Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৪ মে, ২০১৮ ২০:৩৫ অনলাইন ভার্সন
কমলগঞ্জে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৪
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
কমলগঞ্জে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৪
bd-pratidin

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল হাকিম রাজসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সোমবার বেলা দেড়টার দিকে কমলগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছুটাছুটি করতে থাকে। আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে পুরো ক্যাম্পাস। উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর নিরাপত্তার অভাবে শিক্ষকরা দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করলে বিকেলের একাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা বাতিল করা হয়। 

কলেজ কর্তৃপক্ষ অভিযোগ, পুলিশের নিস্ক্রিয়তার জন্য ঘটনা বড় হয়েছে। গুরুতর আহত কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুল হাকিম রাজ ও ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির হোসেন মুন্নাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার বেলা ১ টার দিকে কলেজ গেইটে ছাত্রলীগের উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাকের আলী সজিব গ্রুপের মুন্না, নাইম, নাহিদসহ আরও কয়েকজনের সাথে সভাপতি রাহাত ইমতিয়াজ রিপুল গ্রুপের রাফি টিপু ও সায়েমের বাকবিতন্ডার পর সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। উভয় পক্ষ লাঠি ও চাকু নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাহাত ইমতিয়াজ রিপুল এবং সাধারণ সম্পাদক সাকের আলী সজিব উভয়েই লোক নিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন। ঘটনাস্থলে কমলগঞ্জ থানার এসআই চম্পক ধাম এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল কলেজ ক্যাম্পাসে আসলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যার্থ হয়। 

সংঘর্ষে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি গ্রুপের রাফি, সাইফুর রহমান টিপু, সোহাগ, নয়ন তানভীর, সামাদ, জয় ও সাফি আহত হয়। আর সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের সাব্বির হোসেন মুন্না, নাইম, নাহিদ, কামরুল ও রফি আহত হন। 

আহতরা কমলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। 

কমলগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ কামরুজ্জামান মিঞা বলেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। গভর্নিং বডির সভায় আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে পুলিশকে অবগত করা হলেও তারা আসতে দেরী করে। যদি পুলিশ সময়মতো আসতো তাহলে বিষয়টি বড় হতো না।
 
কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোকতাদির হোসেন পিপিএম বলেন, ’এখন পর্যন্ত আমার কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। কেউ অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেব।’

ছাত্রলীগ সভাপতি রাহাত ইমতিয়াজ রিপুল বলেন, সাধারণ সম্পাদক সাকের আলী সজিব ও জাকির হোসেন পান্না পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক কলেজের পরিবেশ অশান্ত করার জন্য হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। 

সাধারণ সম্পাদক সাকের আলী সজিব বলেন, ১৩ মে কলেজে ছাত্রদলের সাথে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ হয়। ১৪ মে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাহাত ইমতিয়াজ রিপুল ছাত্রদলের সদস্যদের সেল্টার দিয়ে ছাত্রলীগের কর্মীদের উপর হামলা করেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

বিডি-প্রতিদিন/ ই-জাহান

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow