Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৭:৪১ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২১:২৬
বাগেরহাটে মেরিন ইন্সটিটিউট বন্ধ ঘোষণা, আন্দেলনে শিক্ষার্থীরা
শেখ আহসানুল করিম, বাগেরহাট:
বাগেরহাটে মেরিন ইন্সটিটিউট বন্ধ ঘোষণা, আন্দেলনে শিক্ষার্থীরা

দুর্নীতির অভিযোগে অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে ৪ দিন ধরে শিক্ষার্থীদের লাগাতর আন্দোলনের মুখে বাগেরহাটে ইন্সটিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি অনিদৃষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. সেলিম রেজার স্বাক্ষরিত চিঠিতে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার মধ্যে সকল শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাস ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হলেও অধ্যক্ষের অপসারণের বিষয়ে কর্তৃৃপক্ষে কোন বক্তব্য না থাকায় বিকাল পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ছাত্রবাসে থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মেরিন ইন্সটিটিউটের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ ভাবে দফায় দফায় বিক্ষোভে মিছিল, অধ্যক্ষের কুশপুত্তলিকা দাহ করলেও পুলিশ ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছে।

বাগেরহাট মেরিন ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ মো. সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ১৭ দফা অভিযোগ এনে সোমবার সকাল থেকে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আন্দোলন শুরু করে। সোমবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি করে শ্লোগান দিতে থাকে এবং অধ্যক্ষের কুশপুত্তলিকা দাহ করে শান্তিপূর্ণ ভাবে লাগাতর আন্দোলন শুরু করে। 

শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের দুর্নীতির বিষয়ে জানায়, অধ্যক্ষ ছাত্রাবাসের রুমে ভাড়ার বিনিময়ে বহিরাগত লোকদের রাখেন কিন্তু কলেজের শিক্ষার্থীরা হলে সীটের অভাবে বাইরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকলে বাধ্য হচ্ছে। ইন্সটিটিউটে গ্যাস বাবদ ১ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা বাৎসরিক বাজেট থাকা সত্তেও অধ্যক্ষ জোর করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে গ্যাস বিল দিচ্ছে। ইন্সটিটিউটে পানির প্লান্ট সম্পূর্ণ হওয়া সত্তেও অধ্যক্ষ দুর্নীতির কারণে শিক্ষার্থীরা খাবার পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পানির পাম্প পরিচালনার জন্য বাজেট থাকা সত্তেও লোক নেই। ইন্সটিটিউটে ক্লিনারের পদ আছে এবং তার বেতন-ভাতা অধ্যক্ষ ক্লিনার না রেখে তার বেতন উরত্তোলন করা তা মেরে দিচ্ছে।  প্রতিবার ছাত্রদের উপবৃত্তি থেকে জোরপূর্বক টাকা কাটাসহ অধ্যক্ষ বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি করেন এবং এসব অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিবাদ করলেই টিসি দেওয়ার হুমকি দেয়া দেন। 

বাগেরহাট মেরিন ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ মো. সিরাজুল ইসলাম মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের কোন প্রশ্নেরই উত্তর না দিয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে বলে ফোন কেটে দেন। 

বিডি প্রতিদিন/এ মজুমদার

আপনার মন্তব্য

up-arrow