ঢাকা, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আজকের পত্রিকা

শিশুর পায়ে ব্যথা হলেই বাতজ্বর নয়

‘বাতজ্বর’কে ইংরেজিতে বলে রিউমেটিক ফিভার। এটা বাচ্চাদের একটি প্রদাহজনিত রোগ। গলায় স্ট্রেপটোকক্কাস নামের অণুজীবের সংক্রমণের পর তার বিরুদ্ধে শরীরে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় তা হৃৎপিণ্ড, পিঠ, চামড়া ইত্যাদি স্থানের টিস্যুকে আক্রমণ করে প্রদাহজনিত রোগের সৃষ্টি করে।

বাতজ্বরের ঝুঁকিপূর্ণ কারা : এটা সাধারণত পাঁচ থেকে ১৫ বছর বয়সের বাচ্চাদের বেশি হয়। স্কুলের ছাত্রছাত্রী দলবদ্ধ হয়ে থাকা, কিংবা ঘনবসতিপূর্ণ জায়গায় বসবাস করলে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তবে স্ট্রেপটোকক্কাস দিয়ে গলা ব্যথা জাতীয় রোগ হওয়ার ৭-৯ দিনের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা শুরু করলে বাতজ্বর হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

বুঝবেন কী করে : আগেই বলেছি, এই বাতজ্বর মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, পিঠ, চামড়া ইত্যাদি স্থানকে আক্রমণ করে। তাই কোনো একক লক্ষণ কিংবা পরীক্ষা দিয়ে ডাক্তাররা এটা নিশ্চিতভাবে নির্ণয় করতে পারেন না। তাই অনেক গবেষণার পর একজন বিজ্ঞানী এটা নির্ণয়ের যে বৈশিষ্ট্য ঠিক করে দিয়েছেন তার অনুসারে সেটা জোনস নির্ণায়ক এবং কিছু পরিবর্তন হয়ে বর্তমানে পরিবর্তিত জোনস মানদণ্ড নামে চিকিৎসকদের জন্য অবশ্য অনুকরণীয় হয়ে আছে। এই বৈশিষ্ট্যের মধ্যে তিনি পাঁচটি মুখ্য এবং কিছু গৌণ বৈশিষ্ট্য রেখেছেন। সেই সঙ্গে থাকতে হবে স্ট্রেপটোকক্কাস সংক্রমণের প্রমাণ। মুখ্য বৈশিষ্ট্যের যে কোনো দুটি অথবা একটি মুখ্যর সঙ্গে দুটি গৌণ বৈশিষ্ট্য এবং সম্প্রতি স্ট্রেপটোকক্কাস সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে বাতজ্বর হিসেবে ধরতে হবে অন্যথায় নয়।

মুখ্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো

১. হৃৎপিণ্ডের প্রদাহ, ২. হাত ও পায়ের বিভিন্ন জয়েন্টে প্রদাহ, ৩. মস্তিষ্কে প্রদাহজনিত কাঁপুনি খিঁচুনি, ৪. চামড়ার লাল দাগ, ৫. চামড়ার নিচে আর গৌণ বৈশিষ্ট্যের মধ্যে থাকতে পারে হাত-পায়ে হালকা ব্যথা, জ্বর বেড়ে যাওয়া এবং দৈর্ঘ্য বেড়ে যাওয়া।

গৌণ বৈশিষ্ট্যের কিছু ধারণা : হৃৎপিণ্ডে প্রদাহ; শতকরা ৪০-৮০ ভাগ বাচ্চার এটা হতে পারে। হৃৎপিণ্ডের কম্পন বেড়ে যাওয়া এবং হৃৎপিণ্ড বড় হয়ে যাওয়া, অনিয়মিত স্পন্দন, বাড়তি হৃৎকম্পন দেখেও ডাক্তাররা এটা নির্ণয় করতে পারেন। ২. শতকরা ৭০ ভাগ রোগীর পায়ের হাতের বড় বড় জয়েন্টে এই প্রদাহ থাকতে পারে। যার ফলে জয়েন্টগুলো ব্যথা করে ও ফুলে যায়। সাধারণত মাংসপেশিতে ব্যথা করে না। তাই মনে রাখতে হবে পায়ের ব্যথা কিংবা পায়ের মাংস ব্যথা হলেই বাতজ্বর এমনটি ঠিক নয়। উপরে উল্লিখিত রোহানের এই পায়ে ব্যথার কারণ হলো ‘গ্রোয়িং পেইন’ নামক সাধারণ একটি সমস্যা। ব্যথার নামটি ‘গ্রোয়িং পেইন’ হলেও শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। শিশুর গ্রোয়িং পেইন তার দীর্ঘমেয়াদি কোনো ক্ষতি করে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গ্রোয়িং পেইন শিশুর উরুর সামনের বা পায়ের পেছনের মাংসপেশিতে হয়। কখনো হাতেও ব্যথা হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।

ডা. এম. ইয়াছিন আলী, চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালটেন্ট, ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি

হাসপাতাল, ধানমন্ডি, ঢাকা।



এই পাতার আরো খবর