Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ১৯:৩৮ অনলাইন ভার্সন
চারদিনে ১৫০ কিমি হাঁটবেন রাউজানবাসী
সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম:
চারদিনে ১৫০ কিমি হাঁটবেন রাউজানবাসী
bd-pratidin

চারদিনে ১৫০ কিমি হাঁটবেন রাউজানবাসী। ‘প্রাণের টানে পায়ে হেঁটে রাউজানের ঘরে ঘরে’ এমন স্লোগানকে সামনে রেখে আজ সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়। পায়ে হেঁটে রাউজান ভ্রমণের এ কর্মসূচিকে ঘিরে সাজ-সাজ রব উঠেছে পুরো উপজেলায়। 

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি রুটটম্যাপ অনুযায়ী সড়ক ও আশপাশের এলাকা সাজছে গোলাপি (পিংক) রঙে। সরেজমিনে দেখা গেছে, কর্মসূচির জন্য তালিকাভুক্ত কর্মীদের গায়ে শোভা পাচ্ছে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবিযুক্ত গোলাপি রঙের বিশেষ কটি (পোশাক)। গলায় ঝুলছে কার্ড। মাথায় একই রঙের ক্যাপ। চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি রুটে গহিরা ইউনিয়ন থেকে শুরু হওয়া ব্যতিক্রমী এ আয়োজনে শুধুমাত্র রাউজানের সাধারণ মানুষ এবং দলের নেতা-কর্মীরাসহ শত বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করনে। পায়ে হাঁটা কর্মসূচি শুরুর আগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

রাউজানবাসীর পায়ে হাটাঁ এ কর্মসূচীর নেতৃত্ব ও উদ্বোধন করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও রাউজানের টানা তিনবারের এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। এসময় তিনি কর্মসূচির লক্ষ্যগুলো তুলে ধরেন এবং পিংক-গ্রিন-ক্লিন রাউজান গড়ে তুলতে সকল রাউজানবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন এবং আধুনিক রাউজান গড়ে তুলতে তার কিছু স্বপ্নের কথাও বলেন। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের আরো বলেন, ২৪৩ কিলোমিটার আয়তনের একটি সংসদীয় আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি মনে করেছি এতগুলো বছরে এলাকায় যে উন্নয়ন করেছি তা দেখা। মানুষ আর কী-কী চায় এবং তাদের সুখ-দুঃখের কথা শোনা। আমার ইচ্ছে আছে ডোর-টু-ডোর যাওয়া। বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের আমলের যে উন্নয়ন সেগুলো তুলে ধরা। পাশাপাশি সরকারি উন্নয়নকাজ সঠিকভাবে হয়েছে কিনা সেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, প্রতি দিন সকাল নয়টায় হাঁটা শুরু করব। জনসংযোগ করতে করতে এগিয়ে যাবো। রাতে ত্রিপল টাঙিয়ে নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের সাথে সময় কাটাব, বিশ্রাম নেব, আলোচনা করব। সব মানুষ যাতে খেতে পারে সে ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

জানা যায়, এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে ২০১৭ সালে রাউজানে এক ঘন্টায় ৪ লাখ ৮৭ হাজার ফলদ চারা রোপণ করা হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিদিন ২৪ হাজার টাকা গাড়িভাড়া দিয়ে ১৮৩ বিদ্যালয়ের ২২ হাজার শিক্ষার্থীকে টিফিন করা, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মৎস্য চাষিরা পাহাড়ি ঢলে বার বার ক্ষতির মুখে পড়েছিল। তাদেরকে ৬ টন ধানবীজ, স্প্রে মেশিন কিনে দেয়া, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎসহ আরো ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।  তাছাড়া ‘পিংক-গ্রিন-ক্লিন’ রাউজান দেশ-বিদেশের পর্যটকদেরও আকৃষ্ট করবে। রয়েছে রাউজানে মাস্টারদা সূর্য সেনের যে ভিটি, ভাস্কর্য, আদ্যাপীঠ, মহামুনি, নবীন সেন কমপ্লেক্স, ডাকবাংলো, হালদা নদী আছে, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), রাবার বাগানও।  সম্প্রতি ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি মাস্টারদা সূর্য সেনের ভিটি পরিদর্শন করে গেছেন। বর্তমানে প্রতিদিন প্রচুর পর্যটক আসেন। সব মিলে ব্যাপক পর্যটন সম্ভাবনাও রয়েছে।

এ কর্মসূচিতে রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, প্যানেল মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য এমএ ওহাবসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাসহ রাউজানের সর্বস্তরের মানুষ।

বিডি প্রতিদিন/ মজুমদার

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow