Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৭:০১ অনলাইন ভার্সন
আপডেট :
ইবিতে কক্ষ ভাঙচুর ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নারের কাজে ছাত্রলীগের বাধা
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ইবিতে কক্ষ ভাঙচুর ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নারের কাজে ছাত্রলীগের বাধা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ বিশেষ কোটায় ভর্তি উপ-কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. সেলিনা নাসরিনের কক্ষে ভাঙচুর করেছে ছাত্রলীগ। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তিযুদ্ধ কর্নারের আসবাবপত্র তৈরির কাজ বন্ধ করে দিয়েছে তারা।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে ভাঙচুর, মরা গাছ কাটায় বাধা, আসবাবপত্র তৈরিতে বাধাসহ বিভিন্ন অরাজকতা সৃষ্টি করেছে ছাত্রলীগ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ছাত্রীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক অমিত কুমার দাসের নেতৃত্বে ৫০/৬০ জন দলীয় নেতাকর্মী ব্যবসা প্রশাসন অনুষদের যায়। তারা হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগের সভাপতি ও বিশেষ কোটায় ভর্তি উপ কমিটির আহ্বায়ক আধ্যাপক ড. শেলীনা নাসরীনের কক্ষে প্রবেশ করে। এরপর কক্ষের চেয়ার টেবিলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর চালায়। এ সময় ড. শেলীনা নাসরিন ক্যাম্পাসের বাইরে ছিলেন।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে বিভিন্ন অফিসের সামনে গিয়ে হট্টগোল করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ছাত্রলীগ। সেখান থেকে ছাত্রলীগ কর্মীরা ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান ভবনে যায় এবং ‘এফ’ ইউনিট সমন্বয়কারী ও গণিত বিভাগের সভাপতি মো. নুরুল ইসলামের কক্ষের সামনে হট্টগোল ও চিৎকার করতে থাকে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

এরপর ছাত্রলীগ কর্মীরা বিশ্ববিদ্যারয়ের বিভিন্ন জায়গায় মরা গাছ কাটার কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে কেন্দ্রীয় মসজিদের নিচে বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তিযুদ্ধ কর্নারের আসবাবপত্র তৈরির কাজ বন্ধ করে দেয় তারা। এ সময় তারা বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন। এদিকে সারা ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের হঠাৎ তাণ্ডবে শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা ভয়ে দিগ্বিদিক ছুটাছুটি করতে থাকে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. শেলীনা নাসরিন বলেন, ‘আমি ক্যাম্পাসে বাইরে ছিলাম। তবে ঘটনাটি শুনেছি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও প্রশাসনকে জানিয়েছি। সোমবারও তারা আমার দরজায় লাথি মেরেছে এবং গালিগালাজ করেছে।

ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ম্যাডামের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। আসার সময় মানুষের ভিড়ে কিছু আসবাবপত্র পড়ে গেছে। তবে ক্যাম্পাসে অনেক কাজ সুষ্টভাবে হচ্ছে না বলে আমরা তা বন্ধ করে দিয়েছি। ’

প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আসলে এটি কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তবে যারা এ ঘটনার সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হবে। ”

এদিকে, ঘটনার পরে বেলা একটার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। এসময় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক অমিত কুমার দাস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস কর্নারে এসে ভর্তি কার্যক্রমসহ বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ করে এ সংবাদ সম্মেলন করেন।

বিডি-প্রতিদিন/১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭/মাহবুব

 

আপনার মন্তব্য

up-arrow