ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আজকের পত্রিকা

উদ্ভাবন
ধান শুকাবে বিএইউ এসটি আর ড্রায়ার
সৈয়দ নোমান, ময়মনসিংহ

প্রচলিত পদ্ধতিতে ধানকে চাল এবং চালকে ভাত করে খাবার টেবিলে পৌঁছাতে ১৩ ভাগই অপচয় হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের দিনে ধান শুকাতে অনেক কাটখড় পোড়াতে হচ্ছে। তাই এ অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে উদ্ভাবন করা হয়েছে বিএইউ-এসটিআর ড্রায়ার। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) এর উদ্ভাবন করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্ভাবনী যন্ত্রের দাম মাত্র ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। এতে ধান শুকানোর খরচ অনেক কম। একটি ড্রায়ারে প্রতিদিন ১ টন ধান শুকানো যাবে। সারা দেশে এটি ছড়িয়ে দিলে কৃষকরা যেমন ন্যায্যমূল্য পাবেন, সেই সঙ্গে অনেক অপচয় রোধ হবে। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগ ইউএসএইড-ইউএসএ এবং ফিড দ্য ফিউচারের আওতায় ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়েজ কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় গবেষণা শুরু করে। এতে সাফল্য আসে ২০১৬ সালের মাঝামাঝিতে। যন্ত্রের নামকরণ করা হয় বিএইউ-এসটিআর ড্রায়ার। প্রকল্পের প্রধান গবেষক ড. চয়ন কুমার সাহা জানান, এ ড্রায়ার গঠিত ব্লোয়ার, ভিতরে-বাইরে খাঁচা, গরম বাতাস পরিবহন পাইপ এবং চুলার সমন্বয়ে। দেশের কয়েকটি চাতাল মিলে এ ড্রায়ার পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, এ ড্রায়ারে মাত্র তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টায় ৫০০ কেজি ধান শুকানো যাচ্ছে। আর ধান বীজের অংকুরোধগমন ক্ষমতাও ঠিক থাকছে ৯০ ভাগ। চালের গুণগত মানও ঠিক থাকছে। মাত্র দুজন লোক দিয়েই সম্ভব হচ্ছে এর পরিচালনা। প্রকল্পের ইন-কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর ড. মঞ্জুরুল আলম জানান, রোদে যদি ধান শুকাতে এক টাকা খরচ হয়, তাহলে এই যন্ত্রের সাহায্যে শুকাতে ৮৭ পয়সা লাগবে। এতে করে সময় ও শ্রম দুটিই সাশ্রয় হচ্ছে। ফলে অর্থনৈতিকভাবে এবং অপচয় রোধে এই ড্রায়ার কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।



এই পাতার আরো খবর