Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৬:২৪

হেফাজতে যুবককে নির্যাতন; পরিদর্শকসহ ছয় পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

হেফাজতে যুবককে নির্যাতন; পরিদর্শকসহ ছয় পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রামে পুলিশ হেফাজতে এক যুবককে নির্যাতনের অভিযোগে এক পরিদর্শকসহ ছয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন- চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম এবং ফাঁড়িতে দায়িত্বরত কনস্টেবল মাহবুবুর রহমান, ফিরোজ মিয়া, নায়েক হামিদুর রহমান, এএসআই শীলাব্রত বড়ুয়া ও নায়েক আমির। 

মামলায় চমেক পুলিশ ফাঁড়ি ও পাঁচলাইশ থানায় কর্মরত অজ্ঞাতনামা আরও ১০ জন পুলিশ সদস্যকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। 

বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু ছালেম মোহাম্মদ নোমানের আদালতে মামলাটি দায়ের হয়। মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বাদি পক্ষের আইনজীবী শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেন, ভুক্তভোগী রওনকের ভাই ইয়াছিন সাখাওয়াত ভূইয়া আদালতে মামলাটি দায়ের করেছেন।  আদালত পিবিআইকে পরিদর্শক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তিন সদস্যের বোর্ড গঠন করে পরীক্ষার মাধ্যমে রওনকের শরীরে আঘাতের বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তদন্ত ও হাসপাতালের প্রতিবেদন ৩০ দিনের মধ্যে আদালতের দাখিলের জন্য বলেছেন আদালত।

মামলার অভিযুক্ত চমেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম জানান, রওনক কোন কারণ ছাড়াই ওই দিন পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছে। তার হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। তারা ওই হামলা থেকে রক্ষা পেতে পুলিশকে বিবাদি করে মামলা দায়ের করেছে।

দায়ের করা মামলার অভিযোগে বলা হয়- ২০ জানুয়ারি রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ জরুরী বিভাগের সামনে কয়েকজন লোকের সাথে সাদা পোশাকে থাকা পুলিশ ফাঁড়ির এক সদস্যের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় জরুরী বিভাগের পাশ দিয়ে বাসায় যাচ্ছিলেন ইয়াছিন আওয়াজ ভূইয়া রওনক। গন্ডগোল দেখে রওনক দ্রুত বাসায় চলে যাওয়ার সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে ধরে নির্যাতন করতে থাকে।

পরে পাঁচলাইশ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তখন রওনককে টেনে-হেঁছড়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নেয়া হয়। এরপর পুলিশ সদস্যরা বুট জুতা দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন। এরপর মাটিতে পড়ে গেলে অস্ত্রের বাট ও লাটি দিয়ে আঘাত করা হয়। আঘাতের ফলে মাথায় পাঁচটি সেলাই করতে হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা ফুলা জখম, হাড় ভাঙা ও রক্তক্ষরণ হয়।

বিডিপ্রতিদিন/ ২৪ জানুয়ারি, ২০১৮/ ই জাহান


আপনার মন্তব্য