ঢাকা, রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আজকের পত্রিকা

অসহনীয় হাঁচি থেকে স্বস্তি পেতে...

হাঁচি হলো এক প্রকার শারীরিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে শরীর থেকে উদ্দীপক বা উত্তেজক বস্তু অপসৃত হয়। অ্যালার্জি আক্রান্তরা উত্তেজক রাসায়নিক পদার্থ যেমন : হিস্টামিন নাক দিয়ে নির্গত হওয়ার সময় হাঁচি দেয়। কিছু স্পর্শকাতর দ্রব্য যেমন ধুলাবালি, পশুপাখি বা ফুলের পরাগের সংস্পর্শে এলে নাকের অ্যালার্জি আক্রান্তদের এ সমস্যাটি হয়। এমনকি তীব্র গন্ধ, তাপমাত্রার পরিবর্তনেও। বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে ফুলের পরাগের জন্য অ্যালার্জির কারণে হাঁচি হয়। প্রায় যে কোনো জিনিসই যা নাকে উত্তেজনা সৃষ্টি করে তার কারণে হাঁচি হতে পারে।

সাধারণ হাঁচির উৎপাদকসমূহ : * মাইট (যা পুরনো ধুলাবালিতে থাকে) * মোল্ড * ফুলের রেণু বা পরাগ * ঠাণ্ডা এবং শুষ্ক আবহাওয়া * ঘরের ধুলাময়লা * প্রাণীর পশম এবং চুল * ওষুধসহ কিছু রাসায়নিক দ্রব্য * প্রসাধনসামগ্রী * উগ্র সুগন্ধী বা তীব্র দুর্গন্ধ।

হাঁচি একটি অ্যালার্জিজনিত রোগ। কারও কারও ক্ষেত্রে সামান্যতম সমস্যা হলেও আবর কারও কারও ক্ষেত্রে দুর্বিষহ জীবন। হাঁচির সঙ্গে সম্পৃক্ত রোগ হলো অ্যালার্জিক রাইনাইটিস ও অ্যাজমা।

হাঁচি হলো এবং নাক দিয়ে পানি পড়ল, এটা কোনো রোগ হলো? প্রথম প্রথম কেউই এ লক্ষণগুলোকে রোগ বলে মনে করেন না। প্রায় সময় যখন অনবরত হাঁচি বা নাক বন্ধ হয়ে যায় তখন এ লক্ষণগুলোকে রোগ হিসেবে ভাবতে শুরু করেন এবং নিজে নিজেই অথবা ওষুধের দোকানদারের সঙ্গে আলাপ করে দুই-একটি এন্টিহিস্টামিন খেতে শুরু করেন। এন্টিহিস্টামিন খেলে অবশ্য রোগের লক্ষণ কিছুটা উপশম হয়। কিন্তু যখন বারবার হয় তখন স্থানীয় যে কোনো ডাক্তার এবং পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তখন এন্টিহিস্টামিনের পাশাপাশি স্প্রে আকারে স্টেরয়েড নাকের নাসারন্ধ্রে ব্যবহার করতে বলেন। এতে অবশ্য রোগী আগের তুলনায় অনেক বেশি ভালো অনুভব করেন। কিন্তু দুঃখ হলেও বাস্তব সত্য যে, যতদিন নেসাল স্টেরয়েড ব্যবহার করেন তত দিনই ভালো থাকেন। যেই নাকের স্প্রে বন্ধ করেন তার সঙ্গে সঙ্গে না হলেও কিছুদিন পরই শুরু হয় তার সেই পূর্বাবস্থা। এগুলো হলে আপনি অ্যালার্জিজনিত রোগে বিশেষত অ্যালার্জিক রাইনাইটিস রোগে ভুগছেন ধরে নিতে হবে। এই রোগের সঠিক চিকিৎসা না নিলে পরবর্তীতে অ্যাজমায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে গড়ে ৭০-৮০ ভাগ।

এলারজেন পরিহার : যখন অ্যালার্জির সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় তখন তা পরিহার করে চললেই সহজ উপায়ে অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

ওষুধ প্রয়োগ : ওষুধ প্রয়োগ করে সাময়িকভাবে অ্যালার্জির উপশম অনেকটা পাওয়া যায়।

ইমুনোথেরাপি : অ্যালার্জি দ্রব্যাদি থেকে এড়িয়ে চলা ও ওষুধের পাশাপাশি ভ্যাকসিন বা ইমুনোথেরাপি অ্যালার্জিক রাইনাইটিস/ অ্যাজমা রোগীদের সুস্থ থাকার অন্যতম চিকিৎসা পদ্ধতি।

বিশ্বের অধিকাংশ দেশ বিশেষত উন্নত দেশগুলোতে এ পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে। আগে ধারণা ছিল অ্যালার্জি একবার হলে আর সারে না। কিন্তু বর্তমানে চিকিৎসাব্যবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। প্রথমদিকে ধরা পড়লে অ্যালার্জিজনিত রোগ একেবারে সারিয়ে তোলা সম্ভব। অবহেলা করলে এবং রোগ অনেক দিন ধরে চলতে থাকলে নিরাময় করা কঠিন হয়ে পড়ে । মনে রাখতে হবে, প্রতিকার নয় প্রতিরোধ সর্বদা উত্তম।

অধ্যাপক ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস, অ্যাজমা

বিশেষজ্ঞ, দি অ্যালার্জি অ্যান্ড অ্যাজমা সেন্টার,

পান্থপথ, ঢাকা। ফোন : ০১৭২১৮৬৮৬০৬



এই পাতার আরো খবর