Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৬

প্রকাশ : ১২ জুন, ২০১৬ ১১:৩৯
তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সিআইডিতে হস্তান্তর
মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা
তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সিআইডিতে হস্তান্তর

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ থেকে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রবিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে বার্তা বাহক ফারুক হোসেনের মাধ্যমে সিলগালা খামে তা কুমিল্লা সিআইডি কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। খামটি গ্রহণ করেন সিআইডি কুমিল্লার এএসআই মোশারফ হোসেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফরেনসিক বিভাগ ও ময়নাতদন্তকারী মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা। তবে তনুর বহুল আলোচিত সেই দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে কি রয়েছে এ নিয়ে ডা. কামদা প্রসাদ সাহা মন্তব্য করতে রাজি হননি। রবিবার দুপুর একটার দিকে গণমাধ্যমের সাথে তিনি কথা বলবেন বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে তার প্রথম ময়নাতদন্ত করেন ডা. শারমিন সুলতানা। গত ৩০ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তের জন্য তনুর লাশ জেলার মুরাদনগরের মির্জাপুর গ্রামের কবর থেকে উত্তোলন ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গত ৪ এপ্রিল ২ সপ্তাহের মধ্যেই দেয়া হয় প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন। ওই প্রতিবেদনে তনুকে হত্যা ও ধর্ষণের আলামত না থাকায় দেশব্যাপী তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ফরেনসিক বিভাগ। গত ১৬ মে তনুর কাপড়ে ৩ পুরুষের শুক্রানু পাওয়া যাওয়ার খবর সিআইডি থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর আবারও আলোচনায় উঠে আসে প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন।

প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ডিএনএ প্রতিবেদনের এমন গরমিল তথ্যে ঝুলে যায় দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন। দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের সহায়ক হিসেবে ডিএনএ প্রতিবেদন পেতে ফরেনসিক বিভাগের দফায় দফায় চিঠি চালাচালির পর বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। গত ৫ জুন কুমিল্লার অতিরিক্ত সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জয়নাব বেগম তনুর দাঁত, চুল, কাপড়সহ ৭টি বিষয়ের পুরো ডিএনএ প্রতিবেদনই ফরেনসিক বিভাগে হস্তান্তরের নির্দেশ দিলে গত মঙ্গলবার পুরো ডিএনএ প্রতিবেদন সিআইডি থেকে ফরেনসিক বিভাগে হস্তান্তর করা হয়। এতে গত বৃহস্পতিবার ৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের সভায় ২য় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন চুড়ান্ত করে নেয় ফরেনসিক বিভাগ।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের ৮৪ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো সিআইডির তদন্তে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই। যোগাযোগ করেও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির পরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিমের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

 

বিডি-প্রতিদিন/১২ জুন, ২০১৬/মাহবুব




আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow