ঢাকা, রবিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৮

আজকের পত্রিকা

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ : গুজব-গুঞ্জনে উদ্বিগ্ন প্রবাসীরা
এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে

আমেরিকায় সাত মুসলিম দেশের নাগরিকদের নিষিদ্ধের প্রেক্ষিতে প্রতিদিনই নানা গুজব-গুঞ্জনে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে বাংলাদেশি প্রবাসীরাও। জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে বাংলাদেশি গ্রেফতার, হয়রানির শিকার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণকারিরা, গ্রিনকার্ডধারী একটি পরিবারকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে- এ ধরনের তথ্য হরহামেশাই ছড়াচ্ছে।

সর্বশেষ ১ ফেব্রুয়ারি গুজব রটে, জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে এক বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে। তবে এ খবর অস্বীকার করেছেন নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের পরিচালক হ্যালাম টাক। তিনি বলেন, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ জারির পর সৃষ্ট পরিস্থিতি সামলানোর জন্য আমরা জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে অবস্থান গ্রহণ করেছি। দিন-রাত ২৪ ঘন্টায় বিভিন্ন শিফটে মোট ৫০০ জন ভলান্টিয়ার কাজ করছি। এ যাবৎ ২৩৬ জনকে আমরা আইনগত সহায়তা দিয়েছি। এর মধ্যে ৭১ জনকে হেনস্থার প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়েছিল। কয়েকজনকে ডিটেনশন সেন্টারে নেয়া হয়েছিল। এই ৭১ জনের মধ্যে একজনও বাংলাদেশি ছিলেন না। যাদেরকে ডিটেনশন সেন্টারে নেয়া হয়েছিল, তার মধ্যেও বাংলাদেশি ছিলেন না।

নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের লিগ্যাল ইনিশিয়েটিভ পরিচালক ক্যামিলি ম্যাকলার বলেন, ট্রাম্পের এই নিষেধাজ্ঞার শিকার শুধুই সাত দেশের নাগরিকেরা হচ্ছেন না। মোট ২০ দেশের নাগরিকেরা এখন পর্যন্ত এ ঘটনার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ নেই। ভিকটিম হওয়া দেশগুলো হচ্ছে ইরান, ইরাক, সিরিয়া, সুদান, তুরস্ক, লিবিয়া, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, ফ্রান্স, আলজেরিয়া, জর্দান, চীন, মালয়েশিয়া, কাতার, সেনেগাল, সুইজারল্যান্ড, মিশর, গিনি ইত্যাদি। মুসলিম রাষ্ট্রের বাইরের লোকজনও ভিকটিম হচ্ছেন।

দক্ষিণ-এশিয়ান আমেরিকানদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে কাজ করে নিউইয়র্কভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা 'দেশীজ রাইজিং আপ অ্যান্ড মুভিং। সংস্থার সংগঠক কাজী ফৌজিয়া জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের ওই নির্বাহী আদেশের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশিদের মধ্যেও গভীর উদ্বেগ-উৎকন্ঠার জন্ম হয়েছে। এজন্যই নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ছে।

এমনও গুঞ্জন উঠেছে যে, দুই একদিনের মধ্যেই পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তানের নাম যুক্ত হবে নিষিদ্ধ সাত মুসলিম দেশের তালিকায়। সেই উদ্বেগে প্রবাসীরা গভীর উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় দিনাতিপাত করছেন।

আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের এটর্নী মঈন চৌধুরী, ম্যানহাটনের প্রখ্যাত একটি ল' ফার্মের বাংলাদেশি আইনজীবী মোহাম্মদ এন মজুমদার এবং এটর্নী অশোক কে কর্মকার  বলেন, যারা গ্রিনকার্ড পেয়েছেন তাদের বিচলিত হবার কোনও কারণ নেই। গ্রিনকার্ডধারীদের এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে না যাওয়াই ভালো। যারা বাইরে রয়েছেন তাদের উচিত দ্রুত আমেরিকায় ফিরে আসা। আর যাদের অভিবাসনের আইনগত অধিকার এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তাদের উচিত স্ব স্ব এটর্নীর পরামর্শক্রমে পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের পরিচালক হ্যালাম বলেছেন, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে একাধিক আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারির পর বর্ডার অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট এজেন্টদের তৎপরতা হ্রাস পেয়েছে। 

বিডি প্রতিদিন/২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭/ফারজানা



এই পাতার আরো খবর