ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৮

আজকের পত্রিকা

ভিডিও ফুটেজ দেখে আরও দুজন আটক
সাংবাদিক শিমুল হত্যা
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সাংবাদিক শিমুল হত্যা মামলায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ আরও দুজনকে আটক করেছে। এ নিয়ে শিমুল মামলায় প্রধান আসামি পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরু ও তার দুই ভাইসহ ১২ জনকে আটক করা হলো। সন্দেহভাজন আটককৃতরা হলো— পৌর এলাকার বাড়াবিল গ্রামের আবদুল মতিনের ছেলে নজরুল ইসলাম (৪৮) ও প্রাণনাথপুর গ্রামের মৃত জেন্দার আলী ফকিরের ছেলে হযরত আলী (৪৭)। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহজাদপুর থানার ওসি (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম জানান, রাতে অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করা হয়েছে। দুপুরে কোর্টের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামি না হলেও তদন্তে ঘটনার সঙ্গে দুজন জড়িত রয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

‘এখন আমার কী হবে!’ : শিমুলের স্ত্রী নুরুন্নাহার খাতুন বলেন, ‘দেশে আরও বড় বড় সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। তাদের কারও হত্যার বিচার হয়নি। আমার তো অর্থসম্পদ নেই। আমার মানুষও নেই। আজ অনেকে আমার সঙ্গে আছেন। দুই দিন পরে কেউ থাকবেন না। তখন আমার কী হবে! এজন্য দ্রুত আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই। যখন আমার স্বামী হত্যাকারীর ফাঁসি হবে তখনই আমি শান্তি পাব।’ একই কথা বলেছেন শিমুলের ছোট বোন জনি এবং অন্যান্য স্বজন। মিরু ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা : শাহজাদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আজাদ রহমান বলেন, শিমুল হত্যাকারী মেয়র মিরু ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। তিনি জানান, ‘মিরুকে যুদ্ধের আগে থেকেই চিনি। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল ১১-১২ বছর। ওই বয়সে তিনি কীভাবে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন?’ এমপি স্বপন জানান, ‘মিরু ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তা নিশ্চিত। অর্থের বিনিময়ে জাল সনদ সংগ্রহ করে সে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে ধরা পড়েছে। শাহজাদপুরের মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে এবার তার নাম বাদ দিয়ে তালিকা পাঠানো হবে।’ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার খালেকুজ্জামান খালেক জানান, ‘ভুয়া সনদ ব্যবহার করায় নয় মাস যাবৎ মিরুর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বন্ধ রয়েছে। বয়স বাড়িয়ে তিনি মুক্তিযোদ্ধা হয়েছিলেন, যাচাই-বাছাইয়ে এটা প্রমাণিত হয়েছে।’ শিমুল হত্যার সব আলামত পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা অস্ত্রগুলো উদ্ধারে অভিযান চলছে। চাকরি হলো নুরুন্নাহারের : গুলিতে নিহত সমকালের সাংবাদিক আবদুল হাকিম শিমুলের স্ত্রী নুরুন্নাহার খাতুন চাকরি পেয়েছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এসেনশিয়াল ড্রাগসে উৎপাদন কর্মী হিসেবে তার চাকরির ব্যবস্থা করেন। শুক্রবার দুপুরে শাহজাদপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন নিয়োগপত্রটি নুরুন্নাহার খাতুনের হাতে তুলে দেন।

এ সময় শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি শফিকুজ্জামান, উপজেলা চেয়ারম্যান আজাদ রহমান, নির্বাহী অফিসার আলিমুন রাজীব, শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খাজা গোলাম কিবরিয়া, সাংবাদিক বিমল কুমার, মাসুদ পারভেজসহ শিমুলের দুই শিশু সন্তান সাদি মাহমুদ ও তামান্না উপস্থিত ছিলেন।

 



এই পাতার আরো খবর