Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ২১:৪৭ অনলাইন ভার্সন
চসিকের কলেজ ও স্কুলের ৯০ শিক্ষক-কর্মচারির বদলি
সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম
চসিকের কলেজ ও স্কুলের ৯০ শিক্ষক-কর্মচারির বদলি
bd-pratidin

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) শিক্ষা বিভাগে শৃংখলা ফিরে আনতে কলেজ ও স্কুলের অধ্যক্ষ-প্রধান শিক্ষকসহ ৯০ জন শিক্ষক ও কর্মচারিদের এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আগামী ২৮ এপ্রিলের মধ্যে যোগদানের জন্য আদেশ জারি করেছে চসিক। দীর্ঘ বছর পর প্রথম বুধবার চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত এক আদেশে বদলীর অাদেশ করা হয়েছে। এ আদেশে বির্তকিত প্রধান শিক্ষক, নারী কেলেংকারি, শৃংখলা ভঙ্গ, শিক্ষার্থীদের মারধর, ক্লাসে ফেসবুক ব্যবহার, অভিভাবকদের সাথে দুর্ব্যবহার, টাকা আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এমন অনেক শিক্ষকও রয়েছে। এর আগে শিক্ষা বিভাগকে অনিয়মের উর্ধ্বে রেখে কাজ করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের নির্দেশনায় এবং ১৬ এপ্রিল শিক্ষা স্ট্যান্ডিং কমিটির সভার আলোকে একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে।

চসিক ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, কলেজ ও স্কুলের এ বদলির আদেশ দেয়া হলেও বির্তকিত শিক্ষকদের কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও আতংকের মধ্যে রয়েছে। অতীতের মতো আবারে কোন ধরণের অনিয়ম, নারী কেলেংকারির মতো ঘটনার সাথে জড়িত হচ্ছে কিনা সেই প্রশ্ন এখন সকলের মুখে মুখে। তবে বির্তকিত শিক্ষকদের কঠোর নজরদারি ও নানাবিধ অনিয়ম দিয়ে পৃথক কমিটিও করা হয়েছে। এসব বিষয়ে কঠোর নজরদারিও করছেন মেয়র আজম নাছির উদ্দিন। তবে চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা নাজিয়া শিরিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

জানা যায়, মাধ্যমিকে নব্বই শতাংশ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আর উচ্চ মাধ্যমিকে শতভাগ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দায়িত্ব পালন করছেন, কুয়াইশ বুড়িশ্চর শেখ মোহাম্মদ কলেজ চলছে একজন কম্পিউটারে ডিপ্লোমাধারী শিক্ষককে অধ্যক্ষ নিয়োগ দিয়ে। রাজনৈতিক চাপে অধ্যক্ষ নিয়োগ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া কাপাসগোলা স্কুল ও মহিলা কলেজের মধ্যে দেখা দিয়েছে শিক্ষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ। রয়েছে জামায়াত কানেকশন শিক্ষকও। এতে স্কুলের মধ্যে সিন্ডিকেট তৈরি করে গড়ে তুলছে নানা অনিয়ম। সেই সিন্ডিকেটের হাত শক্তিশালী করতে দেয়া হচ্ছে নানাবিধ মিথ্যা তথ্যও।
চসিক সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন সিটি মেয়রের দায়িত্ব নেয়ার পর বছরে কোটি কোটি টাকা ভর্তুকির কথা চিন্তা করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাবার উদ্যোগ নেন। ব্যাপক নৈরাজ্য ও অনিয়ম দূর করার লক্ষ্যে তদন্ত ও যাচাই-বাছাই করতে চট্টগ্রামের একটি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদককে ২০১৭ সালের গত ১৯ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব প্রদান করেন মেয়র আজম নাছির। এরপর দু’মাসের মাথায় ৬০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর মেয়র বরাবরে একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এতে যেসব শিক্ষক/শিক্ষিকা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী নানা অনিয়মের সাথে জড়িত তাদের শো-কজ দেওয়ার সুপারিশ করেন। শুধু তাই নয়, কারণ দর্শানোর নোটিশগুলো লিখে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে জমাও দেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে দীর্ঘদিন কালক্ষেপণ করে পরবর্তীতে সচিবের দপ্তরে পাঠিয়ে দেন। গত সপ্তাহে এসব কাগজপত্র শিক্ষা বিভাগে পাঠালে তা আবার যাচাই-বাছাই করছেন প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা।

বিডি-প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow