Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২৬ মে, ২০১৮ ২০:৩২ অনলাইন ভার্সন
ট্রেন যাত্রা: ঈদে ভোগান্তি কমাবে পূর্বাঞ্চলের ৯০ বগি
সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম:
ট্রেন যাত্রা: ঈদে ভোগান্তি কমাবে পূর্বাঞ্চলের ৯০ বগি
প্রতীকী ছবি

এবারের ঈদে বাড়তি যাত্রীসেবার জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। বিভিন্ন ট্রেনের যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে ৯০টি বগি সংযোজনের কাজ শুরু হয়েছে। এসব কোচ ঈদ স্পেশাল ট্রেন সার্ভিস হিসেবে বাড়তি যাত্রী পরিবহন করবে। এতে কমবে ভোগান্তি ; স্বস্তিতে ঈদে বাড়ি ফিরতে পারবেন অতিরিক্ত যাত্রীরা। চট্টগ্রামের প্রধান কারখানা পাহাড়তলী থেকে মেরামত শেষে ৯০টি কোচ (বগি) রেলের পূর্বাঞ্চলে যুক্ত হচ্ছে। তবে জনবল সংকটের মধ্যেও যাত্রীদের ভোগান্তি ঠেকাতে ইতিমধ্যে কারখানা থেকে ৪২টির মতো বগি বের হয়েছে। বাকিগুলোর মেরামত শেষে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ১০-১২টি করে বগি বের হবে বলে জানান পূর্বাঞ্চলের পাহাড়তলী ওয়ার্কশপ তত্বাবধায়ক ফকির মো. মহিউদ্দিন।

তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, প্রতি বছর ঈদের যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে রেল প্রশাসন দ্রুততার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতি ঈদে বাড়ি ফেরা বা ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে রেলওয়ের দুই অঞ্চলে বাড়তি বগি বা কোচের ব্যবস্থা করা হয়। এবার পূর্বাঞ্চলে লক্ষ্যমাত্রা ৭৫টি বগি বিভিন্ন ট্রেনে সংযোজনের কথা থাকলেও ৯০টি কোচ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে অনেক বগি বের হয়েছে। তাছাড়া ওয়ার্কশপে লোকবল সংকটের মধ্যেও অর্ধেক জনবল দিয়ে দ্বিগুণ কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ওয়ার্কশপের এক কর্মচারী বলেন, প্রয়োজনীয় জনবল না থাকা সত্ত্বেও সীমিত যন্ত্রপাতি দিয়ে দিনরাত পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে আমরা কাজ করছি। করা হচ্ছে বগি মেরামত এবং রঙ করে সেগুলোকে চলাচলের উপযোগী করে তোলার কাজ। তবে এ কারখানায় অর্ধেকের বেশি জনবল সংকটের কারণে শ্রমিকদের ওপর বেশি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্য কর্মকর্তা (সিসিএম) সরদার শাহাদাত আলী বলেন, বগি স্বল্পতার কারণে টিকেটের পরিমাণও তুলনামূলক কম। এ অবস্থায় প্রয়োজনীয় বগি পাওয়া গেলে ঈদের ঘরমুখো যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকটা কমিয়ে আনা যেতো। তিনি বলেন, পূর্বাঞ্চলে এবারের ঈদ যাত্রার জন্য প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনে অতিরিক্ত বগি সংযোজনের পাশাপাশি চট্টগ্রাম চাঁদপুর রুটে এবং ঈদের দিন শোলাকিয়ায় একাধিক বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে যাত্রীদের ট্রেন ভ্রমণ নিশ্চিত করণে রেলপথ মন্ত্রী, সচিব ও ডিজিসহ উর্ধতন কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত মনিটরিং করছেন বলেও জানান তিনি।

রেলওয়ে ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক জনবল এবং সীমিত যন্ত্রপাতি নিয়ে ঈদের আগে অতিরিক্ত বগির যোগান দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী  রেলওয়ে ওয়ার্কশপ। জনবল সংকটের মধ্যেও সপ্তাহে গড়ে ৮-১০টি বগি বের হয়ে ট্রেনের বহরে যুক্ত হচ্ছে। ঈদের আগে ৯০টি বগি বের করার টার্গেট হয়েছে রেলওয়ে প্রশাসনের। এর আগের বছর মোট ৮৬টি বগি বের হয়েছিল। প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেন ১৬ থেকে ১৮টি এবং সাধারণ ট্রেন ১২ থেকে ১৪টি বগি নিয়ে চলাচল করার কথা থাকলেও বগি সংকটের কারণে অধিকাংশ সময়ে তা সম্ভব হয়ে ওঠে না। ফলে প্রতিটি ট্রেনে ৩ থেকে ৫টি পর্যন্ত কম বগি থাকে। আর ঈদের সময় যাত্রী চাপ সামাল দিতে প্রতিটি ট্রেনে সংযোজন করতে হয় অতিরিক্ত বগি। ঈদের আগে চালু করা হয় বিশেষ ট্রেনও। আর এসব অতিরিক্ত বগির যোগান দিতে শুরু হয় পুরাতন ভাঙা-চোরা বগি জোড়াতালি দেয়া।

বিডি-প্রতিদিন/ ই-জাহান

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow