Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ২৩:২৩ অনলাইন ভার্সন
শিক্ষা বিভাগে স্বচ্ছতার প্রশ্নে কঠোর অবস্থানে নাছির
সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম
শিক্ষা বিভাগে স্বচ্ছতার প্রশ্নে কঠোর অবস্থানে নাছির
bd-pratidin

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) শিক্ষা বিভাগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। নন-এমপিওভুক্ত এমপিও করতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া এবং এমপিওভুক্তদের নিয়মতান্ত্রিক স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বদলি বা স্ব পদে পদায়নের বিষয়ে কোন ধরনের অনিয়ম না হয় সে জন্য যাছাই-বাছাই কমিটিও গঠন করেছেন মেয়র। 

আর যাচাই-বাছাইয়ের পর এক মাসের মধ্যে বদলি কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান তিনি। এ নিয়ে যাতে কোন ধরণের প্রশ্ন উঠতে না পারে সেজন্য গঠিত ‘যাচাই-বাছাই কমিটি’র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এ কমিটি বদলির ব্যাপারে প্রাথমিক তালিকাভুক্ত এমপিও শিক্ষকদের অন্তর্ভূক্তিকরণ বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত বিচার-বিশ্লেষণ করবে। 

সোমবার চসিক সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

জানা যায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) পরিচালিত স্কুল-কলেজের এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদেরকে স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বদলির ব্যাপারে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের পাশাপাশি অপর সদস্যরা হলেন সদস্য সচিব চসিক প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা নাজিয়া শিরিন, সদস্যরা হলেন কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন, হাসান মুরাদ বিপ্লব ও মোজাহেরুল ইসলাম চৌধুরী। এ কমিটি প্রাথমিক ভাবে তালিকাভুক্ত ৭৪ জন শিক্ষকের বদলি কার্যক্রম যাচাই-বাছাই করবে। এদের মধ্যে ১১জন প্রধান শিক্ষক এবং ৬৩ জন সহকারি শিক্ষক রয়েছেন।  

চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আজম নাছির উদ্দিন বলেন, প্রতি বছর আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ভর্তুকি দিয়ে চালাতে হচ্ছে। গত অর্থ বছরে শিক্ষা খাতে প্রায় ৪৩ কোটি সাড়ে ৭৭ লাখ ভর্তুকি দিতে হয়েছে। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নগরবাসীর শিক্ষা সেবা আমাদেরকে চালিয়ে যেতে হচ্ছে। নগরে যে পরিমাণ শিক্ষার্থীর চাপ রয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা না করলে কি অবস্থা হতো তা চিন্তাও করা যায় না। 

তিনি বলেন, আমাদেরকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও চালাতে হবে আবার ভর্তুকিও কমানোর যথাসাধ্য উদ্যোগ নিতে হবে। এ লক্ষ্যে সকল এমপিও বিহীন শিক্ষকদেরকে এমপিও ভুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ শিক্ষাখাতে আরো কিভাবে উন্নয়ন ও গতিশীল করা যায় সে বিষয়েও মনিটরিং করা হচ্ছে। 

তিনি আরো বলেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই কমিটি এমপিও শিক্ষকদের প্রাথমিক তালিকাভুক্তি বিচার-বিশ্লেষন করবে। এতে কোন ধরণের তথ্য-উপাত্তগত ক্রটি বা অসামঞ্জস্যতা পরিলক্ষিত হলে সে ক্ষেত্রে প্রাথমিক তালিকাটি পুনঃমূল্যায়ন করে নতুন তালিকা তৈরি করা হবে। এতে কোন ধরণের প্রশ্ন না উঠে সে জন্য কঠোর নির্দেশনা রয়েছে এবং সরাসরি দেখাশুনা করছি। তবে কোনো অনিয়ম হলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেব।

চসিক শিক্ষা বিভাগ ও শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির উদ্যোগ নেয়ায় একাধিক শিক্ষক খুশি হলেও একটি চক্র এ উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে কৌশলী ভূমিকা পালন করছেন। আবার অনেকেই শিক্ষা বিভাগের চিহ্নিত কয়েকজন কর্মকর্তা ও চিহ্নিত শিক্ষকদের সহযোগিতায় তালিকা থেকে কৌশলে নাম বাদ দেয়ার চেষ্টাও করছেন। এতে পৃথক যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করায় একটু নড়েচড়ে উঠেছে সেই কর্মকর্তা-শিক্ষকরা। তবে এমপিওভুক্ত তালিকায় চসিকের শিক্ষা বিভাগের সেই কর্মকর্তার নামসহ ৫ শিক্ষকের নাম প্রাথমিক তালিকায় নেই বলেও গুঞ্জন রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও চসিকে। যাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগও রয়েছে। শিক্ষকদের বদলি ঠেকাতে নানা অজুহাতে নাম বাদ দেয়ার জন্য শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের কৌশলে স্বর্ণসহ বিভিন্ন উপহারও দেয়া হয়েছে। এমন অবস্থায় মেয়র সরাসরি দায়িত্ব নেয়ায় নড়েচড়ে উঠেছে চসিকের শিক্ষা বিভাগ।

বিডিপ্রতিদিন/ ই-জাহান

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow