Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ১২ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ জুন, ২০১৬ ২৩:২৮
যা বলার সরাসরি বলুন
যা বলার সরাসরি বলুন

টাকা-পয়সা নিয়ে মনকষাকষি নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে অফিস কলিগদের সঙ্গে হলে তা খুবই বিব্রতকর। এ পরিস্থিতি কীভাবে সামলাতে হবে অনেক সময় তা বুঝে ওঠা কঠিন হয়ে যায়। লেনদেনের এসব ইস্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয় উটকো ঝামেলা। কীভাবে সামলাবেন এ পরিস্থিতি তা নিয়ে লিখেছেন— শামছুল হক রাসেল

 

নাক গলানো : টাকা-পয়সাসংক্রান্ত বিষয় কাজের জায়গায় কিংবা অফিস কলিগদের সঙ্গে কতটা আলোচনা করা উচিত, আমরা বেশিরভাগ সময়ই তা বুঝতে পারি না। তাই এমন কিছু প্রশ্ন, যা আদতে নাক গলানোরই নামান্তর, এমনকি এসব প্রশ্নের উত্তর বেশ খোশ মেজাজেই দিয়ে থাকি। এই প্রশ্ন-উত্তর পর্ব বন্ধ করার প্রধান রাস্তা হলো, প্রথম থেকেই বন্ধু বা কলিগদের সঙ্গে টাকা-পয়সাসংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা না করা। যদি না বুঝতে পেরে আগে আলোচনা করে থাকেন, তাহলে আর প্রশ্রয় দেবেন না। বন্ধু নতুন ব্যাগ বা জুতার দাম জিজ্ঞাসা করলে মিষ্টি হেসে বলুন, এ বিষয়ে আলোচনা করতে পছন্দ করেন না। এই সামান্য বিষয়ে আপত্তি জানালে আপনার বন্ধু, কলিগ বা পরিচিত কেউ টাকা-পয়সাসংক্রান্ত বিষয়ে যেমন আপনার স্যালারি কত, কত টাকা ইনক্রিমেন্ট হলো, হোমলোন কত জিজ্ঞাসা করার উৎসাহ হারিয়ে ফেলবেন। তাও যদি কেউ জোঁকের মতো লেগে থাকেন তাহলে বুঝতে হবে তার উদ্দেশ্য ভিন্ন।

ডোনেশনের মুখোমুখি : ভেবে বলুন তো আপনার কাছে ডোনেশন চেয়ে প্রতিদিন কয়টা ফোন আসে? যদি ভালো কোনো পজিশনে চাকরি বা ব্যবসা করেন তাহলে তো কথাই নেই। কোনো বিশেষ কারণে ফান্ড তৈরি করা খুবই প্রশংসনীয় বিষয়। আমরা প্রত্যেকেই দুই-একবার দিয়েও দিই। কিন্তু সমস্যা হয় যখন প্রায় প্রতি মাসে কোনো পরিচিত বন্ধু বা সহকর্মী ডোনেশন চায়। তাই, প্রথমবার ডোনেশন দেওয়ার সময়ই বলে দিন, এ বিষয়টিকে সমর্থন করলেও বার বার ডোনেশন দেওয়া আপনার পক্ষে সম্ভব নয়। জিজ্ঞাসা না করে অন্যের রেফারেন্স দেবেন না। এতে আপনার সম্বন্ধে অন্য বন্ধুটির ধারণা মোটেই ভালো হবে না। ভেবে দেখুন সম্মতি ছাড়া আপনার ফোন নম্বর যদি কেউ অন্যদের দেয়, তাহলে আপনার ভালো লাগবে?

ধার দেওয়া : বন্ধুকে অসময়ে ধার দিয়েছিলেন। দুই-একবার টাকা ফেরত দেওয়ার পর বন্ধুটি চুপচাপ। অথচ কিছুদিনের মধ্যেই জানতে পারলেন সে ফ্যামিলি ভেকেশনের প্ল্যান করছে। হতেই পারে আপনার বন্ধু কারও কাছ থেকে এই ট্রিপ উপহার পেয়েছেন বা পরিবারের সবাইকে আগে থেকে আশা দিয়েছিলেন বলে এখন আর বাতিল করতে পারছেন না। তাই আগে থেকে নেগেটিভ কিছু ভাববেন না। রেগে বন্ধুর সঙ্গে ঝগড়া না করে বরং টাকা ফেরত দিতে তার কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা জানতে চান। যদি দেখেন টাকা থাকা সত্ত্বেও তিনি ধার শোধ করতে দেরি করছেন, তাহলে নিজের প্রয়োজনের সরাসরি টাকা ফেরত চান। এ বিষয়ে খোলাখুলি কথা বলাই ভালো। ‘স্পষ্ট কথায় কষ্ট কম’ এ কথাটি হাতেনাতে প্রমাণিত।

কনসালটেশন ফি : আপনি হয়তো ডাক্তার, উকিল, ডায়েটিশিয়ান বা অন্য কোনো প্রফেশনাল। বন্ধুরা অনেকেই আপনার উপদেশে ভরসা রাখেন, উপকৃতও হন। কিন্তু সমস্যা হলো কখনোই ফি অফার করেন না। সমাধান একটাই। দুই-একবার বাড়িতে উপদেশ দেওয়ার পর বন্ধুকে চেম্বারে ডেকে নিন। নিজে চাইতে না পারলে সেক্রেটারিকে ফি চাইতে বলুন। বন্ধু এ বিষয়ে কিছু বললে বুঝিয়ে বলুন এটা  আপনার রোজগারও বটে।

সম্মিলিত উপহার দেওয়া : টিচার্স ডে। ছেলের স্কুলে সবাই একসঙ্গে ক্লাস টিচারকে উপহার দেবে। অন্যদের বাজেটের সঙ্গে আপনার বাজেট একেবারেই মিলছে না। কী করবেন? তাদের জানান, আপনার বাজেট থেকে উপহারের মূল্য অনেক বেশি, তাই আপনি অন্য কিছু দিতে চান। অথবা আপনার পরামর্শটা জানান। এমনও হতে পারে আপনার উপহার সবারই পছন্দ হবে। তাই এখন থেকে যা বলার সরাসরি বলুন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow