ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আজকের পত্রিকা

চোখ থাকবে যাদের ওপর
ক্রীড়া প্রতিবেদক
মুশফিক, সাকিব, তামিম, তাসকিন

বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত। বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটি জড়িয়ে আছে রাজনৈতিকভাবে, অর্থনৈতিকভাবে, সামাজিকভাবে। অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে সাংস্কৃতি ও ক্রীড়াঙ্গনেও। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতায় ভারতের অবস্থান অবিশ্বাস্য। ভাষা ও সংস্কৃতিগতভাবে পশ্চিম বাংলার সঙ্গে আমাদের মিল হুবহু। দুই দেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, দুই দেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা একজন-কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সেই ভারতে এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। অবস্থান করছে ইতিহাস বিজড়িত হায়দরাবাদে। সেখানেই খেলবে ঐতিহাসিক টেস্ট। বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ভারত। ২০০০ সালে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের প্রতিপক্ষ ছিল ভারত। এই হায়দরাবাদেই ভারতের বিপক্ষে তাদের মাটিতে অভিষেক টেস্ট খেলছে বাংলাদেশ। হায়দরাবাদেই বাংলাদেশ নিজেদের ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম জয়টি পেয়েছিল আজ থেকে ১৯ বছর আগে ১৯৯৮ সালে। সব মিলিয়ে হায়দরাবাদের নামটি সোনার হরফে লেখা থাকবে বাংলাদেশে ক্রিকেট তথা ক্রীড়া ইতিহাসে। ৯-১৩ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি। মহাশক্তিধর ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ভরসা একক কোনো ক্রিকেটার নন। নজর থাকবে বেশ কয়েকজনের উপর।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ‘বিজ্ঞাপন’ সাকিব আল হাসান। এ দেশের ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় তারকা ক্রিকেটারও সাকিব। ভারতে বেশ পরিচিত মুখ। গত পাঁচ বছর ধরে নিয়মিত খেলছেন আইপিএলে। খেলছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সে। এছাড়া ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজের লিগগুলোতে খেলছেন নিয়মিত। বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার সাকিব টেস্ট খেলেছেন ৪৬টি। রান করেছেন ৩২১৩। সর্বোচ্চ ২১৯। উইকেট ১৬৫টি। ১৬৬ ওয়ানডেতে রান করেছেন ৪৬৫০ এবং উইকেট ২২০টি। নজরে থাকবে বাঁ হাতি ওপেনার  তামিম ইকবাল। ৪৬ টেস্টে রান করেছেন ৩৪৪৩। সর্বোচ্চ ২০৬। মুশফিকুর রহিমকে বলা হয় বাংলাদেশের সেরা ট্যাকনিক্যাল ব্যাটসম্যান। ওয়েলিংটন টেস্টে ১৫৯ রানের ইনিংসই তার প্রমাণ। বাংলাদেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান মুশফিক আবার টেস্ট অধিনায়কও। ৫১ টেস্টে তার রান ২৯২২। এই তিন তারকা ব্যাটসম্যান ছাড়াও দলের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে মাহমুদুল্লাহ রিযাদের উপর। তবে সফরে সবচেয়ে বড় তারকা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল মুস্তাফিজুর রহমানের। কিন্তু পুরোপুরি ফিট হতে পারেননি বলে হায়দরাবাদ টেস্ট খেলা হচ্ছে না ‘কাটার মাস্টার’ মুস্তাফিজের। তার অনুপস্থিতিতে নিশ্চিত করেই বলা যায়. বাংলাদেশের পেস অ্যাটাকের ধার কমেছে অনেক। সফরের চার পেসার শফিউল ইসলাম সুহাশ, কামরুল ইসলাম রাব্বি, শুভাশীষ রায় ও তাসকিন আহমেদের অভিজ্ঞতা নেই বললেই চলে। কামরুল রাব্বির ভাণ্ডারে ৪ টেস্ট, তাসকিনের দুটি ও শুভাশীষের একটি। অভিজ্ঞ বলতে শুধু শফিউল। তাও অভিজ্ঞতা মাত্র ৯ টেস্ট এবং উইকেট ১৫টি। চার পেসারের টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা ১৬টি। এমন পেস অ্যাটাক নিয়ে কতটা সাফল্য পাবে মুশফিক বাহিনী, বিরাট প্রশ্ন। তাই হায়দরাবাদ টেস্টে বাংলাদেশের ভরসা স্পিন বিভাগ।

স্পিন বিভাগ সাজানো হয়েছে সাকিব, মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামকে নিয়ে। সাকিবের ধার নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। দলের অন্যতম ভরসা মিরাজের অভিজ্ঞতা মাত্র ৪ টেস্ট। ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক সিরিজে ১৯ উইকেট নিয়ে হৈচৈ ফেলে দেন মিরাজ। তখনই বিশ্বসেরা অফ স্পিনার রবীচন্দন অশ্বিন টুইট করেন ‘মেহেদী হাসান খুব ভালো একজন স্পিনার।’ অশ্বিনের প্রশংসা পাওয়া মানেই অনেক কিছু। হায়দরাবাদ টেস্টে তার ঘূর্ণির ওপরেও নির্ভর করবে মুশফিক বাহিনীর সাফল্য। ৪ টেস্ট ক্যারিয়ারে মিরাজের উইকেট ২৩টি। তাইজুল আরেক বাঁ হাতি স্পিনার। যিনি সাকিবের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ধারাবাহিকভাবে ভালো বোলিং করে চলেছেন। ১১ টেস্টে তাইজুলের উইকেট সংখ্যা ৪৩টি। হায়দরাবাদ টেস্টে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে নজরে থাকবেন তামিম, সাকিব, মুশফিক ও মিরাজ। কোনো সন্দেহ নেই. এদের ঘিরেই পরিকল্পনা আঁকবেন বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে ‘স্পিড স্টার’ তাসকিন আলাদা নজর কাড়তে পারেন টেস্টে।



এই পাতার আরো খবর