Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৩ মার্চ, ২০১৯ ১৯:৪৮

চট্টগ্রামে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম

'উপজেলা নির্বাচনে পক্ষপাতমূলক আচরণ করার সুযোগ নেই'

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:

'উপজেলা নির্বাচনে পক্ষপাতমূলক আচরণ করার সুযোগ নেই'

উপজেলা নির্বাচনে পক্ষপাতমূলক আচরণ করার কোন সুযোগ নেই জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) বেগম কবিতা খানম বলেছেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কেউ যাতে কোন প্রভাব বিস্তার করতে না পারে সেজন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কমিশন সবসময় চায় নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হোক। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন কোনভাবে প্রতিহিংসায় রূপান্তরিত না হয় সেদিকে সবাইকে নজর রাখতে হবে। 

আজ বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে বিভাগীয় আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সভায় চট্টগ্রামের তিন পার্বত্য জেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংঘাতের আশঙ্কা করে সেনাবাহিনী মোতায়েনেরও আহ্বান জানান উপস্থিত বিভিন্ন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) বেগম কবিতা খানম বলেন, নির্বাচনে পক্ষপাতমূলক আচরণ করারও কোন সুযোগ নেই। আসন্ন নির্বাচনকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে সবাইকে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। 

নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কবিতা খানম আরো বলেন, নির্বাচনে যাতে কোনো ধরণের প্রলোভন আপনাদের স্পর্শ করতে না পারে সেদিকে সচেতন থাকতে হবে। প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা যাতে কোন ধরণের আইন বহির্ভূত কাজে লিপ্ত না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কোন কর্মকর্তার গাফিলতি, অবহেলা বা দুর্বলতা কমিশন কখনো বিবেচনা করবে না। রাষ্ট্র আপনাদের ওপর যে দায়িত্ব দিয়েছেন সেটি সঠিক ও সৎভাবে পালন করতে হবে। প্রার্থীরা যাতে আপনাদের কাছে অন্য কোনো পরিচয়ে পরিচিত না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কেবল প্রার্থী কিংবা প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীর জন্য নয়। ভোটগ্রহণ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভোটারের নিরাপত্তা, ভোটাধিকার প্রয়োগ, ফলাফল গননা ও ঘোষণাসহ সম্পূর্ণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব। পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ধাপগুলোর নির্বাচনও যাতে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, পক্ষপাতমূলক না হয় সেদিকে সবাইকে নজর রাখতে হবে। নির্বাচনকে ভালভাবে সম্পন্ন করতে সকল দপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সুষ্ঠুভাবে ভোটের লক্ষে নির্বাচনে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এই তিন পার্বত্য জেলায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। কক্সবাজার সদর উপজেলায় ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনী দায়িত্বে থাকবে। ইসি সুষ্ঠু ভোট চাই। তাই অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনছে কমিশন। নানা অসঙ্গতির কারণে ইতিমধ্যে প্রথম ধাপের নির্বাচনে ২৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। সেইসাথে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজন প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের গ্রেফতারও করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন, আগে ও পরের দিন যাতে পর্যটকরা সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করা হবে। নির্বাচনকালীন সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সিলগালা করা হবে। প্রথমধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া ৭৮টি উপজেলায় কোনো অনিয়ম ও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানান ইসি সচিব।

চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শঙ্কর রঞ্জন সাহার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। সভায় চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন উপজেলার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নিজ নিজ এলাকার নির্বাচনী নানা বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন।

বিডি প্রতিদিন/এ মজুমদার


আপনার মন্তব্য