Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ৬ জুন, ২০১৬ ১৮:০৭
এসপি'র স্ত্রী হত্যা
ছেলেকে তুলে দিতে বাইরে আসতেন না মিতু
অনলাইন ডেস্ক
ছেলেকে তুলে দিতে বাইরে আসতেন না মিতু

পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের ছেলে মাহিরকে প্রতিদিন স্কুলবাসে তুলে দিতেন কনস্টেবল সাদ্দাম। রবিবার তিনি যাননি ওই বাসায়।

ছেলেকে তুলে দিতে সেদিন রাস্তায় আসেন বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এসেই ঘাতকের ছুরিকাঘাত ও গুলিতে নিহত হন।

প্রশ্ন উঠেছে, ঘটনার দিন কনস্টেবল সাদ্দামের অনুপস্থিতি এবং মিতুর বাসার বাইরে আসার কথা ঘাতকরা আগে থেকে জানলো কিভাবে? কেনই বা সেদিন সাদ্দাম হোসেন ওই বাসায় যাননি?

পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। এতে জঙ্গি গোষ্ঠী জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র বলেছে, মিতুকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তাতে স্পষ্ট যে, ওইদিন মিতুই যে বাচ্চাকে নিয়ে বাইরে আসবে তা ঘাতকরা জানতো। এজন্য তারা প্রস্তুতি নিয়ে আগে থেকে ওৎ পেতে ছিল। তা না হলে, যেখানে মিতু কখনো বাচ্চাকে নিয়ে বাইরে বের হন না, সেখানে হঠাৎ একদিন তিনি বের হলেন আর সে দিনই খুন হলেন! মিতুই যে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে আসবেন এবং বাবুল আক্তার চট্টগ্রামের বাইরে আছেন- এই বিষয়গুলি ঘাতকদের জানালো কে?

পুলিশ সূত্র জানায়, এসপি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার বাসার গেইটে সবসময় একজন কিংবা দুজন কনস্টেবল পাহারায় থাকেন। এ ছাড়া বাবুল ও তার পরিবারের উপর জীবনের হুমকি রয়েছে এটা পুলিশ সদর দপ্তর ও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাই জানতেন। বাবুল ঢাকায় হেডকোয়ার্টারে যোগদান করতে যাওয়ার সময় তার পরিবারকে দেখে রাখার জন্য পাঁচলাইশ থানার ওসি ও তার সহকর্মীদের বলে গিয়েছিলেন। কিন্তু ঘটনার দিন বাবুল আক্তারের বাসার নিচে পুলিশের কোন নিরাপত্তা প্রহরা ছিলো না। এমনকি কনস্টেবল সাদ্দামও সকালে বাসায় আসেননি।

রবিবার স্ত্রী হত্যার খবর পেয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছেই বাবুল আক্তার আহাজারি করতে করতে সহকর্মী পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলছিলেন, ''আমি আপনাদের বলে গিয়েছিলাম আমার পরিবারকে দেখে রাখতে, কেন আপনারা আমার পরিবারকে দেখে রাখেননি?''

কনস্টেবল সাদ্দাম হোসেন বলেন, ''প্রতিদিন স্যারের ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিয়ে আসি। কিন্তু শনিবার সন্ধ্যায় বাসা থেকে পুলিশ লাইনে গিয়ে সেখানেই অবস্থান করি। রবিবার সকালে ম্যাডাম আমাকে ফোন না করায় আমি স্যারের ছেলেকে বাসে তুলে দিতে আসিনি। ''

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেছেন, ''আমরা সবগুলো বিষয় খতিয়ে দেখছি। প্রতিটি বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যে কোন মূল্যে খুনিদের সনাক্ত ও গ্রেফতার করা হবে। ''

বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow