Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ১৩ জুন, ২০১৬ ১৩:৩৬
গ্রীনলাইনে নকল স্ক্যানিয়া, চাকা খুলে যায় রাস্তায়
অনলাইন ডেস্ক
গ্রীনলাইনে নকল স্ক্যানিয়া, চাকা খুলে যায় রাস্তায়

দেশের সবচেয়ে বিলাসবহুল বাস সার্ভিসের ঢাকঢোল পেটালেও নজিরবিহীন বেহাল দশায় পতিত হয়েছে গ্রীনলাইন। সুইডেনের অত্যাধুনিক স্ক্যানিয়া বাসের নামে তারা রাস্তায় চালাচ্ছে বাংলাদেশে তৈরি লক্কড়ঝক্কড় বডির বাস। এর ফলে বাসের ইঞ্জিন যখন তখন বিকল হয়ে পড়ে রাস্তায় বিপদজনক ঘটনাও ঘটছে। পাশাপাশি অববরত ধোঁয়া উদগীরণ করে চলছে পরিবেশ দূষণ। কিন্তু বাসের সামনে বড় করে ঠিকই লিখে রাখা হযেছে ‘স্ক্যানিয়া’।

তবে যাত্রীদের সঙ্গে এমন প্রতারণা শুধু দেশের মানুষের সঙ্গে নয়, উন্নত মানের স্ক্যানিয়া গাড়ির কথা বলেই আন্তর্জাতিক আসরগু্লোতে বিদেশি খোলোয়াড় পরিবহনের সুযোগ পায় তারা। আর তাদের লক্কড়ঝক্কড় গাড়িতে নাক কাটা যায় বাংলাদেশের।   খবর বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমের।

যদিও গর্হিত এই কাজের পক্ষে গ্রীনলাইন কর্তাদের সাফাই, স্ক্যানিয়া কোম্পানির অনুমোদন নিয়েই বাংলাদেশে বডি তৈরি করেছেন তারা। তবে ইঞ্জিনটা স্ক্যানিয়ারই আছে। কয়েক কিলোমিটার পর পর ইঞ্জিন বিকল হওয়া ও বিকট শব্দ ছড়ানোর বিষয়টি স্বীকার করে গ্রীনলাইনের জেনারেল ম্যানেজার আবদুস সাত্তারের দাম্ভিক বক্তব্য, আমরা যৌবন হারিয়ে ফেলেছি। তবে আমরাই দেশে স্ক্যানিয়া, ভলভোসহ ভালো স‍ার্ভিস চিনিয়েছি। তার আগে কেউ এটা চিনতো না।
 
কিন্তু দেশের মানুষকে স্ক্যানিয়া চেনানোর মাধ্যমে কি গ্রীনলাইন কর্তৃপক্ষ রাস্তায় লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি নামিয়ে দেওয়ার অধিকার পেয়ে গেছে? সেই গাড়ি বিকল হলে কি যাত্রীদের রাস্তার পাশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখবে? আটকে পড়া যাত্রীদের আর একটি গাড়িতে উঠিয়ে দেওয়া পর সেই গাড়িও কেন রাস্তায় ফের বিকল হবে? শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়িতে কেনো পানিতে শরীর ভিজবে যাত্রীদের?  
 
এসব প্রশ্নের ধারেকাছেও না ঘেঁষে জেনারেল ম্যানেজারের তাচ্ছিল্যভারা উত্তর, সামনে নতুন স্ক্যানিয়া বাস আসছে। আর কোনো পরিবহনের এই বাস নামানোর ক্ষমতাই নেই।
 
কিন্তু বড় বড় কথা যতোই বলুক, স্ক্যানিয়ার নামে ধোলাই খাল স্টাইলে বডি তৈরির আয়োজনে বেশ গুছিয়েই বসেছে গ্রীনলাইন। এমনই একটি কারখানার খোঁজ পাওয়া গেলো কাঁচপুরের কাছে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের অদূরে মদনপুরে বিসিক শিল্পনগরীর উল্টোপাশে। রাখরাখ ঢাকঢাক নীতির কারণেই হয়তো কারখানাটির কোথাও কোনো সাইনবোর্ড বা গ্রীনলাইনের লোগোও রাখা হয়নি। উপরন্তু বিশাল সেই কারখানা এতো উঁচু করে ঘেরা যে, বাইরে থেকে কিছু ঠাহর করারই জো নেই। তবে, এটাই একমাত্র নয়, সাভারের হেমায়েতপুরে আরেকটি কারখানা আছে গ্রীনলাইনের। আয়তনে ওটা এটার চেয়েও বড়।

গ্রীনলাইনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওয়ার্কশপকর্মী ও পরিবহন শ্রমিকদের কাছে জানা গেলো, ৭ থেকে ৮ বছরের পুরনো হয়ে পড়া গ্রীনলাইন বাসগুলো রাস্তায় চলাচলের উপযোগিতা হারিয়েছে। অনেকগুলোর ফিটনেসই নেই। কিন্তু ফিটনেসবিহীন সেই গাড়িগুলোতে নতুন করে রঙ চড়িয়ে টুকটাক মেরামত করে ফের নামানো হচ্ছে রাস্তায়।

বিডি-প্রতিদিন/১৩ জনু, ২০১৬/মাহবুব

 

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow