Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : ১১ জুলাই, ২০১৬ ২২:০৫
আপডেট :
নিখোঁজ বাসার ও শরিফুলের সন্ধানে পুলিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
নিখোঁজ বাসার ও শরিফুলের সন্ধানে পুলিশ

ঢাকার গুলশানে হামলার পর নিখোঁজ যুবকদের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ১০ যুবকের সন্ধান চেয়ে বিভিন্ন থানায় জিডি ও তাদের ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন অভিভাবকরা। ওই ১০ নিখোঁজ যুবকের একজন তানোরের মোহাম্মদ বাসারুজ্জামান ওরফে আবুল বাশার।

অপরদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক রেজাউল করিম সিদ্দিকী খুন হওয়ার পরে বাগমারা উপজেলার শরিফুল নামে এক যুবকের নিখোঁজ থাকার বিষয়টি প্রকাশ পায়। শরিফুল রাবি ইংরেজি বিভাগেরই শিক্ষার্থী। রাজশাহীতে নিখোঁজ বাসার ও শরিফুলের বিষয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন পুলিশ।

পুলিশ ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, বাড়ি ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর জানতে পারা যায় যে, মোহাম্মদ বাসারুজ্জামান ওরফে আবুল বাশার নিখোঁজ আছে। বাসার তানোরের লালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজ উদ্দিনের ছেলে। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া করার পরে বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতো বাসার। বিয়ে করে দুই বছরের বেশি সময় ঢাকার তেজগাঁওয়ে শ্বশুর বাড়িতে থাকতো। গত ৬-৭ মাস আগে শ্বশুর বাড়ি থেকে বাসার নিখোঁজ হন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসারের পরিবারের এক সদস্য জানান, পহেলা জুলাই গুলশানের হোলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলার ঘটনার আগে নিহত ৫ জঙ্গি দীর্ঘদিন নিখোঁজ ছিল। এ ঘটনার পর কোন পরিবারে কেউ নিখোঁজ থাকলে বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলারক্ষকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ জানানো হয়।

এ ঘোষণার প্রেক্ষিতে ৬ থেকে ৭ মাস ধরে নিখোঁজ মোহাম্মদ বাসারুজ্জামানের শ্বশুর ঈদের আগে ঢাকা তেজগাঁও থানা তার সন্ধান চেয়ে জিডি করেন এবং বাড়িতে ফিরে আসার আহ্বান জানান। অভিভাকদের জিডির পর নিখোঁজ ১০ যুবকের ছবি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ পায়। এরপরেই বিষয়টি জানাজানি হয়।

তানোর উপজেলার লালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজ উদ্দীনের ছেলে বাসার দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সেই বড়। সোমবার সকালে বাসারের লালপুর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তার বাবা সিরাজ উদ্দীনকে পাওয়া যায়নি। তিনিও ছেলের খোঁজে ঢাকায় অবস্থান করছেন।

বাসারের মা বানিসা বেগম ওরফে বানু জানান, তার ছেলে বাসার ছোট থেকেই লাজুক প্রকৃতির ছিলো। গ্রামে ছেলেদের সঙ্গে একটু কম মিশতো। তাদের আরো একটি বাড়ি রাজশাহীতে আছে। ভাল পড়াশোনা করার জন্য ছোট থেকেই রাজশাহীতে বড় হয়েছে বাসার।

তিনি আরও জানান, সেখান থেকে এইচএসসি পাশ করে উচ্চ শিক্ষার জন্য গত ১০ বছর আগে ঢাকা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেই থেকে বাসার বাড়িতে খুব কম আসতো। এক পর্যায়ে দুই বছর আগে ঢাকা তেজগাঁওয়ে বিয়ে করে শ্বশুর বাড়িতেই ঘর জামাই থাকতেন। বিয়ের পর গ্রামের বাড়িতে মাত্র এক বার এসেছিলেন। তার এক বছরের একটি মেয়ে আছে। মাঝে মাঝে আগে মোবাইলে কথা বলতেন। গত ৭ মাস আগে বাসার দুই মাসের জন্য অফিসের কাজে মালোয়শিয়া যাচ্ছেন বলে শ্বশুর বাড়ি থেকে বিদায় হন। সেই থেকে তার আর কোন খোঁজ নেই বা কোন ফোনও করেনি।

লালপুর গ্রামে বাসারের প্রতিবেশীরা জানান, বাসার এই গ্রামের ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান। ছোট থেকেই সে শহরের বাড়ি থেকে লেখাপড়া করেছে। গ্রামে খুব কম আসতো। মাঝে মাঝে আসলেও সে গ্রামের সেই রকম মিশতো না এবং কথাও কম বলতেন। এই কারণে গ্রামের অনেক ছেলেরাই তাকে চিনে না।

তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুস সালাম জানান, তেজগাঁও থানায় জিডির পর তার গ্রামের বাড়িতে খোঁজ খবর নেওয়া হয়েছে। বাসার লেখাপড়ার সুবাদে ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে বাড়ির বাইরে শহরে থেকেছেন। গ্রামে খুব কম আসতো। তাই গ্রামের অনেকে তাকে চেনে না। দীর্ঘদিন গ্রামে না আসায় এমন কি নিজের মামাও তার বর্তমান ছবি দেখে চিনতে পারছেন না।     
 
এদিকে, এ বছর রাবির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক রেজাউল করিম সিদ্দিকী খুনের ঘটনার পরে ওই বিভাগেরই শিক্ষার্থী শরিফুল নিখোঁজ থাকার ঘটনাটি ধরা পড়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। সেই সময় ওই নিখোঁজ শিক্ষার্থীর পিতা আবদুল হাকিম ও ভাই আরিফুল ইসলামকে আটকও করে পুলিশ। রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার সরদার তমিজউদ্দীন আহমেদ জানান, শরিফুলকে খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে।
নিখোঁজ শরিফুলের পরিবারের দাবি, পারিবারের সদস্যদের সঙ্গে শরিফুলের কোনো যোগাযোগ নেই।

বিডি-প্রতিদিন/ ১১ জুলাই ১৬/ সালাহ উদ্দীন

 

 

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow