ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৮

আজকের পত্রিকা

বিশ্বব্যাংক ইস্যু
অশনি সংকেত দেখতে পাচ্ছে বিএনপি
নিজস্ব প্রতিবেদক

পদ্মা সেতু মামলায় বিশ্বব্যাংকের হারের পর ঋণদাতা এই সংস্থাকে নিয়ে ক্ষমতাসীন নেতাদের বক্তব্যে ‘অশনি সংকেত’ দেখতে পাচ্ছে বিএনপি। ঢাকার বিশ্বব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের কার্যক্রম এবং তাদের ১৬টি গাড়ির বিষয়ে তদন্ত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক সম্পর্কে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী থেকে শুরু করে নেতারা যেভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য রাখছেন, তা আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য অশনি সংকেত। এটা দেশের জন্য শুভ নয়, অশুভ। এতে দেশ বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখিন হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ’ সরকারের নির্দেশেই শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের সাবেক ১৬ কর্মকর্তার নামে শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে। বিশ্বব্যাংক স্বল্প সুদে বাংলাদেশকে ঋণ দেয়। বাংলাদেশে এখনো বিশ্বব্যাংকের ‘হাজার হাজার কোটি টাকা কাজ’ চলমান। দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে শুরু করে প্রতিটি খাতে তাদের বড় বড় প্রকল্প রয়েছে। এগুলো হুমকির মুখে পড়তে পারে।

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা  শাহজাদা মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, কেন্দ্রীয় নেতা আমিরুল ইসলাম খান আলিম, সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, ‘কানাডার আদালতে রায়ের পর বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে মন্ত্রী, আওয়ামী লীগ নেতাদের লম্ফ-ঝম্প ও দাম্ভিক উক্তির কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী এই সংস্থার সম্পর্কের অবনতি হতে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এতে করে দেশের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নে সংকট সৃষ্টি হতে পারে।’

রিজভী অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের সরকারের আমলে দেশ ‘দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে’ পরিণত হয়েছে। ‘এমন কোনো খাত নেই’ যেখানে দুর্নীতি নেই। ‘লুট করে’ দেশের সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ‘ফোকলা’ করে ফেলা হয়েছে। শেয়ার বাজার থেকে লক্ষ কোটি টাকা ‘লোপাট করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ’ হয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী ও আত্মীয়-স্বজনরা। ক্ষমতাসীনরা হাজার হাজার কোটি টাকা দেশ  থেকে পাচার করে সুইস ব্যাংক ভরে ফেলেছে। কানাডায় বাড়ি তৈরি করেছে, মালয়েশিয়ায় সুরম্য ভিলা বানিয়েছে। তারাই এখন নিজেদের সাফসুতরো হিসেবে জাহির করে উচ্চৈঃস্বরে চিৎকার করছেন।



এই পাতার আরো খবর