Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ৬ জুন, ২০১৬ ১৭:২২
রেলের বেহাল দশা, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম:
রেলের বেহাল দশা, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ে বৈদ্যুতিক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সমন্বয়হীনতা ও দায়িত্বে অবহেলায় আন্তঃনগর ট্রেনসহ বিভিন্ন ট্রেন যাত্রীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ট্রেনের ব্লুয়ার মটর নষ্ট, ফ্যান নষ্ট, উন্নতমানের গ্যাস সরবরাহ না করায় এসি বগি ঠাণ্ডা না হওয়াসহ নানাবিধ সমস্যার মধ্যেই চলাচল করছে ট্রেনগুলো। ওই বিভাগের কিছু সুবিধাভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারি ঠিকাদারের সাথে আঁতাত করে নিম্নমানের মালামাল সরবরাহের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত বৃস্পতিবারও পাওয়ার কারের ইলেক্ট্রনিক্স চকেট (কোচ নং-৬৫০৪, পাওয়ার কার নং-৬৩০১/৬৩০৩) না থাকায় চট্টগ্রাম থেকে আড়াই ঘন্টা দেরিতে ছেড়েছে সূবর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেন। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার দায়ে এসএসএই আমিনুল ইসলামকে অন্যত্র বদলী (নং ৪৩৪-ই/২১ ইএল, দপ্তরাদেশ) করা হয়েছে। একই স্থানে দেওয়া হয়েছে মালামাল চুরির দায়ে বদলী করা এসএসএই শাহ আলম নামের এক কর্মকর্তাকে। এ বদলীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধান বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী (পূর্ব) আনোয়ার হোসেন।

অভিযোগ রয়েছে, এসএই বিটু চাকমা, লাইন ইলেক্ট্রনিক্স-গ্রেড-২ রফিকুল ইসলামসহ দায়িত্বশীলরা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আঁতাত করে একই জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে চাকুরির সুবাধে ইচ্ছেমতো কাজ করে আসছে। ফলে প্রায় সময় পাওয়ার কারে সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণে ট্রেন দেরিতে যাচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন দপ্তরে লোকবল সংকট থাকলেও অনেকেই কর্মস্থলে আসেন হাজিরা দিতে, আবার অনেকেই সরকার থেকে বেতন নিয়ে কাজ করছেন কর্মকর্তাদের বাসায়।

পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী (সদর) ফারজানা সুলতানা বলেন, পাওয়ার কারের সমস্যার কারণে প্রায় দুই ঘন্টা দেরিতে ছেড়েছে সূবর্ণা ট্রেন। এতে যাত্রীদের কিছুটা তো সমস্যা হয়েছে।

এসব বিষয়ে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে একাধিক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু সেবার মান কমেছে। নিরাপত্তা, টয়লেট সুবিধা আর নির্ধারিত সময়ে যাওয়ার জন্যই অনেকে ট্রেনে যাতায়াত করে। কিন্তু ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ে চলাচল করছে না। অনেক সময় ৫-৬ ঘণ্টাও স্টেশনে এসে বসে থাকতে হয়। এছাড়া টয়লেটেও দ্রুত পানি ফুরিয়ে যায়। ফ্যানগুলো ঠিকমতো চলে না। উচ্চ দামে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।

বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow