সিদ্ধান্ত মানবে না। আমরা গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধিতে সরকারের এহেন অনৈতিক, অযৌক্তিক, গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিলের জোর দাবি জানাচ্ছি। তিনি বলেন, মোটা বাজেটের অর্থ জোগান দিতে জনসমর্থনহীন সরকার জনগণের পকেট কেটে বলগাহীন রাজস্ব আহরণের জন্য বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। জনগণকে জিম্মি করে রাজস্ব আদায়ের সরকারি এ সিদ্ধান্ত দেশের মানুষ মেনে নেবে না। মির্জা ফখরুল বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে স্বাভাবিকভাবেই দেশবাসীর নাভিশ্বাস অবস্থা। এর মধ্যে আবার গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে। এতে জনসাধারণের কষ্ট আরও বাড়ানো হলো। এ সময় মির্জা ফখরুলের সঙ্গে সাবেক সচিব আ ন হ আখতার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তে প্রতিবাদ : গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। গৃহস্থালি, শিল্প কারখানাসহ সব গ্যাসের দাম দুই দফায় বৃদ্ধি করায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন। তারা বলেছে, এতে দরিদ্র মানুষের জীবনের ব্যয়ভার বৃদ্ধি পাবে। আর ‘গণবিরোধী’ এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি আজ বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেছেন বলে এক বিবৃতিতে জানান।

 এ ছাড়া বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এ সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, এর মাধ্যমে দেশের গণপরিবহনে নৈরাজ্য সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা আছে। এজন্য তারা জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় এনে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করার জন্য বিইআরসির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।



এই পাতার আরো খবর