Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : ১৫ জুলাই, ২০১৬ ১৭:৩৪
আপডেট :
কক্সবাজারে ‘গুলিবিদ্ধ লাশ’ উদ্ধার
কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজারে ‘গুলিবিদ্ধ লাশ’ উদ্ধার

কক্সবাজারে মো. ইউনুছ প্রকাশ ইনু (৪৫) নামে এক ব্যক্তির ‘গুলিবিদ্ধ লাশ’ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে জেলা কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে গিয়ে লাশের পরিচয় নিশ্চিত করে স্ত্রী জুনাইদা বেগম। এর আগে দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে লাশটি একদল পুলিশ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে বলে জানান হাসপাতালের ডিউটি অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, লাশটি মর্গে রাখা হয়। পরে স্বজনেরা শনাক্ত করে।  

নিহত ইনু চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা পাগলিরবিল এলাকার মৃত মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে।  তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদকও বলে জানা গেছে।  

তবে স্থানীয়রা জানায়- মো. ইউনুছ ইনু এলাকার একজন চিহ্নিত ডাকাত ও সন্ত্রাসী। ফুলছড়ি গহীন বনে তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠে ‘ইনু বাহিনী। ’ সেই বাহিনীই এলাকার অধিকাংশ অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত। ইনুর বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, মৎস্যঘেরে লুণ্ঠন, বন নিধনসহ নানা অপরাধের অভিযোগে  ডজনাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তবে, নিহতের স্ত্রী জুনাইদা বেগম হাসপাতাল মর্গে লাশের পরিচয় শনাক্ত করতে এসে জানিয়েছে, তার স্বামী কোন অপরাধের সাথে জড়িত নয়। বিভিন্ন সময় হয়রানীমুলক মামলায় তাকে জড়িয়ে অনেক মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২ ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে কোন মতে তাদের সংসার চলছে। এলাকার কিছু দুষ্ট লোকের ইন্ধনে স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে স্ত্রী জুনাইদা দাবী করেন।  

এলাকাবাসী জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে ইনুকে কালো মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় ‘সাদা পোষাকধারী’ একদল লোক। এরপর থেকে ইনুর সন্ধান পায়নি তার পরিবার। পর দিন স্থানীয় এক সংবাদকর্মীর ফেসবুকে ‘পরিচয়বিহীন লাশ’ হিসাবে পোস্ট করা ছবি দেখে স্বজনেরা লাশের পরিচয় শনাক্ত করে হাসপাতালে আসে। তবে, কোথায় কিভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে তার সঠিক তথ্য মেলেনি।  

ধারণা করা হচ্ছে, রামুর ঈদগড় পাহাড়ী এলাকায় নিয়ে তাকে ‘ক্রসফায়ার’ দেয়া হয়েছে। তবে, এ বিষয়ে রামু থানার ওসি মো. আব্দুল মজিদের বক্তব্য জানতে চাইলে তাকে পাওয়া যায়নি।  

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম খান বলেন, ডুলাহাজারা থেকে ইনু নামের এক লোককে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা শুনেছি। ইনুর নামে ডাকাতি, অপহরণ, বন মামলাসহ ডজনেরও বেশী মামলা রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি আর বেশী কিছু জানাতে পারেননি।

পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ বলেন, স্বজনেরা হাসপাতালে এসে লাশের পরিচয় শনাক্ত করেছে। খুনের বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে। রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।  


বিডি প্রতিদিন/১৫ জুলাই ২০১৬/হিমেল-১১

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow