ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আজকের পত্রিকা

দেশের বৃহত্তম শিল্পসিটি মিরসরাইয়ে
৩০ হাজার একর জমি নিয়ে বিশাল পরিকল্পনা, কর্মসংস্থান হবে ১০ লাখ লোকের
রুকনুজ্জামান অঞ্জন

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সাগর ঘেঁষে প্রায় ৩০ হাজার একর জমি নিয়ে দেশের বৃহত্তম পরিকল্পিত শিল্প সিটির প্রথম ধাপের কাজ প্রায় শেষের পথে। এখন দ্বিতীয় ধাপের অবকাঠামো নির্মাণে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। চার ধাপে পুরো অবকাঠামো নির্মাণকাজ শেষ হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম অর্থনৈতিক করিডরে এটিই হবে দেশের শিল্পোৎপাদনের প্রাণকেন্দ্র।

প্রথম ধাপের পাশাপাশি এই শিল্প সিটিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে ১০ কিমি চার লেন সড়ক উন্নয়নের কাজও চলছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী জানান, এই সরণির নামকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে। অর্থাৎ শেখ হাসিনা চার লেন সরণি দিয়ে সর্ববৃহৎ এই শিল্প সিটি যুক্ত হবে ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের সঙ্গে। শিল্প সিটির অভ্যন্তরে আরও ১৯ কিমিসহ ভিতরে ও বাইরে মিলিয়ে এই চার লেনের মোট দৈর্ঘ্য হবে ২৯ কিমি।

বেজার কর্মকর্তারা জানান, প্রায় ১৯ বর্গ কিমি আয়তনের এই শিল্পনগরী মিরসরাই ও ফেনী এ দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চলকে যুক্ত করে গড়ে তোলা হচ্ছে। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, তৈরি পোশাক, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, অটোমোবাইল, পোশাক খাতসংশ্লিষ্ট শিল্প, সিমেন্ট, জাহাজ নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি পার্ক, স্টিল মিল এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসভিত্তিক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের প্রায় কয়েক হাজার শিল্প প্লট গড়ে তোলা হবে, যার মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ১০টি ইকনোমিক জোন উদ্বোধন করেন তার একটি হচ্ছে মিরসরাই। ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে থেকে এই জোন ১০ কিমি এবং চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে মেরিনড্রাইভ রোডে এর দূরত্ব হবে ৫৫ কিমি। এ ছাড়া এই নগরীকে কেন্দ্র করে পৃথক সমুদ্রবন্দর করারও সুযোগ রয়েছে, যার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

পবন চৌধুরী জানান, প্রস্তাবিত মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলকে বহুমুখী শিল্পের জন্য একটি পরিকল্পিত ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এরই মধ্যে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় গৃহীত একটি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৫৫০ একর জমির অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ শেষের পথে। এখন দ্বিতীয় পর্বের আরও ১৩০০ একর ভূমি উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এ ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে আরও ১ হাজার ১৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে শিল্প সিটির সীমানা ঘেঁষে বেড়িবাঁধ কাম দুই লেন সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে বলেও জানান বেজার এই নির্বাহী। তিনি বলেন, সাড়ে ১৮ কিমি দৈর্ঘ্যের এই বেড়িবাঁধ সোনাগাজী হয়ে সীতাকুণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত। বেজার কর্মকর্তারা জানান, প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচিত কোম্পানির কাছে এই জোন ৫০ বছরের জন্য লিজ দেওয়া হবে, যা তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এরই মধ্যে দেশের এই শিল্প প্লট উন্নয়নের কাজ পেতে ভারতের রিলায়েন্স গ্রুপসহ চীনের বেশ কয়েকটি কোম্পানি আগ্রহ দেখাচ্ছে। দেশের বৃহত্তম এই শিল্পনগরীতে অন্তত ১০টি পৃথক অর্থনৈতিক জোন (৩০০ থেকে ৫০০ একর জমি নিয়ে) চার ধাপে গড়ে তোলা হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ভূমি উন্নয়ন, যোগাযোগ অবকাঠামো সুবিধা এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও হালকা তৈরি পোশাকশিল্পের প্লট নির্মাণ হবে। দ্বিতীয় ধাপে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সিমেন্ট, স্টিল ও ইস্পাত নির্মাণ শিল্প, অটোমোবাইল শিল্প, বস্ত্রশিল্প প্লট নির্মাণ করা হবে। তৃতীয় ধাপে হবে আইটি পার্ক, টার্ক টার্মিনাল, ওয়ার্কশপ, ওয়্যারহাউস ও এনার্জিবেইসড শিল্প পার্ক আর চতুর্থ ধাপে গ্রিন বেল্ট, ট্রেনিং সেন্টার, আবাসিক ভবন, প্রদর্শনী কেন্দ্রসহ গড়ে তোলা হবে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা।



এই পাতার আরো খবর