Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৮ জুলাই, ২০১৮ ১৩:১২ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১৮ জুলাই, ২০১৮ ১৫:১৭
জাবির সেই ছাত্রলীগ নেতাকে ঢাবিতে বান্ধবীসহ পিটুনি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
জাবির সেই ছাত্রলীগ নেতাকে ঢাবিতে বান্ধবীসহ পিটুনি
ফাইল ছবি

নানা অপকর্মে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মহিতোষ রায় টিটো এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বান্ধবীসহ পিটুনির শিকার হয়েছেন। গত শনিবার (১৪ জুলাই) ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হাতে মারধরের শিকার দুই শিক্ষার্থীর একজন তিনি।  তাকে এবং তার বান্ধবীকে হেনস্তাকারী ছাত্ররা ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী বলে জানিয়েছেন তিনি।

জানা যায়, কোন ধরনের পরিচয়পত্র ছাড়া রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ এবং নির্জন জায়গায় বান্ধবীকে নিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় বসে থাকার অপরাধে টিটুকে মারধর করে ঢাবির ছাত্রলীগ কর্মীরা। রাত সোয়া ৮ টার দিকে বান্ধবীকে নিয়ে নির্জন জায়গায় বসেছিলেন টিটো। এসময় ছাত্রলীগের কর্মীরা এসে তার বসে থাকার কারণ জানতে চান এবং পরিচয়পত্র দেখাতে বলেন। এসময় তিনি পরিচয়পত্র দিতে ব্যর্থ হন এবং নিজেকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। পরে ঢাবি ছাত্রলীগের কর্মীরা তাকে পিটিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। তবে আপত্তিকর অবস্থার কথা এড়িয়ে ঘটনার পরদিন (১৫ এপ্রিল) টিটো তার নিজের ফেসবুক একাউন্টে এ ঘটনা স্বীকার করে স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি ছাত্রলীগকে নিয়ে উপহাসও করেন। 

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে কুখ্যাতি অর্জন করেন মহিতোষ রায় টিটো। সাংবাদিক নির্যাতন, শিক্ষক লাঞ্চনা, রিকশাচালক ও ছাত্র নির্যাতন, ছাত্র হলে ছাত্রী নিয়ে রাত্রী যাপনসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন তিনি। এতসব ঘটনায় ইমেজ সংকটে পড়ে তৎকালিন শাখা ছাত্রলীগ। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের পরবর্তী (বর্তমান) কমিটিতে স্থান পাননি তিনি। 

ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হলেও একের পর এক অনৈতিক কাজের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের আবাসিক হলে গভীর রাতে এক ছাত্রীর সঙ্গে রাত্রিযাপনের সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন শাখা ছাত্রলীগের এই নেতা। ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী সোমবার গভীর রাতে মীর মোশারফ হোসেন হলে ১১০/বি নং কক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীসহ তাকে উদ্ধার করা হয়। 

এর আগে ২০১৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ইতিহাস বিভাগের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একজন রোভার স্কাউট সদস্য ও এক সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম করে টিটো ও তার অনুসারীরা। এ ঘটনায় তত্কালিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে ১ বছরের বহিষ্কার করলেও পরবর্তীতে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও ঐ বিভাগের এক অধ্যাপকের সুপারিশে তার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে প্রশাসন। 

২০১৬ সালের ৮ জুন বুধবার রাতে বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর ডটকমের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি শফিকুল ইসলামকে মারধর করে টিটো। ক্যাম্পাসে বহিরাগত এক ছিনতাইকারীকে নিরাপত্তা কর্মকর্তার হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে বাঁধা দিলে শফিকের উপর  হামলা করে মহিতোষ রায় টিটুসহ একাধিক ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী। এ ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উভয় পক্ষ থেকে বহিষ্কার করা হয় তাকে।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে মাদক ব্যবসা, ফাও খাওয়া, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। 

এ বিষয়ে মহিতোষ রায় টিটু বলেন, আমি এদের প্রত্যককে চিনি। এরা সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র ও বঙ্গবন্ধু হলের ছাত্রলীগ কর্মী। এই নিয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে কোন অভিযোগ করবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে অভিযোগ করে কোন লাভ নেই।

এদিকে ঢাবির এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাবি শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, 'ছাত্রলীগ কারো ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় নেবেনা। যে যেমন কর্মকাণ্ড করবে, সে তেমন ফল ভোগ করবে। '


বিডি প্রতিদিন/১৮ জুলাই ২০১৮/এনআরএইচ

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow