Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৭:২৫ অনলাইন ভার্সন
চমেক হাসপাতাল; ৫০০ পিএবিএক্সের মধ্যে ৩৫০টিই নষ্ট
রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম
চমেক হাসপাতাল; ৫০০ পিএবিএক্সের মধ্যে ৩৫০টিই নষ্ট

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ রক্ষায় স্থাপন করা হয় ৫০০ পিএবিএক্স লাইন। কিন্তু এর মধ্যে ৩৫০টি লাইনই বিকল। হাসপাতালের ওয়ার্ডের সঙ্গে অভ্যান্তরীণ যোগাযোগের অন্যতম এই মাধ্যমটি পূর্ণাঙ্গ না থাকায় বিঘ্ন ঘটে সেবা কাজে। প্রয়োজনীয় দ্রুত সেবা থেকে বঞ্চিত হয় রোগীরা।       

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে জাপানের ইলেক্ট্রনিক কোম্পানি ওকেআই ব্র্যান্ডের ১০ এক্স-১২০০ মডেলের একটি ডিজিটাল পিএবিএক্স (টেলিফোন) সংযোগ স্থাপন করে। এতে ৪০টি টিএন্ডটি ও ৪০০টি পিএবিএক্স লাইন ছিল। ১০ বছর মেয়াদী এই ইলেক্ট্রনিক্স উপকরণের মেয়াদ ১৮ বছর। পরে পিএবিএক্স সংযোগটির হার্ডডিস্কটি নষ্ট হওয়ায় ২০১৫ সালে ৪৭ লাখ ৬০ হাজার টাকায় কোরিয়া থেকে আরেকটি নতুন মেশিন স্থাপনের পর আরো ১০০টি যোগ করা হয়। ৫০০ লাইন সংযোগের ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন আধুনিক মেশিনটি দিয়ে বর্তমানে মাত্র ১৫০ লাইন চালু আছে। লাইন ম্যান না থাকায় এ মেশিন থেকে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে পিএবিএক্স লাইন সংযোগ দেওয়া যায়নি।        

চমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম বলেন, ‘পিএবিএক্স লাইন সংযোগে অর্থ ও জনবল দুটিরই সংকট আছে। তবে এ ব্যাপারে আমরা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষ করে লাইনগুলো সচল করা যাবে।’

চমেক হাসপাতালের টেলিফোন ও তথ্য কেন্দ্রের ইনচার্জ আবদুল হক মিয়া বলেন, ‘হাসপাতালের তথ্য বিভাগে মোট পাঁচটি পদ আছে। এর মধ্যে একজন অন্য বিভাগে, একজন অন্ধ মহিলা (প্রতিবন্ধী কোটায় নিয়োগ প্রাপ্ত) কর্মরত আছেন। বাকি দুটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। তবে গত বছরের অক্টোবর মাসে পদ দুটি পূরণ এবং লাইনম্যানের জন্য দুটি পদ সৃজন করে দুইজন নিয়োগ দেওয়ার জন্য পরিচালক বরাবরে আবেদন করেছি। আশা করছি শীঘ্রই দুটি পদ পূরণ হবে এবং লাইনম্যান নিয়োগের ব্যাপারেও একটি সিদ্ধান্ত আসবে।’ 

হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা বলেন, চিকিৎসা সংক্রান্ত সকল কাজ খুব দ্রুত সম্পন্ন করতে টিএন্ডটির বিকল্প নেই। জরুরি ভিত্তিতে রোগীকে এক ওয়ার্ড থেকে অন্য ওয়ার্ডে স্থানান্তর করতে পরস্পরের মধ্যে আলোচনা করা, অন্য ওয়ার্ড থেকে চিকিৎসা উপকরণ আনা, জরুরি প্রয়োজনে অন্য ওয়ার্ড থেকে নার্স-আয়া আনাসহ নানা কাজ হাসপাতালের আন্তঃনেটওয়ার্কের মাধ্যমে করতে হয়। কিন্তু এখন এসব কাজ করতে হচ্ছে মোবাইলে কিংবা সরাসরি গিয়ে। এত চিকিৎসা যেমন বিলম্ব হয়, তেমনি ভোগান্তিও থাকে। 

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন

আপনার মন্তব্য

up-arrow